
নিট এফডিআই ৩৯.৩৬% বাড়লেও নতুন বিনিয়োগে ভাটা
পরিসংখ্যানের আড়ালে কি আস্থার সংকট?
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা | ২১ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই নিয়ে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান একদিকে আশাবাদের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সামনে আনছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের নিট এফডিআই ৩৯.৩৬ শতাংশ বেড়ে ১.৭৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১.২৭ বিলিয়ন ডলার। তবে এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে আগে থেকেই বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফা ও আন্তঃকোম্পানি ঋণ থেকে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশে নতুন বিদেশি পুঁজির জোয়ারের লক্ষণ, নাকি বিদ্যমান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে অবস্থান ধরে রাখার প্রতিফলন?
৩৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ভেতরের হিসাব
বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (BIDA) প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফা বা reinvested earnings বেড়েছে ৩১৮.২৫ শতাংশ—১০৩.৭৯ মিলিয়ন ডলার থেকে ৪৩৪.১০ মিলিয়ন ডলারে।
একই সময়ে আন্তঃকোম্পানি ঋণ বা intra-company loans ২৫.৬৮ শতাংশ বেড়ে ৬২১.৯৬ মিলিয়ন ডলার থেকে ৭৮১.৬৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে নতুন ইকুইটি মূলধন, যা নতুন বিদেশি বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, মাত্র ১.৮৪ শতাংশ বেড়ে ৫৪৪.৬৪ মিলিয়ন ডলার থেকে ৫৫৪.৬৪ মিলিয়ন ডলারে উঠেছে।
অর্থাৎ মোট নিট এফডিআইয়ের প্রবৃদ্ধি যতটা চোখে পড়ার মতো, নতুন ইকুইটি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি ততটা নয়।
এখানেই মূল বিশ্লেষণের জায়গা।
নতুন অর্থনীতি তৈরি করতে নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন; শুধু বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ করলেই নতুন শিল্পভিত্তি তৈরি হয় না।
পুরোনো বিনিয়োগের পুনর্বিনিয়োগ কি খারাপ খবর?
একেবারেই নয়।
বিদ্যমান বিদেশি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে অর্জিত মুনাফা দেশে রেখে দিলে সেটিও বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। একইভাবে আন্তঃকোম্পানি ঋণ স্থানীয় কার্যক্রম সম্প্রসারণে অর্থায়ন করতে পারে।
তাই এই প্রবৃদ্ধিকে ‘ভুয়া’ বা ‘কাল্পনিক’ বলা অর্থনৈতিকভাবে সঠিক হবে না।
বরং বলা যায়—২০২৫ সালের এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের বিদ্যমান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততা বজায় থাকার ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে; কিন্তু নতুন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণের ক্ষেত্রে এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী নতুন গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ প্রকল্পের ঘোষণাও ২০২৫ সালে ১৬ শতাংশ কমেছে। ফলে বাংলাদেশের সামনে শুধু অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বৈশ্বিক বিনিয়োগ মন্দার চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: ২০২৬ সালে কী হচ্ছে?
২০২৫ সালের বার্ষিক এফডিআই প্রবৃদ্ধিকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখার সুযোগ থাকলেও ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের তথ্য আরও সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে নিট এফডিআই ৪৪৭.৩ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৭৯৬.৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে নিট প্রবাহ কমেছে প্রায় ৪৩.৮৪ শতাংশ।
এই সময়ে মোট এফডিআই ছিল ১.১০ বিলিয়ন ডলার; কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৬৫৭ মিলিয়ন ডলার প্রত্যাহার বা repatriation করেছেন। ফলে মোট প্রবাহ ও নিট প্রবাহের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
এই তথ্যই দেখিয়ে দেয়, শুধু বার্ষিক প্রবৃদ্ধির একটি সংখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না।
বিনিয়োগ প্রস্তাবের পতনও উদ্বেগের কারণ
বিদেশি ও দেশীয়—উভয় ধরনের বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ আগ্রহ বোঝার ক্ষেত্রে BIDA-তে নিবন্ধিত বিনিয়োগ প্রস্তাব একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সূচক।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পর্যালোচনার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে BIDA-তে ১,০৬৪টি প্রকল্প নিবন্ধিত হয়েছিল, যার প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা।
কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিবন্ধিত প্রকল্পের সংখ্যা কমে ৯৭০টিতে এবং প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ নেমে আসে প্রায় ৬৬ হাজার ৫৭ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের মূল্য প্রায় ৫৮ শতাংশ কমেছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার—বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন মানেই বাস্তবে বিনিয়োগ হয়ে যাওয়া নয়। নিবন্ধনের পর অর্থায়ন, অনুমোদন, জমি, বিদ্যুৎ-গ্যাস, অবকাঠামো, আমদানি ও অন্যান্য প্রক্রিয়া পেরিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হয়।
তবুও প্রস্তাবের এমন বড় পতন বিনিয়োগকারীদের প্রাথমিক আগ্রহ ও আস্থার বিষয়ে সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
সুদের হার: বিনিয়োগের পথে আরেক বাধা
উচ্চ সুদের হারও বাংলাদেশের বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সংশোধন জরুরি। ২০২৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশের নীতি সুদহার ১০ শতাংশ নয়; বাংলাদেশ ব্যাংক ৩০ জুলাই ২০২৬-এ তা ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৯.৫০ শতাংশ করেছে, যা ২ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটি বলেছে, দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বেসরকারি বিনিয়োগের দুর্বলতা ও প্রবৃদ্ধির ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করেই নীতি সুদহার কমানো হয়েছে।
অর্থাৎ, বিনিয়োগকারীদের ঋণের ব্যয় কমানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ব্যাংক ঋণের সুদ, ঋণপ্রাপ্তির শর্ত, খেলাপি ঋণের চাপ, ব্যবসার ঝুঁকি এবং সামগ্রিক আস্থার পরিবেশ—সবকিছু মিলেই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়।
মূল্যস্ফীতিও বিনিয়োগের বড় পরীক্ষা
মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো অর্থনীতির অন্যতম বড় সমস্যা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মে ২০২৬-এর সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, মে মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৪২ শতাংশ। খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই মূল্যচাপ অব্যাহত ছিল।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল, শ্রম, পরিবহন, জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয় বাড়ায়। একই সঙ্গে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদাও দুর্বল হতে পারে।
ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে প্রশ্নটি শুধু ‘বাংলাদেশে কত লাভ করা যাবে’—এমন নয়; বরং ‘এই লাভ কতটা স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য হবে’—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
আস্থার সংকটই কি মূল সমস্যা?
বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আস্থা একটি অদৃশ্য কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী যখন একটি কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি শুধু বর্তমান করহার বা শ্রমমূল্য দেখেন না। তিনি দেখতে চান—
আগামী ৫-১০ বছরে নীতিমালা কতটা স্থিতিশীল থাকবে;
বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া কতটা সহজ হবে;
মুনাফা ও মূলধন দেশে আনা-নেওয়ার প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ;
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ কতটা নির্ভরযোগ্য;
জমি ও অনুমোদন পেতে কত সময় লাগবে;
কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর;
কর প্রশাসন কতটা পূর্বানুমানযোগ্য;
চুক্তি ও সম্পত্তির অধিকার কতটা নিরাপদ;
এবং বিরোধ দেখা দিলে বিচারিক প্রতিকার কতটা দ্রুত পাওয়া যাবে।
অর্থাৎ, এফডিআই মূলত আস্থার বিনিয়োগ।
‘কাগজে প্রবৃদ্ধি’ বনাম ‘মাটিতে বিনিয়োগ’
বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হওয়া উচিত—১.৭৭ বিলিয়ন ডলারের নিট এফডিআইয়ের কত অংশ নতুন উৎপাদনক্ষমতা তৈরি করছে?
কতটি নতুন কারখানা হয়েছে?
কতটি নতুন শিল্প ইউনিট উৎপাদনে গেছে?
কতজন নতুন কর্মসংস্থান পেয়েছে?
কত ডলারের নতুন যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি এসেছে?
কতটি নতুন রপ্তানিমুখী শিল্প তৈরি হয়েছে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এফডিআইয়ের গুণগত মান।
কারণ একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান যদি বাংলাদেশে অর্জিত মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ করে, সেটি অবশ্যই অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। কিন্তু একই সময়ে যদি নতুন বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে প্রবেশ না করে, নতুন কারখানা না হয় এবং নতুন প্রযুক্তি ও বাজার সংযোগ তৈরি না হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে এফডিআইয়ের কাঙ্ক্ষিত বহুগুণ প্রভাব পাওয়া কঠিন।
বাংলাদেশের জন্য করণীয় কী?
বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু ‘বিনিয়োগ সম্মেলন’ বা বিদেশে রোডশো করলেই হবে না। বিনিয়োগকারীর সামনে বাস্তব সুবিধা ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
১. নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা
বিনিয়োগকারী যেন মাঝপথে কর, শুল্ক, বৈদেশিক মুদ্রা বা নিয়ন্ত্রক কাঠামোর বড় পরিবর্তনের মুখে না পড়েন।
২. ওয়ান-স্টপ সার্ভিসকে কার্যকর করা
একটি শিল্প স্থাপনে বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হবে।
৩. জমি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিশ্চয়তা
শিল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে বড় বিনিয়োগ টানা কঠিন।
৪. বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় আস্থা বাড়ানো
মুনাফা প্রত্যাবাসন, আমদানি অর্থায়ন ও বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবস্থা প্রয়োজন।
৫. নতুন বিনিয়োগের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা
শুধু বিদ্যমান কোম্পানির পুনর্বিনিয়োগ নয়—নতুন গ্রিনফিল্ড প্রকল্প, উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প, রপ্তানিমুখী উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৬. বিচার ও চুক্তি বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়ানো
বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে কার্যকর বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারিক প্রতিকার বিনিয়োগ আস্থার অন্যতম ভিত্তি।
বাংলাদেশের নিট এফডিআই ৩৯.৩৬ শতাংশ বেড়ে ১.৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ঘটনা। কিন্তু এই সংখ্যাকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের পূর্ণ বিজয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
কারণ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফা ও আন্তঃকোম্পানি ঋণ; নতুন ইকুইটি মূলধন বেড়েছে মাত্র ১.৮৪ শতাংশ। একই সঙ্গে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে BIDA-তে নিবন্ধিত বিনিয়োগ প্রস্তাবের মূল্য ৫৮ শতাংশ কমেছে এবং ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে নিট এফডিআইও ৪৩.৮৪ শতাংশ কমেছে।
তাই বর্তমান বাস্তবতা একেবারে ‘কালো’ও নয়, আবার ‘চোখধাঁধানো সাফল্য’ও নয়।
বাস্তব চিত্র হলো—বিদ্যমান বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখনো বাংলাদেশে থাকার এবং কিছু ক্ষেত্রে পুনর্বিনিয়োগ করার আগ্রহ দেখাচ্ছেন; কিন্তু নতুন বিনিয়োগকারীদের বড় পরিসরে আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এখনো আস্থা, নীতি-স্থিতিশীলতা, অবকাঠামো, অর্থায়ন ও ব্যবসার পরিবেশের বড় কয়েকটি পরীক্ষা পাস করতে হবে।
পরিসংখ্যান তাই শুধু ঘোষণার বিষয় নয়; এর প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন দেশের মাটিতে নতুন কারখানা দাঁড়াবে, নতুন প্রযুক্তি আসবে, উৎপাদন বাড়বে, রপ্তানি বাড়বে এবং হাজার হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন শুধু ‘এফডিআই বাড়ছে’—এই বার্তা নয়; প্রয়োজন এমন বিনিয়োগ, যা অর্থনীতির উৎপাদনক্ষমতা ও কর্মসংস্থান দুটিই স্থায়ীভাবে বাড়াবে।