রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন
Title :
নামের বিভ্রাটে ১০ মাস ধরে কারাগারে নির্দোষ আলমাছ: পরিচয় নিশ্চিতে হাইকোর্টের তদন্তের নির্দেশ যমুনার চরে ৬ হাজার মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র: জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: এমপি মিষ্টির পদত্যাগে কাঁপছে অপরাধ জগৎ কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন হচ্ছে ডিজিটাল, কমবে পারিবারিক মামলা ও জালিয়াতি ঘণ্টাপ্রতি শ্রম নয়, দক্ষতার বাজারমূল্যেই বাড়ে সফলতা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে কারিগরি দক্ষতার বিকল্প নেই বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই সাংবাদিকতা কি ‘মামার বাড়ির মোয়া’? সরকারি চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন: নিরাপত্তা যাচাই, নাকি রাজনৈতিক পরিচয় অনুসন্ধান? সড়ক-ফুটপাতে হকার বসলেই মালামাল ক্রোক ও মামলা: ডিএসসিসি প্রশাসকের কঠোর হুঁশিয়ারি।

নামের বিভ্রাটে ১০ মাস ধরে কারাগারে নির্দোষ আলমাছ: পরিচয় নিশ্চিতে হাইকোর্টের তদন্তের নির্দেশ

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

নামের বিভ্রাটে ১০ মাস ধরে কারাগারে নির্দোষ আলমাছ: পরিচয় নিশ্চিতে হাইকোর্টের তদন্তের নির্দেশ

​নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তাঃ৪ অক্টোবর ২০২৬। 

​একই নাম এবং বাবার নামে আংশিক মিল থাকার খেসারত হিসেবে ২২ বছর আগের একটি অস্ত্র মামলায় প্রায় ১০ মাস ধরে কারাভোগ করছেন মো. আলমাছ নামের এক ব্যক্তি। প্রকৃত আসামির পরিবর্তে তাকে ভুলবশত গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এমন দাবি করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর, হাইকোর্ট কারাবন্দি ওই ব্যক্তির পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

​মামলার প্রেক্ষাপট ও রায়ের তথ্য

আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০২ সালের ১০ এপ্রিল মিরপুর থানার একটি অস্ত্র মামলায় ২০০৪ সালের ১৯ জুন রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১১। রায়ে মো. আলমাছকে (বাবা: মো. খলিল আহমেদ, গ্রাম: দক্ষিণ বাহ্রা, দোহার, ঢাকা; বর্তমান ঠিকানা: আহমেদনগর, পাইকপাড়া, মিরপুর) ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়।

​তবে ২০২৪ সালের ২০ মার্চ জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে গত বছরের ৫ নভেম্বর পুলিশ যে আলমাছকে গ্রেপ্তার করে, তার বাবার নাম শেখ খলিল এবং গ্রাম সুন্দরীপাড়া, দোহার। গ্রেপ্তারকৃত আলমাছের দাবি, তিনি এই মামলার প্রকৃত আসামি নন।

​বয়সের ব্যাপক অসামঞ্জস্য

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে কারাগারে থাকা ভুক্তভোগী আলমাছের জন্ম ১৯৮৫ সালের ১০ ডিসেম্বর। সেই হিসাবে ২০০২ সালে মামলা দায়েরের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর ৪ মাস। অথচ মামলার এজাহারে প্রকৃত আসামি আলমাছের বয়স উল্লেখ করা হয়েছিল ২৪ বছর। বয়সের এই বিস্তর ফারাক প্রমাণ করে যে, তিনি ২০০৪ সালের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নন।

​আগেও হয়রানির শিকার

নামের এই মিলের কারণে ২০১৮ সালেও তাকে একই মামলায় আটক করা হয়েছিল। তবে আসামির নাম ও ঠিকানায় আংশিক ভুল থাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তখন তাকে জিম্মানামার মাধ্যমে মুক্তি দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কুসুমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যানের দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়েছিল, সাজাপ্রাপ্ত প্রকৃত আলমাস প্রায় ২৫ বছর আগে বাড়িঘর বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেছেন। এছাড়া গ্রেপ্তারের পর গত বছরের ৯ ডিসেম্বর দোহারের ১ নম্বর নয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানও প্রত্যয়নপত্র দিয়ে জানান যে, কারাগারে থাকা আলমাছ প্রকৃত আসামি নন।

​পুলিশের ভাষ্য

পুলিশের প্রতিবেদনে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, দোহারের বাহ্রায় বসবাসের সময় আলমাছের বিরুদ্ধে মামলাটি হয় এবং পরবর্তীতে নদীভাঙনে বাড়িঘর বিলীন হলে তিনি সুন্দরীপাড়া (কুসুমহাটি) গ্রামে বসতি স্থাপন করে আত্মগোপনে থাকেন। পুলিশের দাবি, ওই এলাকায় শেখ খলিল ওরফে খলিল আহমেদ ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ছিলেন না।

​আইনজীবীর বক্তব্য

গত বছরের ২৩ নভেম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে জামিন আবেদন খারিজ হওয়ার পর প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন ভুক্তভোগী। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ, তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আবু সাঈদ ও আতিকুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।

​রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ বলেন, “কোনো মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার ও আদালতে সোপর্দ করার ক্ষেত্রে আসামির নাম-ঠিকানা নিখুঁতভাবে যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। রিট আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এর চরম ব্যত্যয় ঘটেছে। শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় অপরাধ না করেও আলমাছকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আসামির পরিচয় নিশ্চিতে বিচার ও আইনি ব্যবস্থায় দ্রুত ডিজিটালাইজেশন প্রবর্তন জরুরি।“

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট