বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ন
Title :
বাংলাদেশের প্রথম নারী পাইলট রোকসানা: স্বপ্ন, সংগ্রাম ও এক মর্মান্তিক ইতিহাস প্রফেসর কাবেরী গায়েনকে ঘিরে বিতর্ক,অভিযোগ, প্রতিক্রিয়া ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার বক্তব্য ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জয়সওয়াল বিদ্বেষমূলক কথা ছাড়া শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনি বাধা নেই: চিফ প্রসিকিউটর গাজীপুরে ভূমি অফিসে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য: অনিয়ম-অবহেলায় একযোগে বরখাস্ত ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি সেবা আরও কার্যকর করতে ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম পরিচালনা করতে বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়াদের সুবিধার্থে ডিএমপি’র বিশেষ নির্দেশনা ৩০ নভেম্বরের পর অকার্যকর হবে পুরোনো বিআইএন, নতুন নম্বর নেওয়ার নির্দেশ শান্তিরক্ষা মিশনে স্পেশাল প্লাটুন পাঠাতে কমিটি ইসরাইলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত সমরাস্ত্র নেই: মার্কিন জেনারেল আদালত বার্তা বিশেষ প্রতিবেদন  নাইজেরিয়ায় “Barrister” উপাধি নিষিদ্ধ পেশাগত শৃঙ্খলা নাকি আইনগত সংস্কার?

বহুল প্রতীক্ষিত কক্সবাজার-দোহাজারী রেললাইন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৩৬১ বার পড়া হয়েছে

 

বহুল প্রতীক্ষিত কক্সবাজার-দোহাজারী রেললাইন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
কক্সবাজার থেকে
এডভোকেট রাবেয়া হক, আদালত বার্তা  : ১১ নভেম্বর ২০২৩
সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বহুল প্রতীক্ষিত কক্সবাজার-দোহাজারী রেললাইন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে তিনি কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে এই প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এরপর ট্রেনযোগে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার থেকে রামু যাবেন। সেখান থেকে মাতারবাড়ীতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। রেল প্রকল্প ছাড়াও আজ আরও ১৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর ১২ বছর পর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচলের জন্য উদ্বোধন করা হলো সেই প্রকল্প। উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সায়মন সারোয়ার কমল, রেল সচিব হুমায়ুন কবির, প্রকল্প পরিচালক মো. সুবক্তগীন ও রেলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ অন্যরা।
এর আগে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের পাশের অস্থায়ী সভামঞ্চে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর ৫ মিনিট আগে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করেন। এ সময় রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী এরপর সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঞ্চগড় থেকে যেন কক্সবাজারে আসা যায়, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে। একইভাবে রাজশাহী, সুন্দরবন থেকে যেন আসা যায়, সেটিও করতে হবে। কক্সবাজারবাসীকে অনুরোধ করব, তারা যেন এখন আমাদের দেশের অন্য অঞ্চলগুলো ঘুরে দেখে আসে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ট্রান্স-এশিয়ান নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হতে চাই। আমরা আধুনিক রেল স্টেশন বানিয়েছি। আপনারা এটা যত্ন নিয়ে ব্যবহার করবেন। কোনো কিছু নষ্ট করবেন না।’

এর আগে রেলসচিব হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কক্সবাজারের সঙ্গে শুধু ঢাকা নয়, পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গেও এই রেলপথ যুক্ত হবে।’ রেলসচিব আরও বলেন, ‘পরে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরও সংযুক্ত হবে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রমের জন্য এই প্রকল্পের আওতায় ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সরাসরি ঢাকা থেকে ট্রেনে আসা যাবে কক্সবাজারে। এই রেলওয়ে স্টেশন সাজানো হয়েছে আইকনিক ঝিনুকের মতো করে। যাত্রী ও পর্যটকেরা এখানে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এই রুটের সর্বনিম্ন ভাড়া মেইল ট্রেনে ১৮৮ টাকা আর আন্তনগর এসি বার্থে সর্বোচ্চ ভাড়া ১ হাজার ৭২৫ টাকা

এই রেলপথ নির্মাণের আগে কক্সবাজারের সঙ্গে কোনো রেলযোগাযোগ ছিল না। শুরুতে এটি ছিল দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প। এতে মোট ১২৯ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের কথা ছিল। পরে রামু থেকে ঘুমধুম অংশের কাজ স্থগিত করা হয়। এখন চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ছিল ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করার পর ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকায়। সেই হিসাবে কিলোমিটার প্রতি খরচ হচ্ছে প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু কক্সবাজারে স্টেশন নির্মাণেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ২১৫ কোটি টাকা। পুরো প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৩ হাজার ১১৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। বাকি ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে নিজস্ব তহবিল থেকে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট