
বৈধ ভিসা থাকলেই প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয়: দিল্লি হাইকোর্ট
আদালত বার্তা ডেস্ক:৪ অক্টোবর ২০২৬
বৈধ ভিসা থাকলেই কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত হয় না। জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, জনস্বাস্থ্য ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ চাইলে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও যেকোনো বিদেশিকে দেশে প্রবেশে বাধা দিতে পারে। সম্প্রতি এক মামলার পর্যবেক্ষণে এমনটাই জানিয়েছে ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অমিত মহাজনের একক বেঞ্চ তুর্কমেনিস্তানের এক নাগরিকের করা রিট আবেদনের শুনানিতে এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও বাদীর অভিযোগ
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, তুর্কমেনিস্তানের ওই নারী বৈধ ব্যবসায়িক (বিজনেস) ভিসা নিয়ে ভারতে পৌঁছালেও ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে ফেরত পাঠায়। তবে একই সময়ে তার সঙ্গে থাকা স্বামীকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভারতে ঢুকতে বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ লিখিতভাবে জানানো এবং বৈধ ভিসার ভিত্তিতে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই নারী।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
শুনানি শেষে আদালত জানান, ভিসা থাকা মানেই ভারতে প্রবেশের জন্য নিঃশর্ত অনুমতি পাওয়া নয়। কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের এমন কোনো সহজাত বা আইনগতভাবে নিশ্চিত অধিকার নেই। আদালতের মতে—ভিসা ইস্যু করা, প্রবেশের অনুমতি দেওয়া এবং অভিবাসন ছাড়পত্র প্রদান সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অংশ।
সরকার পক্ষের যুক্তি ও তথ্য
আদালতে সরকারের পক্ষের আইনজীবী যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ভিসা পাওয়া এবং দেশে প্রবেশের অনুমতি সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়। ইমিগ্রেশন আইন ও কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ক্ষমতার আওতাধীন এটি।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে আরও জানায়, ওই নারীর বিষয়ে কিছু নেতিবাচক গোয়েন্দা তথ্য ছিল। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থেই তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তার ভ্রমণ ইতিহাস নিয়েও অভিবাসন কর্মকর্তাদের উদ্বেগ ছিল। নথিতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ওই নারী মোট ৪৭ বার ভারতে এসেছিলেন, যার বেশিরভাগ সফরের মেয়াদ ছিল মাত্র এক থেকে তিন দিন। এসব সফরে তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা—উভয় ধরনের ভিসা ব্যবহার করেছিলেন।
অসঙ্গতি ও রায়
আদালতে উপস্থাপিত নথি পর্যালোচনা করে বিচারপতি অমিত মহাজন আরও কয়েকটি অসঙ্গতি তুলে ধরেন। আদেশে উল্লেখ করা হয়:
সার্বিক পরিস্থিতি, উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ ও আইনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে আদালত ওই নারীর আবেদন খারিজ করে দেন। রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনো বিদেশি নাগরিকের অন্য দেশে প্রবেশের আইনগত অধিকার নিরঙ্কুশ নয়।