মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ অপরাহ্ন
Title :
কর ফাঁকি ধরতে এনবিআরের এআই প্রযুক্তি: কড়া নজরে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরা কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার হয়ে সরাসরি চীন: বাংলাদেশের সামনে ভূ-অর্থনীতির নতুন দিগন্ত বৈধ ভিসা থাকলেই প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয়: দিল্লি হাইকোর্ট রিমান্ড শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন নামের বিভ্রাটে ১০ মাস ধরে কারাগারে নির্দোষ আলমাছ: পরিচয় নিশ্চিতে হাইকোর্টের তদন্তের নির্দেশ যমুনার চরে ৬ হাজার মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র: জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: এমপি মিষ্টির পদত্যাগে কাঁপছে অপরাধ জগৎ কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন হচ্ছে ডিজিটাল, কমবে পারিবারিক মামলা ও জালিয়াতি ঘণ্টাপ্রতি শ্রম নয়, দক্ষতার বাজারমূল্যেই বাড়ে সফলতা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে কারিগরি দক্ষতার বিকল্প নেই

মোঘল দরবার থেকে আজকের বৈশাখ খাজনা আদায়ের দিনটি কীভাবে প্রাণের উৎসবে রূপ নিল

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪০৪ বার পড়া হয়েছে

মোঘল দরবার থেকে আজকের বৈশাখ খাজনা আদায়ের দিনটি কীভাবে প্রাণের উৎসবে রূপ নিল

 নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তা : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
আজ যে আমরা বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখকে এত আনন্দ আর রঙে উদযাপন করি, তার শিকড় কিন্তু বেশ বাস্তব—এমনকি একটু হিসাবি ও বলা যায়! ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সম্রাট আকবর-এর সময়েই এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা।

মোঘল আমলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে ট্যাক্স বা খাজনা আদায় ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ইসলামি হিজরি ক্যালেন্ডার চন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় তা কৃষি মৌসুমের সঙ্গে মিলতো না। ফলে কৃষকের ফসল উঠার সময় আর খাজনা দেওয়ার সময়ের মধ্যে গরমিল তৈরি হতো। এই সমস্যার সমাধান করতে সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন, যা সূর্যভিত্তিক এবং কৃষি মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নতুন বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে কৃষকরা খাজনা পরিশোধ করতেন। জমিদাররা সেই দিন হালখাতা খুলতেন—পুরনো হিসাব চুকিয়ে নতুন হিসাব শুরু হতো। আর এই হিসাবের দিনটিই ধীরে ধীরে উৎসবে পরিণত হয়।

হালখাতা: হিসাবের খাতা থেকে সম্পর্কের খাতা

হালখাতা শব্দটা শুনলেই অনেকের মনে পড়ে লাল কাপড়ে মোড়া নতুন খাতা, দোকানের সামনে রঙিন ব্যানার, আর মিষ্টির প্যাকেট। মজার ব্যাপার হলো—এই ঐতিহ্যটা কিন্তু এখনো বেঁচে আছে, বিশেষ করে পুরনো ঢাকায়।

পুরান ঢাকা-এর ব্যবসায়ীরা আজও পহেলা বৈশাখে নতুন খাতা খুলে থাকেন। আগের বছরের বকেয়া হিসাব মিটিয়ে গ্রাহকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়—এসেন, হালখাতা করেন। গ্রাহকদের আপ্যায়ন করা হয় মিষ্টি, শরবত, কখনো কখনো বিরিয়ানি দিয়েও! অনেক দোকানে আবার ছোটখাটো সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা—একেবারে উৎসবের আমেজ।

এটা শুধু হিসাবের বিষয় না—এটা এক ধরনের সামাজিক সম্পর্কের বন্ধন। দোকানদার আর ক্রেতার মধ্যে বিশ্বাস, পরিচিতি আর আন্তরিকতা নতুন করে শুরু করার দিন।

গ্রাম বাংলায় এখনো টিকে আছে ঐতিহ্য

শুধু শহরেই না—গ্রাম বাংলাতেও হালখাতার রেওয়াজ এখনো জীবন্ত। গ্রামের মুদি দোকান, ধানের আড়ত, এমনকি ছোটখাটো ব্যবসায়ীরাও এই দিনটিকে গুরুত্ব দিয়ে পালন করেন। গ্রামে হালখাতা মানেই—

পুরনো দেনা-পাওনার হিসাব মিটানো

নতুন করে ব্যবসা শুরু করার মানসিক প্রস্তুতি

আর সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে আবার ঝালিয়ে নেওয়া

অনেক জায়গায় ছোটখাটো মেলাও বসে, থাকে নাগরদোলা, খেলনা, মিষ্টির দোকান—যা পুরো গ্রামকে একদিনের জন্য হলেও উৎসবমুখর করে তোলে।

হিসাবের বাইরে যে আবেগ

একটা সময় ছিল, যখন পহেলা বৈশাখ মানেই ছিল খাজনা আর হিসাব। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই হিসাবের দিন হয়ে উঠেছে উৎসবের দিন। আজ আর কেউ খাজনা দিতে বৈশাখ পালন করে না, কিন্তু নতুন করে শুরু করার যে ধারণা—সেটা এখনো রয়ে গেছে।

হালখাতা যেন শুধু টাকার হিসাব না, জীবনেরও এক নতুন অধ্যায় খুলে দেয়। মোঘল দরবারে শুরু হওয়া একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আজ হয়ে উঠেছে বাঙালির সবচেয়ে প্রাণের উৎসবগুলোর একটি। সম্রাট আকবর হয়তো ভাবতেও পারেননি—তার নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত একদিন মানুষের হাসি, আনন্দ আর সংস্কৃতির অংশ হয়ে যাবে।

পহেলা বৈশাখ তাই শুধু ক্যালেন্ডারের নতুন দিন না—এটা ইতিহাস, ঐতিহ্য আর মানুষের আন্তরিক সম্পর্কের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট