বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
Title :
যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। অবশেষে বৈধতা পাচ্ছে নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে নির্মিত ঢাকা জেলা পরিষদের ২০ তলা ভবন। রাষ্ট্রের চাকা ঘুরুক, কিন্তু মানুষ যেন তার নিচে না পড়ে ঢাকায় সব বদলে গেলেও নাবিস্কো মোড়ের বিস্কুটের সেই ঘ্রাণটা আজও বদলায়নি তেজগাঁওয়ের শিল্প-ঐতিহ্য, নাগরিক স্মৃতি ও একটি পরিচিত মোড়ের গল্প শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে অনিশ্চিত তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নারী চালক-কন্ডাক্টর দিয়ে চলবেআজ চালু হচ্ছে ‘পিংক বাস’, যেসব রুটে মিলবে সেবা মামলা জট নিরসনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ১২ কার্যদিবসে হাইকোর্টে ৬২ হাজার ৬৩৭ পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি দুদক চেয়ারম্যান হলেন বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার রায় যেকোনো দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা র‍্যাব বিলুপ্ত, পুলিশের অধীনে নতুন বাহিনী এসআরবি চূড়ান্ত অনুমোদন মন্ত্রিসভায়—বদলাবে কাঠামো, থাকবে বিশেষ অভিযান ও তদন্তের ক্ষমতা

যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |আদালত বার্তা ১৯ আগস্ট ২০২৬

​ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে যুদ্ধাবসান-পরবর্তী সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সামরিক উপস্থিতি বা সেনা কমানোর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই অঞ্চলের বড় বড় সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এই নীতিগত মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

​মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’-এর নীতি দপ্তর এই মূল্যায়নের নেতৃত্ব দিচ্ছে। পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বর্তমান যুদ্ধাবস্থাকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কৌশল ও উপস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের জন্য ‘এক প্রজন্মে একবার আসা সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় পুনর্নির্মাণ নাও করা হতে পারে।

​প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ এবং সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগর থেকে সামরিক উপস্থিতি কমানোর তাগিদ দিয়ে আসছেন। সাবেক সিআইএ পরিচালক ও সেন্টকমের সাবেক কমান্ডার ডেভিড পেট্রিয়াস জানান, ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় ঘাঁটিগুলোর দুর্বলতা প্রকাশ পাওয়ায় সেখানে দীর্ঘমেয়াদে বিপুল সেনা মোতায়েন রাখার আগ্রহ কমেছে।

​অন্যদের মতে, বর্তমান সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি কুপারও উপসাগর থেকে মার্কিন সেনাসম্পদ পশ্চিম দিকে সরিয়ে নেওয়ার আলোচনাকে সমর্থন করছেন। সেন্টকমের আরেক সাবেক প্রধান জেনারেল ফ্র্যাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি পরামর্শ দিয়েছেন—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা পেতে উপসাগরীয় উপকূলের ঘাঁটিগুলো ইসরায়েল ও আশপাশের তুলনামূলক নিরাপদ এলাকায় স্থানান্তরিত করা উচিত।

​চলমান যুদ্ধে বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের ড্রোন ও প্যাট্রিয়ট/ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ফলে ভৌগোলিকভাবে ইরানের কাছাকাছি থাকা ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ তুঙ্গে। রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত কারণে উপসাগরীয় উপকূল থেকে পশ্চিম দিকে নিজেদের উপস্থিতি সরাতে শুরু করেছে। গত মার্চে রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ‘প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি’ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সৌদি আরবের ‘তায়েফ বিমানঘাঁটি’-তে মার্কিন বাহিনীকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়।

​পারমাণবিক সংঘাত ও সম্ভাব্য পাল্টা হামলা প্রসঙ্গে ইরানের কড়া বার্তা

​অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা এবং ইরানের পাল্টা জবাবের কৌশল নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা মালেকি এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানান, ওয়াশিংটন যদি পারমাণবিক বা যেকোনো ধরনের অপরিণামদর্শী সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে ইরানও সমমাত্রার বা তার চেয়ে বড় ধরনের বিধ্বংসী জবাব দেবে।

​ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মালেকি বলেন, ট্রাম্প কোনো চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তবে বিশ্বব্যাপী এর ভয়াবহ পরিণতির কথা চিন্তা করে তিনি এমন দুঃসাহস দেখাবেন না বলেই মনে হয়।

​সাক্ষাৎকারে ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে কি না বা দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে কি না, তা সরাসরি নিশ্চিত করেননি মালেকি। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতিপক্ষ যে ধরনের অস্ত্র প্রয়োগ করবে, ইরানও সেই মানদণ্ডেই প্রতিক্রিয়া জানাবে। বিশ্লেষকরা মালেকির এই বক্তব্যকে ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ সক্ষমতা ও সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।

​যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে মালেকি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের অনেক সামরিক সক্ষমতা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ওয়াশিংটন নতুন কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে তেহরানের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন বিকল্প কৌশলে এর জবাব দেওয়া হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট