শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন
Title :
সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অপরিবর্তনীয়, তবে সংস্কারের সুযোগ রয়েছে: তাজুল ইসলাম ৪৫ বছর পলাতক জীবনের পর ধরা পড়়়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যায় দণ্ডিত আসামি সাবেক মেজর মো. মোজাফফর হোসেন ইতিবাচক মনোভাব: ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের চালিকাশক্তি ৮৬% মামলার তদন্ত ঝুলে আছে: ময়নাতদন্ত সংকট, তথ্যঘাটতি ও ঢালাও আসামির জটিলতা বিরোধীদল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জুলাইকে ব্যবহার করতে চায়: মির্জা ফখরুল অবৈধভাবে বসবাসরত প্রবাসীদের সুখবর দিল ইতালি। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় ঐতিহাসিক রায় Pentagon Papers মামলায় যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত আদালত প্রাঙ্গণে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক স্থাপনা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ভিসা না দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ৪ আসামি রিমান্ডে ডিবি কর্মকর্তা নাজমুলসহ ৪ জনকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ।

সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অপরিবর্তনীয়, তবে সংস্কারের সুযোগ রয়েছে: তাজুল ইসলাম

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অপরিবর্তনীয়, তবে সংস্কারের সুযোগ রয়েছে: তাজুল ইসলাম
নিউজ ডেস্ক | আদালত বার্তা
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংসদীয় সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়—তবে রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সংবিধানে এমন কিছু মৌলিক স্তম্ভ রয়েছে, যা ‘Basic Structure Doctrine’ বা মৌলিক কাঠামো তত্ত্বের মাধ্যমে সুরক্ষিত। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ে এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার ফলে সংসদ সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে সংশোধনের ক্ষমতা থাকলেও মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে পারে না।
তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত মামলায় (Bangladesh Italian Marble Works Ltd. vs. Government of Bangladesh) হাইকোর্ট বিভাগ এবং পরবর্তীতে আপিল বিভাগ রায় দেন যে, সংবিধানের মৌলিক বৈশিষ্ট্য—যেমন গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা—ধ্বংস করে এমন কোনো সংশোধনী বৈধ হতে পারে না।
তাজুল ইসলাম বলেন, “শুধুমাত্র সংসদীয় সংশোধনের মাধ্যমে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে গেলে তা ভবিষ্যতে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এতে করে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের বর্তমান কাঠামোর মধ্যে থেকে কেবল ‘কসমেটিক’ বা বাহ্যিক পরিবর্তন সম্ভব হলেও, দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান এভাবে সম্ভব নয়।
সংস্কারের জন্য আলাদা কাঠামোর প্রস্তাব
রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের জন্য তিনি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ বা ‘গণপরিষদ’ গঠনের প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, এ ধরনের একটি পরিষদ সংবিধানের বাইরে থেকে একটি নতুন সাংবিধানিক কাঠামো প্রণয়ন করতে পারে, যা জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৈধতা পাবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণাটি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও স্বীকৃত। দক্ষিণ আফ্রিকা, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের নজির রয়েছে।
গণভোট ও বৈধতার প্রশ্ন
তাজুল ইসলাম দাবি করেন, সাম্প্রতিক গণভোটের মাধ্যমে জনগণ ইতোমধ্যে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে, যা এই প্রক্রিয়াকে নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা দিয়েছে। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের পাশাপাশি ৭ অনুচ্ছেদে জনগণকে ‘রাষ্ট্রক্ষমতার মালিক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায়, গণভোটের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য
তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি ‘সংস্কার পরিষদ’ গঠনের পরিবর্তে বিদ্যমান সংবিধানের আওতায় সংশোধন প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ‘সংস্কার পরিষদ’ শব্দটির প্রতি আপত্তি জানিয়েছে।
সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ও আইনি বিতর্ক
আইন বিশ্লেষকরা মনে করেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব একদিকে যেমন রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করে, অন্যদিকে বড় ধরনের সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি আইনি সীমারেখা তৈরি করে। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘সংস্কার বনাম সংশোধন’—এই বিতর্কটি কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং গভীরভাবে আইনগত ও সাংবিধানিক প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাজুল ইসলাম বলেন, “জুলাইয়ের রক্তাক্ত আন্দোলন কেবল একটি নির্বাচনের জন্য হয়নি; এটি ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবি। সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন একটি সুসংগঠিত ও বৈধ সংস্কার প্রক্রিয়া।”

সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কারের পথ খোঁজা—এটাই এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় আইনগত ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষয়ে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণের আগে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়, সংবিধানের প্রাসঙ্গিক ধারা এবং জনগণের মতামত—সবকিছুর সমন্বিত বিবেচনা প্রয়োজন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews