বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৬ অপরাহ্ন
Title :
জীবনের অমোঘ চক্র: দোলনা থেকে শূন্যতায় ফেরার এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি এআই দিয়ে ভুলেও যে ১১টি কাজ করবেন না প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে গুরুতর ঝুঁকি, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রয়োজন মানবিক বিবেচনা ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রশ্ন করা সাংবাদিকের পেশাগত অধিকার: রাজনৈতিক মতাদর্শ ফৌজদারি অপরাধ নয় বাংলাদেশ কি সত্যিই গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হতে পেরেছে?  রাজনৈতিক বিভাজন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির অন্তরালে সংকট—উত্তরণের পথ কোনটি? ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.): মহানবীর জীবনাদর্শে শান্তি, মানবতা ও ন্যায়ের আহ্বান ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তি: ন্যায়বিচারের সহায়ক নাকি অতিনির্ভরতার ঝুঁকি? কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা যে কারণে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেলেন ১০ আসামি নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে প্রমাণের গুরুত্ব ও বিচারিক বিচক্ষণতার প্রশ্ন বাংলাদেশ: রাজনৈতিক বিরোধীদের অনির্দিষ্টকালীন বিচার-পূর্ব আটক বন্ধ করুন – হিউম্যান রায়টস ওয়াচ নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের বদলে ২ জনের ফাঁসি বহাল, ১০ জন খালাস; ৪ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড দ্রুত বিচার নয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াই ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তি

জীবনের অমোঘ চক্র: দোলনা থেকে শূন্যতায় ফেরার এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

জীবনের অমোঘ চক্র: দোলনা থেকে শূন্যতায় ফেরার এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি
​সম্পাদকীয় ডেস্ক, আদালত বার্তা:২৭ আগস্ট ২০২৬। 
​জীবন এক বহমান নদী। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের এই চিরন্তন যাত্রাকে মাত্র কয়েকটি রেখাচিত্রে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। মানবজীবনের এক নিখুঁত মানচিত্র, যা আমাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ের রূঢ় বাস্তবতাকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে ।
​শৈশবের নিশ্চিন্ত আশ্রয় থেকে শিক্ষার আঙিনায়
চিত্রটির শুরু হয় ১০ দিন বয়সী এক সদ্যোজাত শিশুকে দিয়ে, যার পৃথিবী একটি দোলনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এরপর ২ বছর বয়সে টলটলে পায়ে হাঁটা শেখা এবং ৮ বছর বয়সে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে স্কুলের পথে পা বাড়ানো—এগুলো মানুষের জীবনের প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে ওঠার সময়। ১৫ বছর বয়সে টেবিলে বসে নিবিষ্ট মনে পড়াশোনা করার দৃশ্যটি একজন মানুষের ভবিষ্যতের প্রস্তুতি গ্রহণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নির্দেশ করে।
​যৌবনের সংগ্রাম ও কর্মজীবনে প্রবেশ
১৮ এবং ২১ বছর বয়সের চিত্র দুটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ সময়টিতে একজন তরুণ হাতে ব্রিফকেস নিয়ে কর্মজীবনের পথে পা বাড়ান। এটি সেই সময় যখন মানুষ নিজের ক্যারিয়ার গড়তে এবং সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে নিরলস প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়।
​পারিবারিক দায়বদ্ধতা ও জীবনের ভার
২৫ বছর বয়সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মানবজীবনের একটি বড় মোড়। এরপর ৩৭ বছর বয়সে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এক পূর্ণাঙ্গ সংসার। তবে ৪৫ বছর বয়সের চিত্রটি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি বাস্তবসম্মত; যেখানে দেখা যায় একজন মানুষ দুই হাতে বাজারের ভারী ব্যাগ বহন করছেন। এটি কেবল বাজারের ব্যাগ নয়, বরং এটি সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব, কর্তব্য ও প্রত্যাশার এক বিশাল বোঝা, যা একজন মানুষকে তার মধ্যবয়সে নিরন্তর বইতে হয়।
​বার্ধক্যের ক্লান্তি এবং চূড়ান্ত শূন্যতা
জীবনের সব দৌড়ঝাঁপ শেষে ৭২ বছর বয়সে মানুষটি বার্ধক্যে উপনীত হন, যেখানে তার শারীরিক দুর্বলতা স্পষ্ট এবং হাঁটার জন্য একটি লাঠিই তার প্রধান অবলম্বন। আর সবশেষে, চিত্রটির সবচেয়ে গভীর বার্তাটি লুকিয়ে আছে একেবারে শেষ প্রান্তে— ‘০ দিন’ লেখা একটি ফাঁকা ইজিচেয়ার এবং গাছ থেকে ঝরে পড়া পাতা। এটি জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি অর্থাৎ মৃত্যু এবং জাগতিক শূন্যতাকে নির্দেশ করে।
এই চিত্রটি কেবল একটি সাধারণ ছবি নয়; এটি জীবনের একটি অকাট্য দর্শন। আমরা আমাদের কর্মব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন সম্পদ, প্রতিপত্তি আর সফলতার পেছনে ছুটতে ছুটতে অনেক সময় ভুলে যাই যে, আমাদের এই যাত্রার শেষ গন্তব্য একটি ‘শূন্য ইজিচেয়ার’। ‘আদালত বার্তা’র পাঠকদের জন্য এই চিত্রটি একটি গভীর আত্মানুসন্ধানের সুযোগ তৈরি করে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত সীমিত এবং দিনশেষে জাগতিক কোনো সঞ্চয়ই আমাদের সঙ্গে যাবে না। তাই এই সীমিত সময়ে ন্যায়, নীতি ও মানবিকতার চর্চার মাধ্যমেই সমাজ ও পরিবারে ইতিবাচক অবদান রাখাই হওয়া উচিত আমাদের জীবনের মূল পাথেয়।

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট