
তথ্য কমিশন গঠনে যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের আহ্বান
।
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা
তারিখ: ৭ আগস্ট ২০২৬
তথ্য কমিশন গঠনে দলীয় রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে দক্ষ, অভিজ্ঞ, নিরপেক্ষ ও সৎ সাহসসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে তথ্য অধিকার ফোরাম। সংস্থাটি বলেছে, একটি কার্যকর, গণমুখী ও জবাবদিহিমূলক তথ্য কমিশন গঠনের মাধ্যমেই কেবল তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
সম্প্রতি প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য পুনর্গঠিত ৫ সদস্যের বাছাই কমিটির সভাপতি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুবসহ কমিটির সকল সদস্যের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই আহ্বান জানানো হয়। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, তথ্য কমিশনের প্রধান তথ্য কমিশনার এবং দুইজন তথ্য কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা, বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা এবং জনস্বার্থে অঙ্গীকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা আমলাতান্ত্রিক চাপ কাজ না করে, সে বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।
তথ্য অধিকার ফোরাম তাদের বক্তব্যে জানায়, তথ্য অধিকার আইন নাগরিকের বাক ও চিন্তার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি হ্রাসের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত। তবে এই আইনের কার্যকারিতা অনেকাংশেই নির্ভর করে একটি দক্ষ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তথ্য কমিশনের ওপর।
ফোরামের মতে, অতীতে দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনা ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের কারণে তথ্য কমিশনে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রত্যাশিত নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার ঘাটতি ছিল, যার ফলে তথ্য অধিকার আইন কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বর্তমান বাছাই কমিটি একটি পেশাদার ও প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনামের পক্ষে কোর গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, কোস্ট ট্রাস্ট-এর নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস্)-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, বিএনএনআরসি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম বজলুর রহমান, নাগরিক উদ্যোগ-এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, আইসোশ্যাল-এর চেয়ারপারসন অনন্য রায়হান, ব্লাস্ট-এর অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন, মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ (রিইব)-এর উপ-পরিচালক রুহী নাজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের টোব্যাকো ট্যাক্স প্রজেক্টের প্রকল্প ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল যৌথভাবে এই আহ্বান জানান।
ফোরাম আরও উল্লেখ করে, একটি স্বাধীন ও দক্ষ তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা দেশের সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে।