
বিয়ে করে অপরাধ করেননি নাসির-তামিমা: খালাসের রায়, আপিলের ঘোষণা বাদীপক্ষের।
নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তাঃ১০ মে ২০২৬
সংগ্রহীত ছবি
আলোচিত ব্যভিচার মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। আইনগত বিচ্ছেদের আগেই বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলার পর ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নাসির ও তামিমা। খালাসের রায় ঘোষণার পর ভিড়ের মধ্যে দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন তারা।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনজীবীর বক্তব্য
আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জানান, আদালত মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ রায় দিয়েছেন। তার ভাষায়, তামিমা ও তার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেনের তালাক যথাযথভাবে কার্যকর হয়েছিল। এছাড়া অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাস্থল, সময় ও ঘটনার ধরন—এই মৌলিক উপাদানগুলোও প্রমাণিত হয়নি।
তিনি বলেন, “যেখানে ঘটনাস্থলই প্রমাণিত হয়নি, সেখানে অপরাধের প্রশ্নই ওঠে না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আদালত উভয় আসামিকে খালাস দিয়েছেন।”
বাদীপক্ষের অসন্তোষ
অন্যদিকে এ রায়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী রাকিব হোসেন ও তার আইনজীবী ইশরাত হাসান। তারা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
রাকিব হোসেন অভিযোগ করেন, “মামলায় ১০ জন সাক্ষীসহ বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু রায়ে সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচিত হয়নি। আমরা ন্যায়বিচার পাইনি।”
তার আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, “পিবিআইয়ের তদন্তে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল এবং চার্জশিটও দেওয়া হয়েছিল। সাক্ষ্যগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এলেও আদালত তা আমলে নেননি বলে আমাদের মনে হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, তালাক সংক্রান্ত কিছু নথি জাল হওয়ার বিষয়ে সাক্ষ্য ছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও তা সমর্থন করেছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় না নেওয়ায় তারা আইনি প্রতিকার চাইবেন।
মামলার পটভূমি
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাকিব হোসেন ও তামিমা সুলতানার বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগ করা হয়, সেই বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের বিয়ের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে এবং ওই মাসেই আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২২ সালে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং দীর্ঘ শুনানি শেষে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ২০২৫ সালে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর চলতি বছরে আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্য প্রদান করেন আসামিরা।
সম্ভাব্য সাজা ও চূড়ান্ত রায়
অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসির হোসেনের সর্বোচ্চ সাত বছর এবং তামিমা সুলতানার সর্বোচ্চ ২১ বছর কারাদণ্ড হতে পারত। তবে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তাদের নির্দোষ হিসেবে খালাস প্রদান করেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বাদীপক্ষ জানিয়েছে, রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।