বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন
Title :
আইনজীবীর সিল জালিয়াতি করে ভুয়া দলিল: ফেঁসে যাচ্ছেন আসল আইনজীবীরা, ঢাকা বার থেকে টাউট আটক। আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করল বার কাউন্সিল: কার্যকর ২০৩০ সাল থেকে এনএসআই প্রধানের হঠাৎ দিল্লি সফর: প্রত্যর্পণ আইনি প্রক্রিয়ায়, আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ জাতীয় রূপান্তর ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ: নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও সামাজিক সংহতির প্রাসঙ্গিকতা কেরানীগঞ্জে শিক্ষিকা ডালিয়া হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন: রিমান্ড ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির আবেদনসহ ৩ আসামি আদালতে সোপর্দ সনদ সমর্পণ না করে অন্য পেশা ও বাণিজ্যে যুক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে হাইকোর্টে রিট ২০২৭ সালের রমজান, শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা অবকাশ শেষে সুপ্রিম কোর্টে শুরু বিচারিক কার্যক্রম চায়ের আমন্ত্রণে সাংবিধানিক পদ থেকে পদত্যাগ: সাংবিধানিক রক্ষাকবচ কি কেবলই কাগুজে সুরক্ষা? পাঁচ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলছে অফিস-আদালত

সাবধান! আপনার মোবাইলে এই ৩১টি লোন অ্যাপ নেই তো? অবৈধ ঋণ কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি সতর্কবার্তা

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৬৯ বার পড়া হয়েছে

​সাবধান! আপনার মোবাইলে এই ৩১টি লোন অ্যাপ নেই তো? অবৈধ ঋণ কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি সতর্কবার্তা

​নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ ডেস্ক | আদালত বার্তা

প্রকাশের তারিখ: ২৯ আগস্ট, ২০২৬

​মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইনে চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে ঋণ নিচ্ছেন? এখনই সাবধান হোন! অনুমোদনবিহীন ও অবৈধ ঋণ প্রদানকারী বিভিন্ন অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ফাঁদ থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কঠোর সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব অ্যাপ থেকে ঋণ গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ (বিএফআইইউ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই জরুরি নির্দেশনা প্রদান করে।

​যেভাবে পাতা হচ্ছে প্রতারণার ফাঁদ

​বিএফআইইউ জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘সহজ শর্তে’ ও ‘দ্রুততম সময়ে’ ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একশ্রেণির চক্র অনুমোদনবিহীন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঋণ দেওয়ার নামে এসব অ্যাপ মূলত গ্রাহকের স্মার্টফোন থেকে কন্টাক্ট লিস্ট (যোগাযোগের নম্বর), ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য গোপনে হাতিয়ে নেয়।

​পরবর্তীতে ঋণ আদায়ের নামে শুরু হয় ভয়াবহ মানসিক হয়রানি। গ্রহীতাদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, ব্ল্যাকমেইল, ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আদায় করা হয় বিপুল অঙ্কের অর্থ। এতে সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

​এটি মানিলন্ডারিং ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ

​বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যেকোনো ধরনের ঋণ প্রদান একটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান ব্যতীত কোনো মোবাইল অ্যাপ বা ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অবৈধ। ‘মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’ অনুযায়ী, এ ধরনের প্রতারণামূলক ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ একটি গুরুতর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

​বিএফআইইউ-এর শনাক্ত করা অবৈধ অ্যাপের তালিকা

​কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আসা এমন ৩১টি প্রতারক লোন অ্যাপের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলো হলো:

​সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরো, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট এবং টাকানাও।

 

​গ্রাহক সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৪ জরুরি পরামর্শ

​প্রতারণা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য ৪টি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে:

​১. অ্যাপ এড়িয়ে চলুন: কোনো অননুমোদিত মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ গ্রহণ করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।

২. অবৈধ কার্যক্রমে না জড়ানো: প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত অবৈধ ঋণ চক্রের ফাঁদে পা দেবেন না।

৩. তথ্য সুরক্ষায় সতর্কতা: ঋণের প্রলোভনে পড়ে অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত বা স্মার্টফোনের সংবেদনশীল কোনো তথ্যের অ্যাক্সেস (Access) দেবেন না।

৪. অগ্রিম ফি থেকে সাবধান: ঋণ দেওয়ার নামে কোনো চক্র অগ্রিম অর্থ, প্রসেসিং ফি বা নিবন্ধন ফি দাবি করলে নিশ্চিতভাবে ধরে নিতে হবে এটি প্রতারণা। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকুন।

​অভিযোগ জানাবেন কোথায়?

​এ ধরনের অনুমোদনবিহীন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ প্রতারিত হলে বা এ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। ভুক্তভোগীরা সরাসরি বিএফআইইউ-এর ওয়েবসাইট ব্যবহার করে অথবা রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউ পরিচালকের দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট