বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন
Title :
ঢাকায় সব বদলে গেলেও নাবিস্কো মোড়ের বিস্কুটের সেই ঘ্রাণটা আজও বদলায়নি তেজগাঁওয়ের শিল্প-ঐতিহ্য, নাগরিক স্মৃতি ও একটি পরিচিত মোড়ের গল্প শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে অনিশ্চিত তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নারী চালক-কন্ডাক্টর দিয়ে চলবেআজ চালু হচ্ছে ‘পিংক বাস’, যেসব রুটে মিলবে সেবা মামলা জট নিরসনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ১২ কার্যদিবসে হাইকোর্টে ৬২ হাজার ৬৩৭ পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি দুদক চেয়ারম্যান হলেন বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার রায় যেকোনো দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা র‍্যাব বিলুপ্ত, পুলিশের অধীনে নতুন বাহিনী এসআরবি চূড়ান্ত অনুমোদন মন্ত্রিসভায়—বদলাবে কাঠামো, থাকবে বিশেষ অভিযান ও তদন্তের ক্ষমতা যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া আজই শেষ হতে পারে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতে হবে: আলবার্টার প্রিমিয়ার ২০২৭ সালের সম্ভাব্য রমজান ও ঈদুল ফিতরের সময়সূচি প্রকাশ

ঢাকা-ইসলামাবাদ সমঝোতা, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারত ঘিরে পাকিস্তানের নতুন বার্তা,

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
  • ১৮৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-ইসলামাবাদ সমঝোতা, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারত ঘিরে পাকিস্তানের নতুন বার্তা,

নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ৯ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক স্বরাষ্ট্র সহযোগিতা চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা, বিমানবন্দর ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় কাজ করার সুযোগ তৈরি হওয়াকে অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক কেবল প্রশাসনিক সহযোগিতা হিসেবে দেখছেন না; বরং এর পেছনে বৃহত্তর কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে বলেই মনে করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো সরাসরি স্থলসীমান্ত নেই। বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে প্রধানত ভারতের সঙ্গে এবং আংশিকভাবে মিয়ানমারের সঙ্গে। ফলে “সীমান্তে চোরাচালান ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন” শীর্ষক সহযোগিতা বাস্তবে কোন সীমান্তকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক কৌশলগত চাপ তৈরির চেষ্টা করছে। পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তান এবং পূর্বদিকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে ঘিরে ভারতের ওপর নজরদারি বা কৌশলগত চাপ সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতার কারণে সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।
তাদের মতে, “মাদক দমন” বা “চোরাচালান প্রতিরোধ” এর মতো ইস্যুকে সামনে রেখে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও সীমান্ত এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে গোয়েন্দা তৎপরতার ক্ষেত্রও তৈরি করতে পারে। এ কারণেই চুক্তিটিকে অনেকেই দক্ষিণ এশিয়ার নতুন কৌশলগত সমীকরণের অংশ হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য হলো, এটি একটি নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা চুক্তি। সরকারের দাবি, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, মানবপাচার ও মাদক চোরাচালান মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সমঝোতা হয়েছে। এখানে কোনো সামরিক বা গোপন কৌশলগত জোটের প্রশ্ন নেই বলেও সরকার স্পষ্ট করেছে।

তবে আঞ্চলিক বাস্তবতায় ভারত-পাকিস্তান বৈরিতার দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই দিল্লির নজরে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করলেও এমন পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ঢাকা-ইসলামাবাদ স্বরাষ্ট্র সমঝোতা এখন শুধু প্রশাসনিক সহযোগিতার বিষয় নয় বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারতকে ঘিরে পাকিস্তানের নতুন কৌশলগত বার্তা হিসেবেও আলোচিত হচ্ছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট