
রংপুরে গণপতি পরিবার হত্যা: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে করা রিটের শুনানি ৮ সপ্তাহ মুলতবি
নিজস্ব প্রতিবেদক,আদালত বার্তা, ঢাকা:১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য ও আলামত নষ্টের অভিযোগের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে করা রিট মামলার শুনানি আট সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজহার উল্লাহ ভূইয়া ও চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুনানি শেষে রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, “আদালত মৌখিকভাবে বলেছেন, যেহেতু মামলাটি সিআইডি বা ডিবির কাছে গেছে, তাই আদালতও বিষয়টি দেখছেন এবং এটি তাদের নজরদারিতে থাকবে। তদন্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্যই মূলত রিটটির শুনানি আট সপ্তাহের জন্য মুলতবি রাখা হয়েছে।”
রিটের প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ:
জনস্বার্থে গত ৩০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী মোস্তফা কামাল ও শেখ গোলাম কিবরিয়া এ রিটটি দায়ের করেন। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, সিআইডি প্রধান, পিবিআই মহাপরিচালক এবং রংপুর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের পর ২৩ ও ২৭ আগস্ট পুলিশের দেওয়া বক্তব্যে হত্যার স্থান ও ঘটনাক্রম নিয়ে সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। এছাড়া অপরাধস্থল হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও সেখানে পানির পাম্প চালানো হয়। পানির প্রবাহের কারণে রক্ত, ডিএনএ এবং আঙুল ও পায়ের ছাপসহ গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক আলামত নষ্ট বা দূষিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
আলামত নষ্টের কারণে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করে হাইকোর্টের সাবেক বা বর্তমান কোনো বিচারপতির নেতৃত্বে ফরেনসিক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি রুলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থল সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনাও চাওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডের পূর্বসূত্র:
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রংপুর মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাচুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং স্কুলপড়ুয়া ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুষের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ মর্মান্তিক ঘটনার পরদিন ২৩ আগস্ট নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 