
মিরপুরে ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, এলাকা রণক্ষেত্র
নিজস্ব প্রতিবেদক | আদালত বার্তা,ঢাকা, ১ নভেম্বর ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। সংঘর্ষ চলাকালে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশন এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে রূপ নেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে।
আন্দোলন ও সংঘর্ষের সূত্রপাত:
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকরা মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে তা মুখোমুখি অবস্থানে রূপ নেয়।
পাল্টাধাওয়া ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ:
দুপুর গড়াতেই মিরপুরের একাধিক পয়েন্টে বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপক টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ:
সংঘর্ষের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় অবস্থানরত পুলিশের একটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একদল বিক্ষোভকারী হঠাৎ গাড়িটির কাছে গিয়ে পেট্রোল বা দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে আগুন ধরিয়ে দ্রুত সরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো গাড়িটিতে আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে এবং কালো ধোঁয়ায় এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি:
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন
(এপিবিএন) ও যৌথ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ, দাঙ্গা সৃষ্টি এবং বেআইনি সমাবেশের মাধ্যমে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা ও মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।