সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ন
Title :
করদাতাদের সতর্ক করে এনবিআরের চার নির্দেশনা  সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন গণঅভ্যুত্থান: আসামি পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা চেয়ে রিট আবেদন পরীক্ষা নাকি অগ্নিপরীক্ষা—এইচএসসি প্রশ্নপত্রে বিতর্ক বরিশালে সংক্ষিপ্ত বিচারে বাড়ছে জনআস্থা: মাত্র ১ মাসে ১৬৭ মামলায় ৪৫৭ অপরাধীর কারাদণ্ড। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পুনরুত্থান: প্রতিবাদের ভাষায় নতুন জাগরণ ইতিহাসের পৃষ্ঠায় অমর নেতৃত্ব: খামেনি–খোমিনীর উত্তরাধিকার ও জনসমর্থনের প্রতিচ্ছবি এআই-নির্ভর ভুয়া ভিডিও ও ফেক নিউজ রুখতে আইন সংশোধনের দাবি— অ্যাটর্নি জেনারেল ঢাকা বিমানবন্দরের লাগেজ হয়রানির অবসান? থার্ড টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে জাপানি কনসোর্টিয়াম চীন–বাংলাদেশ রেল করিডোর প্রস্তাব: সম্ভাবনা, বাস্তবতা ও প্রভাব 

মনমুগ্ধকর পরিবেশে বুড়িগঙ্গার তীরে রিভারভিউ রেস্টুরেন্ট

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৩
  • ৭৩৩ বার পড়া হয়েছে

মনমুগ্ধকর পরিবেশে বুড়িগঙ্গার তীরে রিভারভিউ রেস্টুরেন্ট
এডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক : আগস্ট ২০,২০২৩।
গত কয়েকদিন আগে গিয়েছিলাম সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। সঙ্গে ছিল পরিবারের সবাই । সকাল থেকে লঞ্চ ঘাটে আড্ডা দিতে দিতে বিকেল হয়ে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল টেরই পেলামনা। এর মধ্যেই দুপুর হয়ে আসলো পেটের ক্ষুধা কিছুটা বেড়ে গেল। আমার আবার দুপুরের খাবার তারা তাড়ি না করলে চলে না। খাবারের খোঁজ করতে লাগলাম। এদিক-ওদিক তাকাতেই চোখে পড়লো বিশাল এক রেস্তোরাঁ।
যা টার্মিনাল থেকেই দেখা গেলো। একদম বুড়িগঙ্গার কোল ঘেঁষে একটা সুউচ্চ ভবনের ছাদে রেস্তোরাঁটি। দূর থেকেই দেখতে কিছু টা বিদেশি আভিজাত্যের ছোঁয়া আর রাত হলে আলো ঝলমল করে। ভাবলাম এখানেই কিছু খাবো। যার অবস্থান ঢাকার সদরঘাটের বিআইডব্লিউটিএ টার্মিনাল ভবন-২ এর ছাদের ওপর। নাম ‘বুড়িগঙ্গা রিভারভিউ রেস্টুরেন্ট’।
টার্মিনাল ভবন-২ এর শেষ গেট দিয়ে বের হতেই চোখে পড়লো প্রবেশপথ। এরপর লিফট দিয়ে উঠে পড়লাম। লিফট থেকে নামার পরেই অনেকটা দুবাইয়ের ফিল। ফ্লোরটির এক কোণে মরুভূমির প্রাণী উটের প্রতিকৃতি। তার সামনে খেজুর গাছের ছবি ও পেছনে চাঁদের অবয়ব। দেখেই ছবি তোলার লোভ সামলাতে না পেরে চলে গেলাম ছবি তুলতে। উটের রশি ধরে দাঁড়িয়ে তুললাম বেশ কয়েকটি ছবি তুললাম পরিবারের ছোটদের কে নিয়ে ।
এরপর এ ফ্লোর থেকে সিঁড়ি ডিঙিয়ে উঠলাম রুফটপে। প্রথমেই চোখে পড়লো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশাল রেস্তোরাঁ। আমরা সেখানে বসে সাদা ভাত বিভিন্ন পদের ভর্তা, মুরগির রোস্ট, খাসি মাংস অর্ডার করলাম সেরে নিলাম দুপুরের খাবার । ভেতর দিয়ে চলে গেলাম খোলা অংশে মানে রুফটপে বাচ্চাদের জন্য আইসক্রিম আর আমাদের জন্য অর্ডার করলাম কফি আর সেখানে গিয়ে বসে সের নিলাম । মূলত রেস্তোরাঁটির মূল সৌন্দর্য এই খোলা অংশে। আমরা যখন রেস্তোরাঁয় পৌঁছেছি; তখন একদম নিরিবিলি ছিল । বাইরের খোলামেলা পরিবেশ থেকে দেখা যাচ্ছে টার্মিনালের সারি সারি লঞ্চ। শোনা যাচ্ছে জাহাজিদের হাঁকাহাঁকি, লঞ্চের সাইরেন, ঢেউয়ের শব্দ, বুড়িগঙ্গায় অসংখ্য ছোট-ছোট নৌকা। মাঝে মাঝে আচমকা শীতল বাতাস এসে প্রাণটা জুড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে। বিকাল গড়িয়ে আস্তে আস্তে ঘনিয়ে এলো সন্ধ্য।সন্ধায় নদীর মধ্যে রং-বেরঙের বাতি জ্বলছে। একদম অন্যরকম একটি দৃশ্য।
সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় লাগছে ছাদের রেলিং। নৌকার পালের মতো সাদা পাল দিয়ে রেলিংটি সাজানো। মনে হচ্ছে বুড়িগঙ্গার তীরে শত শত পাল তোলা নৌকা। রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য অনেক উঁচুতে আছে ছাউনি। আরেকটি সুন্দর বিষয় হচ্ছে সবুজ। রেস্তোরাঁটির সব জায়গা সবুজে ঢাকা। বুড়িগঙ্গার তীরে এমন আয়োজন সত্যিই মনোমুগ্ধকর।
এসব দেখতে দেখতে মনের ক্ষুধা মিটলেও মেটেনি পেটের ক্ষুধা। তাই রেলিংয়ের কর্নারের একটা টেবিলে বসলাম। কিছুক্ষণ বসতেই চলে এলেন ওয়েটার। মেন্যু কার্ড এর মধ্যে অর্ডার করলাম পেস্ট্রি আর জুস । যার দাম মোটামুটি পরিমিতই ছিল। তবে মেন্যু কার্ড দেখে যা মনে হলো, অন্য সব রেস্তোরাঁর মতোই খাবারের দাম।
জুস চুমুক দিতে দিতে খেয়াল করলাম এই ভরসন্ধ্যায় থইথই করছে মানুষ। আর তা যেন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। রেস্তোরাঁ থেকে জানতে পারি, ২৪ হাজার বর্গফুটের এই বিশাল রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে ৬০০ জন মানুষ খাবার খেতে পারবেন। এছাড়া জন্মদিন, বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানও করতে পারবেন। অফিস মিটিং, কনফারেন্স বা পারসোনাল মিটিংয়ের জন্যও আছে দারুণ সব ব্যবস্থা।
রেস্তোরাঁয় দেশি খাবারের পাশাপাশি আছে ইন্ডিয়ান, চাইনিজ, অ্যারাবিয়ান, থাই খাবারসহ দেশি-বিদেশি খাবার। এগুলো রান্নার জন্য আছে দেশি-বিদেশি প্রায় ত্রিশজন রাঁধুনি।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত থাকে রেস্টুরেন্ট। ভোজনরসিকরা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা যে কোনো সময় চলে আসতে পারেন এখানে। আর হ্যাঁ, শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবীদের জন্য রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে ৩৬০ টাকায় দুপুরের খাবার পাওয়া যায়। ৩৬০ টাকার এই প্যাকেজের মধ্যেই খাবার, পানীয়সহ সবকিছু অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews