শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন
Title :
আদালত প্রাঙ্গণে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক স্থাপনা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ভিসা না দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ৪ আসামি রিমান্ডে ডিবি কর্মকর্তা নাজমুলসহ ৪ জনকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ। তালাকের অজুহাতে সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না: হাইকোর্ট বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের বিদায়ী ভাষণে বলেন — “বিচারকের পদ থেকে অবসর নেওয়া যায়, কিন্তু ন্যায়বিচারের আদর্শ থেকে নয়।” শর্টকাটের প্রজন্ম নাকি সংগ্রামের ভবিষ্যৎ? বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ মাসে গড়ে দুই মামলা নিস্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ কর মামলায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে ঝুঁকছে এনবিআর দেনমোহর আদায়ের নীতিমালা তৈরি করতে হাইকোর্টের রুল চট্টগ্রামে দাফনের মাটিটুকুও গিলে খেয়েছে বন্যা পানিতে ভাসছে অবুঝ শিশু থেকে গবাদিপশু নারী মরদেহের পোস্টমর্টেমে নারী ডোম নিয়োগ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

আদালত প্রাঙ্গণে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক স্থাপনা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

আদালত প্রাঙ্গণে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক স্থাপনা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তাঃ ঢাকা, ১৬ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর সিএমএম (Chief Metropolitan Magistrate) কোর্টের ওকালতনামা বুথের সামনে স্থাপিত একটি ট্রান্সমিটার (বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম) ঘিরে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন যেখানে হাজার হাজার আইনজীবী, মক্কেল, জুনিয়র আইনজীবী, পুলিশ সদস্য ও সাধারণ পথচারীর যাতায়াত—সেই ব্যস্ত এলাকাতেই খোলা ও অরক্ষিত অবস্থায় এমন একটি বৈদ্যুতিক স্থাপনা রাখা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, একটি লোহার খাঁচার মতো কাঠামোর ভেতরে ট্রান্সমিটারটি স্থাপন করা হলেও সেটি পর্যাপ্ত সুরক্ষিত নয়। খাঁচার বাইরে “ছোঁয়া নিষেধ” লেখা একটি সতর্কতামূলক স্টিকার লাগানো রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে সেটি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
ঝুঁকির কারণ ও বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার উচ্চ ভোল্টেজ বহন করে এবং সঠিকভাবে ইনসুলেশন, গ্রাউন্ডিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না থাকলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
খোলা বা আংশিক সুরক্ষিত কাঠামোতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে
বর্ষাকালে পানি জমে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়
ভিড়পূর্ণ এলাকায় ধাক্কা বা অসাবধানতাবশত স্পর্শের ঘটনাও ঘটতে পারে
একাধিক আইনজীবী ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির কমিটির সদস্য এডভোকেট  সানাউল্লাহ  জানান, “প্রতিদিন আমরা এই পথ দিয়ে যাই। এত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এভাবে একটি ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্র বসানো সত্যিই উদ্বেগজনক। শুধু একটি স্টিকার দিয়ে দায় এড়ানো যায় না।”
দায়িত্ব কার?
এ ধরনের স্থাপনা সাধারণত বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার আওতাধীন হলেও আদালত প্রাঙ্গণের মতো সংবেদনশীল এলাকায় স্থাপন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সমন্বয় থাকা জরুরি। কিন্তু বাস্তবে সেই সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
করণীয় কী?
বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকদের মতে—
ট্রান্সমিটারটি নিরাপদ দূরত্বে স্থানান্তর করা
উন্নত মানের ইনক্লোজার (পূর্ণ আবদ্ধ সুরক্ষা কাঠামো) ব্যবহার
সতর্কতামূলক ব্যারিকেড ও নিরাপত্তা চিহ্ন বৃদ্ধি
নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন
এ বিষয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—যার দায় এড়ানো কারও পক্ষেই সম্ভব হবে না।
আইনের শাসনের কেন্দ্রবিন্দু আদালত প্রাঙ্গণ—সেখানে নিরাপত্তার এমন অবহেলা শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং উদ্বেগজনকও। একটি দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রয়োজন যথাযথ পদক্ষেপ।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews