
ইনানীতে কাঠের রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: শিশুসহ ৬ পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু, দগ্ধ ৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | আদালত বার্তা
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী সংলগ্ন পাটোয়ারটেক এলাকায় ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত ৬ জন পর্যটক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দগ্ধসহ আরও অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রিসোর্টটির রান্নাঘরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহতদের পরিচয়
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন:
আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসা
অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ও আহত ছয়জন হলেন—মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মো. মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মো. মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, হাসপাতালে আনা আহতদের মধ্যে পাঁচজনই সরাসরি আগুনে দগ্ধ হয়েছেন। তাদের শরীরের আনুমানিক ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধ পাঁচজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে ভর্তি করা হয়েছে। অপর একজন বাঁচার চেষ্টায় ওপর থেকে নিচে পড়ে আহত হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে আগুন
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিসোর্টটির কাঠামো সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি হওয়ায় আগুন অত্যন্ত দ্রুত ও বিধ্বংসী রূপ ধারণ করে। মোট ৯টি কক্ষ বিশিষ্ট এই রিসোর্টে শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের অতিথিরা চেকআউট করেন। অবশিষ্ট ৬টি কক্ষে অবস্থান করছিলেন শিশুসহ ১৬ জন পর্যটক।
শনিবার ভোরের দিকে ৫ থেকে ৬ জন পর্যটক প্রাতঃভ্রমণ ও বিভিন্ন কাজে রিসোর্টের বাইরে অবস্থান করছিলেন। বাকিরা কক্ষে ঘুমন্ত বা অবস্থানরত থাকা অবস্থায় হঠাৎ রান্নাঘরে বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তেই পুরো কাঠের কাঠামোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পর্যটকেরা ভেতরে আটকা পড়েন।
উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতি
ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট সকাল ৮টা থেকে একটানা অগ্নিনির্বাপণ কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বেলা ১১টার দিকে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা সম্ভব হয়।
ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানান, অগ্নিনির্বাপণের পর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে প্রথমে ৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আরও একজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ জনে। ঘটনাস্থলে তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আইনি পর্যবেক্ষণ ও প্রশাসনের বক্তব্য
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান আদালত বার্তাকে বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ ও সিআইডির ফরেনসিক দল কাজ করছে। রিসোর্টের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, কাঠামোগত অনুমোদন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”