
এনএসআই প্রধানের হঠাৎ দিল্লি সফর: প্রত্যর্পণ আইনি প্রক্রিয়ায়, আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তাঃ২৬ অক্টোবর ২০২৬।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সারওয়ার ফরিদের হঠাৎ দিল্লি সফর ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল-এর প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি নিয়মিত ফ্লাইটে সংস্থার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ দিল্লি পৌঁছান তিনি। দুই দেশের পক্ষ থেকে সফরের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না থাকলেও কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, মিয়ানমার সীমান্ত সংকট এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত এবং ২০১৬ সালে সংশোধিত বন্দিবিনিময়/প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এই প্রক্রিয়া অগ্রসর করার চেষ্টা চলছে।
তবে ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যর্পণের বিষয়টি সম্পূর্ণ একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং এটি বর্তমানে বিচারিক পর্যালোচনার অধীন। ফলে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশে চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটিতে সর্বোচ্চ সাজার রায় ঘোষণার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী, দেশে প্রত্যাবর্তনের সাথে সাথেই তাঁকে বিচারিক হেফাজতে নেওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আইনি কাঠামোর মধ্যেই নির্ধারিত হবে।
দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বেসামরিক কারাগারের পরিবর্তে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়বিশিষ্ট কোনো স্থাপনা বা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে বিচারিক হেফাজতে রাখার বিষয়টি আলোচনা বা পর্যালোচনার অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থার বিষয়ে ঢাকা বা দিল্লির সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি।
এদিকে ২৫ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় জানান, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন কিংবা বিচার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা ও আইনি পরিবেশ বিঘ্নিত করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
এনএসআই মহাপরিচালকের এই সফরে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ, জান্তা বাহিনী বনাম বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত এবং রাখাইন রাজ্যের অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের সীমান্তেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে:

এনএসআই প্রধানের এই সফরের সুনির্দিষ্ট কার্যসূচি, ভারতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ডিসেম্বরের মধ্যে কোনো সমঝোতা বা দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে কি না, তা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক আইন, দ্বিপাক্ষিক বন্দিবিনিময় চুক্তি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নির্ভর করছে এই আলোচনার পরবর্তী গতিপথ।