সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ন
Title :
নতুন করে আলোচনায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন এসএনএ চার্জ ইউনিটপ্রতি আধা পয়সা—১,১৬০ মেগাওয়াটে বছরে সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা বাংলাদেশে বন্ধ হচ্ছে যুক্তরাজ্যের অর্থায়নে পরিচালিত জলবায়ু প্রকল্প। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে নিজ সরকারি গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চুকে খাস কামরায় ডেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ রহস্য উন্মোচন ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় চারজনকে হত্যা, লাশের পাশেই গোসল-খেজুর-ইয়াবা; গ্রেপ্তার দুই চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকি: কূটনৈতিক নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা, তৎপর গোয়েন্দারা যানজট নিয়ন্ত্রণে ড্রোন সার্ভিলেন্স, এআই ক্যামেরার পর ঢাকার ট্রাফিকে নতুন প্রযুক্তি গানভরের সঙ্গে এলএনজি চুক্তি: শুরুতে চড়া দাম, দীর্ঘমেয়াদে সস্তার আশ্বাস স্মার্টফোন, AI ও আইনজীবীর নতুন Drafting Assistant Junior Lawyer-এর Drafting দক্ষতায় আসছে নতুন পরিবর্তন নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন, মধ্যরাতে প্রজ্ঞাপন

ধামরাইয়ের ১২৬ বছরের ঐতিহ্য—বণিক বাড়ি, কাঁসা-পিতলের স্বর্ণযুগের জীবন্ত সাক্ষী

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ১৭৪ বার পড়া হয়েছে

ধামরাইয়ের ১২৬ বছরের ঐতিহ্য—বণিক বাড়ি, কাঁসা-পিতলের স্বর্ণযুগের জীবন্ত সাক্ষী
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তাঃ ২ জুলাই ২০২৭
ঢাকার ধামরাই উপজেলার হৃদয়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ১২৬ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ‘বণিক বাড়ি’ আজও অতীতের গৌরবময় ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। কাঁসা-পিতল শিল্পের স্বর্ণযুগ, জমিদারি স্থাপত্যশৈলী এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন এই অট্টালিকাটি।
বাংলা ১৩০৭ সালে নির্মিত ২৭ কক্ষবিশিষ্ট এই প্রাসাদোপম ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বর্গীয় শরৎ চন্দ্র বণিক। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র স্বর্গীয় সর্ব্ব মোহন বণিক এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। বাড়িটির নকশা প্রণয়নের জন্য তৎকালীন কলকাতা থেকে দক্ষ কারিগর আনা হয়েছিল, যা এর স্থাপত্যে এক বিশেষ নান্দনিকতা এনে দিয়েছে।
বণিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী কাঁসা-পিতল শিল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ধারণা করা হয়, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই পরিবার এই শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একসময় ধামরাই ছিল কাঁসা-পিতল শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, আর এই শিল্প থেকেই অর্জিত সম্পদে গড়ে ওঠে বণিক বাড়িসহ আশপাশের বহু ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা।
তবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বাড়িটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকার পর অবশেষে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে বাড়িটির বর্তমান উত্তরসূরি সুকান্ত বণিক ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কারকাজ পরিচালনা করেন। তাঁর এই উদ্যোগে বাড়িটি আবারও ফিরে পায় তার হারানো সৌন্দর্যের অনেকাংশ।
বর্তমানে এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি স্থানীয় ও বাইরের পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় একটি গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর দুর্গাপূজার চার দিন বাড়িটির প্রধান ফটক সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সময় দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীরা এই প্রাচীন স্থাপত্য ঘুরে দেখার সুযোগ পান এবং ইতিহাসের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার অনুভূতি লাভ করেন।
কিভাবে যাবেন: ঢাকা শহর থেকে সড়কপথে সহজেই ধামরাই পৌঁছানো যায়। গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ধামরাইগামী বাসে চড়ে ধামরাই বাজারে নামতে হবে। সেখান থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় করে স্থানীয়ভাবে ‘বণিক বাড়ি’ বললেই যে কেউ পথ দেখিয়ে দেবে। ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ব্যবহার করে ধামরাই পৌঁছানো সবচেয়ে সহজ।
ভ্রমণ টিপস:
দুর্গাপূজার সময় ভ্রমণ করলে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাবেন
স্থানীয়দের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন
ঐতিহাসিক স্থাপনার কোনো ক্ষতি হয় এমন আচরণ থেকে বিরত থাকুন
ঐতিহ্য, ইতিহাস ও শিল্পের অপূর্ব সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা ধামরাইয়ের বণিক বাড়ি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক মূল্যবান সম্পদ—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট