শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন
Title :
ডিজিটালাইজেশন ও আইনজীবী কল্যাণে ঢাকা ট্যাক্সেস বার: ওকালতনামায় কিউআর কোড সংযোজন, চিকিৎসা সুবিধা ও স্থায়ী ঠিকানার স্বপ্নপূরণ পুলিশের ধাওয়ায় তুরাগে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তাহসিফ? দীপের বক্তব্যে নতুন তথ্য, পুরোপুরি আশ্বস্ত নয় পিবিআই একসঙ্গে দুই পেশা: সরাইল থানার ওসির বিরুদ্ধে আইনজীবী সমিতির শোকজ মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান-জিয়াউলদের বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন বার কাউন্সিলে নাকচ শিক্ষক নিয়োগ মামলায় জালিয়াতি: আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে ঢাকা ছাড়তে নিষেধ আপিল বিভাগের বেলা ১১টায় এসে ২টায় চলে যাওয়া চলবে না’: বিচারকদের প্রতি আইনমন্ত্রীর কড়া বার্তা কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড আইনজীবীর ভুলে মক্কেলকে ভোগান্তিতে ফেলা উচিত নয়: হাইকোর্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার: ৫ আগস্টের আলোচিত ভিডিও, নিখোঁজের পর তুরাগে মৃত্যু—রহস্য ঘনীভূত আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার আবেদন: আইনি অধিকার ও আন্তর্জাতিক সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ

পুলিশের ধাওয়ায় তুরাগে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তাহসিফ? দীপের বক্তব্যে নতুন তথ্য, পুরোপুরি আশ্বস্ত নয় পিবিআই

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

পুলিশের ধাওয়ায় তুরাগে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তাহসিফ?
দীপের বক্তব্যে নতুন তথ্য, পুরোপুরি আশ্বস্ত নয় পিবিআই
আদালত বার্তা ডেস্কঃ৩০ অক্টোবর ২০২৬ 
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ধারণা করছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় অবস্থানকালে কোনো একটি দলের ধাওয়ার মুখে পড়ে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দিয়ে থাকতে পারেন।
তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল, কারা তাহসিফ ও তাঁর সঙ্গে থাকা আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে ধাওয়া করেছিল এবং কেন করেছিল—এসব প্রশ্নের এখনো নিশ্চিত উত্তর মেলেনি। দীপের বক্তব্যও পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না তদন্ত সংস্থা। ফলে তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য এখনো অমীমাংসিত।
ঘটনাস্থলে দীপকে নিয়ে পিবিআই
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে তাহসিফের বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি ও তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। সেখানে তদন্তকারীরা বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং দীপের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পিবিআই কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপ জানিয়েছেন—তাহসিফ ও তিনি নদীর তীরে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন লোক তাঁদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং দীপ পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থল দেখানোর সময় দীপের বক্তব্যে আরও নির্দিষ্ট তথ্য উঠে আসে। তাঁর দাবি, ধাওয়া করা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ পুলিশের পোশাক পরা ছিলেন। তবে ওই ব্যক্তিরা সত্যিই পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না, কিংবা তাঁরা কোন দলের সদস্য—তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পিবিআই।
পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানিয়েছেন, দীপ অনেক তথ্য দিয়েছেন; সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, দীপের বক্তব্যে তদন্তকারীরা এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত নন।
২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে লুকিয়েছিলেন দীপ
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তুরাগ নদতীরের বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের কাছাকাছি এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, ধাওয়া শুরু হলে তিনি সীমানা পিলারের পেছনে লুকিয়ে পড়েন। অন্যদিকে তাহসিফ নদীর দিকে চলে যান এবং একপর্যায়ে পানিতে ঝাঁপ দেন।
ঘটনাস্থলটি তুরাগ নদসংলগ্ন এবং তদন্তকারীদের মতে, ওই এলাকা মাদক কেনাবেচার জন্য পরিচিত। তবে তাহসিফ ও দীপ সেখানে কেন গিয়েছিলেন এবং তাঁদের সেখানে অবস্থানের প্রকৃত কারণ কী ছিল—এ বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
উদ্ধার হয়েছে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল
তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল। শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পিবিআই।
প্রথমদিকে পিবিআই জানিয়েছিল, মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। পরে তদন্তসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিবেদনে মোটরসাইকেলটি তাহসিফ ব্যবহার করতেন বলে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানানো হয়। তবে এর মালিকানা কার নামে, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনো যাচাই করছেন।
মোটরসাইকেলটি যে এলাকায় পাওয়া গেছে, সেটি তুরাগ নদ থেকে খুব বেশি দূরে নয়। ফলে মোটরসাইকেলটির অবস্থান এবং তাহসিফের নদীতে পড়ার সম্ভাব্য স্থানের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
নিখোঁজের পর নদ থেকে মরদেহ উদ্ধার
তাহসিফ গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে বের হন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তিনি মাকে ভয়েস মেসেজে বাসায় ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নৌপুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে মরদেহ শনাক্ত করা হয়।
তাহসিফের মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে দীপকে দেখা যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দীপ হিসেবে শনাক্ত করার পর বৃহস্পতিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে হেফাজতে নেয় পিবিআই।
নদীর স্রোতেও খুঁজছেন তদন্তকারীরা যোগসূত্র
তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থান এবং মোটরসাইকেল উদ্ধারের স্থান একই নদপথের সঙ্গে যুক্ত। দুই স্থানের মধ্যে দূরত্ব প্রায় কয়েক কিলোমিটার।
তদন্তকারীরা বলছেন, তুরাগে জোয়ারের সময় স্রোত থাকায় নদীতে পড়ার পর কোনো ব্যক্তির মরদেহ স্রোতের সঙ্গে ভেসে অন্য এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব। ফলে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফ নদীতে পড়ে থাকলে পরবর্তীতে তাঁর মরদেহ রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তাহসিফের বাবার বক্তব্যে ভিন্ন প্রশ্ন
তবে ‘ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ’ দেওয়ার এই সম্ভাব্য ব্যাখ্যা নিয়ে তাহসিফের পরিবার সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে প্রশিক্ষিত সাঁতারু ছিলেন এবং পাইলট হিসেবে সাঁতারের প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। তাই শুধু ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে—এমন ব্যাখ্যা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে তদন্তকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
এখনো স্পষ্ট নয় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি—তাঁদের ধাওয়া করেছিল কারা, তারা সত্যিই পুলিশ সদস্য ছিল কি না, তাহসিফ কেন ওই স্থানে গিয়েছিলেন, নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর ঠিক কী ঘটেছিল এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা ছিল কি না।
পিবিআই বলছে, দীপের বক্তব্যসহ ঘটনাটির অন্যান্য দিক যাচাই করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তাই আপাতত ‘পুলিশের ধাওয়ায় তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন’—এটি তদন্তকারীদের একটি সম্ভাব্য ধারণা ও দীপের বক্তব্য, চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা নয়।
তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে ঘটনাস্থলের আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, মোটরসাইকেলের অবস্থান, দীপের দেওয়া তথ্য এবং ময়নাতদন্তের ফল—সবকিছু মিলিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট