শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
Title :
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট, আইনজীবী সম্প্রদায়ের জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন কক্সবাজারের পর্যটন নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা মেট্রো রেখে মনোরেলে মনোযোগ “ওকালতি পেশার মূলমন্ত্র হলো গুরু শিক্ষা” আইনজীবীর মাথা ফাটানো বিচারককে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার উদ্যোগ ঢাকার ৪১৬ বছরপূর্তি উপলক্ষে  ‘হৃদয়ে ঢাকা’ কর্মসূচিতে ঐতিহ্য ও নাগরিক চেতনার নতুন উদযাপন আইনজীবীর মাথায় পেপার ওয়েট ছুড়ে বিচারিক ক্ষমতা হারালেন সেই বিচারক যে কারণে পদত্যাগ করতে হচ্ছে রাষ্ট্রপতিকে, জানা গেল কারণ এক বছরে ২৫ লাখে মামলা কমানোর চেষ্টা সরকারের: আইনমন্ত্রী আলোচনায় হাসিনার দেশে ফেরা চলছে নানা গুঞ্জন

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট, আইনজীবী সম্প্রদায়ের জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট, আইনজীবী
সম্প্রদায়ের জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন
বিশেষ প্রতিবেদন,আদালত বার্তাঃ ২৪ জুলাই ২০২৬
একটি দেশের আদালত তার জনগণের ন্যায়বিচারের রক্ষাকবচ। এটি অদৃশ্য রুহের মতো, যা সমাজের সকল কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রায় ১৯ বছরের আইন পেশায় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন আইনজীবী (যার মধ্যে প্রায় ১০ বছর সুপ্রিম কোর্টে এবং রাষ্ট্রপক্ষে প্রায় ২ বছর) তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎমুখী প্রস্তাব নিয়ে তিন তার ভেরিফাইড ফেইস বুক পোস্টে যে লেখাটি তুলে ধরেছেন, তা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও মামলাজট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, ভাষাগত বাধা ও প্রশিক্ষণের অভাব এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৪৭ সালে স্বাধীন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সময় ফেডারেল কোর্ট অব পাকিস্তান ছিল সর্বোচ্চ আদালত। পূর্ববাংলায় হাইকোর্ট গঠিত হয়েছিল, কিন্তু বিচারক ও আইনজীবীদের অধিকাংশই ছিলেন অভিজ্ঞতাহীন বা ধার করা। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়—যার দুটি বিভাগ: আপিলেট ডিভিশন ও হাইকোর্ট ডিভিশন।
স্বাধীনতার পর আদালতের ভাষা ছিল ইংরেজি, যা সাধারণ কৃষক-শ্রমিকের কাছে দুর্বোধ্য ছিল। ২০২৩ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে বাংলায় রায় ও আইনি দলিল প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন আইন ১৯৮৭ অনুসারে নিম্ন আদালতে বাংলা ব্যবহার বাধ্যতামূলক, কিন্তু উচ্চ আদালতে এখনও ইংরেজির প্রভাব রয়েছে।
বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তথ্য অনুসারে আইনজীবীর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজারের কাছাকাছি এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে প্রায় ১৭ হাজার সদস্য। আগামী দশকে এ সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আপিলেট ডিভিশনে আইনজীবী প্রায় ৭০০ জনের বেশি হলেও পর্যাপ্ত বেঞ্চের অভাবে মামলাজট তীব্র।
নিম্ন আদালতে দেওয়ানি, ফৌজদারি, অর্থঋণ, ভ্যাট-কাস্টমস, নারী-শিশু ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত আদালত গড়ে উঠেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির (১৯৭২ সালে প্রায় ৭ কোটি থেকে বর্তমানে প্রায় ১৭-২০ কোটি) সঙ্গে তাল মিলিয়ে আদালতের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।
প্রধান সমস্যা:
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের বসার স্থান ও লাউঞ্জের অভাব।
নতুন আইনজীবীদের মধ্যে প্রশিক্ষণের ঘাটতি।
বিচারক-আইনজীবীদের মধ্যে পেশাদারি সম্পর্কের উন্নয়ন প্রয়োজন।
উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার আরও বৃদ্ধি করা।
প্রস্তাবিত সংস্কার
১. আপিলেট ডিভিশনের সম্প্রসারণ: ১২ জন বিচারক দিয়ে অন্তত ৪টি বেঞ্চ গঠন করে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা। সিনিয়র আইনজীবীদের (যেমন শিশির মনির) এই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবকাঠামো উন্নয়ন করা।
২. আইনজীবী সমিতির পুনর্গঠন: সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট আইনজীবী সমিতিকে আলাদা করা। এতে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং মেধাবী আইনজীবীরা আপিলেট ডিভিশনে আগ্রহী হবেন।
৩. নিম্ন আদালতের শক্তিশালীকরণ: জেলা দায়রা জজ আদালত জনসংখ্যা অনুপাতে বাড়ানো (মহানগরে আরও বেশি)। ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালতের বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনালগুলোকে আরও কার্যকর করা।
৪. প্রশিক্ষণ ও ভাষা নীতি: আইনজীবী, বিচারক ও স্টাফদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
৫. অবকাঠামো উন্নয়ন: সুপ্রিম কোর্টে কমপক্ষে ৫টি লাউঞ্জসহ আধুনিক সুবিধা প্রদান এবং আইনজীবীদের বসার জন্য বর্তমানে যে সমস্ত বিল্ডং আছে তা ভেঙে হাইরেজ বিল্ড তৈরি করা।
বিচারক-আইনজীবীদের মধ্যে সুস্থ ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
রাষ্ট্রের আইন এমনভাবে প্রয়োগ করতে হবে যাতে কেউ অপরাধ করে ছাড় না পায়, আবার ন্যায়বিচারও ব্যাহত না হয়। মানবিকতা, প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব করা সম্ভব। সরকার, বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগে এই সংস্কার বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও সুদৃঢ় হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews