
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করছেন এমপি মিষ্টি, প্রত্যাহার পুলিশ কর্মকর্তা
নিউজ ডেক্স আদালত বার্তা
ঢাকা, ১ অক্টোবর ২০২৬
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টিকে সংসদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তাকে দল থেকেও পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দলীয় শীর্ষ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনার পর আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) যেকোনো সময় জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন এই সংসদ সদস্য।
কী ঘটেছিল রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে?
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক নজিরবিহীন তাণ্ডব চালানো হয়। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সেখানে প্রবেশ করে। তারা প্রথমেই দুই নিরাপত্তাকর্মীকে বেঁধে জিম্মি করে ফেলে। এরপর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও নগদ অর্থসহ অন্যান্য মালপত্র লুট করে। লুটপাট শেষে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি আধা-পাকা ভবনসহ পুরো চিকিৎসাকেন্দ্রটি
গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি ও পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর থেকেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নড়েচড়ে বসে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি নিশ্চিত করেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর ও লুটপাটের নেপথ্যে একজন সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ উঠেছে, তা বর্তমানে নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কোনো অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে, তবে আইনের চোখে সেটি মোটেও আমলে নেওয়া হবে না। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রয়েছে।”
এছাড়া, এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাফিলতির বিষয়টিও এড়িয়ে যায়নি সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় পুলিশের এক কর্মকর্তার দায়িত্বে চরম অবহেলা পাওয়া গেছে। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রে এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।