বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন
Title :
ক্ষমতা বদলায়, প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে:  ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্রের রক্ষাকবচ। তথ্য গোপন করে একাধিক রিট: আইনজীবী ও রিটকারীকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা প্রধান বিচারপতির সাথে সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতির বাদানুবাদ: এজলাস ছাড়লেন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট বিদেশ ভ্রমণে বৈদেশিক মুদ্রা খরচের সীমা বেড়ে ১৮ হাজার ডলার দেওয়ানি মামলায় আরজি সংশোধন: আইনি সুযোগ, সীমাবদ্ধতা এবং উচ্চ আদালতের নজির ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে ১০ মিনিট কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের অগ্রিম হোটেল বুকিংয়ের পরামর্শ: উপ-হাইকমিশনের বিশেষ নির্দেশনা বিচারকদের আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৬৪ জেলা ও ৮ মহানগরে আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ ভারতীয় ভিসা নিয়ে হাইকমিশনের জরুরি সতর্কবার্তা ‘গ্যারান্টিযুক্ত ভিসা’ ও ‘দ্রুত প্রসেসিং’-এর নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান

সংবিধানবাদকে পুনরুজ্জীবিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট: প্রধান বিচারপতি

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫১১ বার পড়া হয়েছে

সংবিধানবাদকে পুনরুজ্জীবিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট: প্রধান বিচারপতি

নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তা : ০৪ নভেম্বর, ২০২৫

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, ঐতিহাসিক রায়, অধ্যাদেশ ও নীতিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানবাদকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। 

নেপালের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ মান সিং রাউতের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বিগত ১৫ বছরের ‘সাংবিধানিক বিচ্যুতি’র ফলে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বিচার বিভাগের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। সেগুলো, সংবিধানের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সরকারের আইনিভিত্তিকে সহায়তা প্রদান এবং বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসন পুনরুদ্ধার।

‘বিগত ১৬ মাসের মাননির্ধারক এই ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতের যে কোনো সরকার অনুসরণ করতে পারবে’ বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি ।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানায়, নেপালের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ মান সিং রাউত জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের বিচার বিভাগে গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম প্রত্যক্ষকরণ, অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সফর করছেন। 

নেপালের প্রধান বিচারপতি শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান। পরদিন সকালে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আসেন। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। 

সফরকালে নেপালের প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন, বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে চালু হওয়া  ‘সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইন’ কার্যক্রম সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। 

পরবর্তীতে আপিল বিভাগের ১ নম্বর এজলাসে (প্রধান বিচারপতির এজলাস) অনুষ্ঠিত বিচারকার্য প্রত্যক্ষ করেন।

একইদিন দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পৃথক অনুষ্ঠানে যোগ দেন নেপালের প্রধান বিচারপতি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি কর্মশালায় অংশ নেন।

৩ নভেম্বর নেপালের প্রধান বিচারপতি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে মিডিয়া সংক্রান্ত একটি সভায় অংশ নেন। এতে সুপ্রিম কোর্টের ১০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। 

সভায় বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির রোডম্যাপের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সংস্কার যাত্রায় গণমাধ্যম কি ভূমিকা পালন করেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যাতে নেপালের বিচার বিভাগ সংস্কার কাজে এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়।

সাংবাদিকদের সাথে সভা শেষে আরেকটি সভায় অংশ নেন তিনি। ওই সভায় বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। 

বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে দায়িত্বগ্রহণের পর তিনি বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ অনিশ্চিত থাকা সত্ত্বেও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে তিনি দিনরাত অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, বিগত ১৫ বছরের ‌‘সাংবিধানিক বিচ্যুতির’ ফলে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বিচার বিভাগের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। সেগুলো, সংবিধানের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সরকারের আইনিভিত্তিকে সহায়তা প্রদান, এবং বিচার বিভাগের স্বায়ত্বশাসন পুনরুদ্ধার। 

তিনি উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক রায়, অধ্যাদেশ ও নীতিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানবাদকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। 

তিনি আরও বলেন, বিগত ১৬ মাসের মাননির্ধারক এই ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতের যেকোনো সরকার অনুসরণ করতে পারবে। 

পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগীয় নেতৃত্বে এবং বিভিন্ন দেশের সাথে ‌‘জে-টু-জে কূটনীতি’ শক্তিশালী করার আহ্বান জানান, যাতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

সফর শেষে নেপালের প্রধান বিচারপতি মঙ্গলবার বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট