রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন
Title :
সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলা: রিমান্ডে দিশা আইনজীবী হলেই জনস্বার্থের দোহাই দিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা যায় না: হাইকোর্ট মিরপুরে ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, এলাকা রণক্ষেত্র শুধু নথিপত্র যাচাইয়ের অজুহাতে পুরোনো কর নির্ধারণ পুনরায় খোলার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট ডিজিটালাইজেশন ও আইনজীবী কল্যাণে ঢাকা ট্যাক্সেস বার: ওকালতনামায় কিউআর কোড সংযোজন, চিকিৎসা সুবিধা ও স্থায়ী ঠিকানার স্বপ্নপূরণ পুলিশের ধাওয়ায় তুরাগে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তাহসিফ? দীপের বক্তব্যে নতুন তথ্য, পুরোপুরি আশ্বস্ত নয় পিবিআই একসঙ্গে দুই পেশা: সরাইল থানার ওসির বিরুদ্ধে আইনজীবী সমিতির শোকজ মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান-জিয়াউলদের বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন বার কাউন্সিলে নাকচ শিক্ষক নিয়োগ মামলায় জালিয়াতি: আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে ঢাকা ছাড়তে নিষেধ আপিল বিভাগের বেলা ১১টায় এসে ২টায় চলে যাওয়া চলবে না’: বিচারকদের প্রতি আইনমন্ত্রীর কড়া বার্তা

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পুনরুত্থান: প্রতিবাদের ভাষায় নতুন জাগরণ

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ২৬৬ বার পড়া হয়েছে

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পুনরুত্থান: প্রতিবাদের ভাষায় নতুন জাগরণ
নিউজ ডেস্ক,আদালত বার্তা,  প্রকাশের তারিখ: ৪ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আবারও দৃশ্যমান হচ্ছে এক নতুন জাগরণ। সাম্প্রতিক সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মূলধারার সাংস্কৃতিক কর্মীদের সক্রিয় হয়ে ওঠা অনেকের কাছেই একটি ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরের নীরবতা বা বিভক্ত অবস্থানের পর তাদের সম্মিলিত প্রতিবাদী কণ্ঠ আবারও জনপরিসরে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা, মতাদর্শগত বিভ্রান্তি এবং সময়ের চাপে অনেক সাংস্কৃতিক কর্মী অতীতে বিভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন। ৫ আগস্টের আগের সময়কে ঘিরে কিছু শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীর অবস্থান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, বর্তমানে তাদের একটি বড় অংশ পুনরায় নিজেদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণমানুষের পক্ষে সরব হচ্ছেন।
তবে এ কথাও উল্লেখযোগ্য যে, মূলধারার অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কখনোই কোনো বিতর্কিত শক্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না। বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের সময় সুবিধাভোগী একটি অংশ সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে সংসদ সদস্য হওয়া বা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সক্রিয় থাকা কিছু ব্যক্তি বর্তমানে জনপরিসরে অনুপস্থিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, যারা কোনো প্রকার রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহণ না করে স্বাধীন অবস্থানে ছিলেন, তারাই আজকের এই সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন শুরু থেকেই স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছেন। এই ধারাবাহিকতায় আরও অনেক সংস্কৃতিকর্মী যুক্ত হচ্ছেন, যা সামগ্রিকভাবে একটি সম্মিলিত আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে।
সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি সংগ্রামে সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চা মানুষের মধ্যে চেতনা জাগিয়ে তুলেছে, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটেও সেই ধারাবাহিকতার পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গান, নাটক, কবিতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিবাদ ও সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে। এতে নতুন প্রজন্মও যুক্ত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি রাষ্ট্রকে মুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন করতে প্রগতিশীল শক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক জাগরণ সমাজের ভেতরে ভেতরে যে চেতনাবোধ তৈরি করে, তা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের ভিত্তি গড়ে তোলে।
এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করছেন—সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এই পুনর্জাগরণ দেশের সার্বিক গণতান্ত্রিক চর্চা ও ন্যায়বিচারের দাবিকে আরও শক্তিশালী করবে।
শেষ পর্যন্ত, মানুষের অন্তর্গত জাগরণই সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই প্রত্যাশাকেই প্রতিফলিত করে কবিতার চিরন্তন আহ্বান—
“আবার নূরলদীন একদিন আসিবে বাংলায়,
আবার নূরলদীন একদিন কাল পূর্ণিমায়
দিবে ডাক—‘জাগো বাহে, কোনঠে সবাই?’”
এই আহ্বান শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং বর্তমানের সংগ্রাম ও ভবিষ্যতের প্রত্যয়ের প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট