রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন
Title :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয়ে সম্প্রীতির আলোকবর্তিকা: গুরুদুয়ারা নানকশাহী বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা সংস্কারে আরও তহবিল দিচ্ছে সুইডেন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ে এস আলম, ব্রিটিশ উকিলদের এক মাসের বিলই প্রায় ৫ কোটি টাকা বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামের ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন ফৌজদারি মামলার তদন্ত কার্যক্রমে গতি আনতে নির্দেশনা জোরদার সপ্তাহে একবারের ইনসুলিন চালু ভারতে, কমবে খরচ ও ইনজেকশনের ঝামেলা সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে চায় সরকার দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে: সংবিধানের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বাড়ছে চাপ ধানমন্ডিতে চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যু: কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ নিজেদের প্রণীত আইনেই মানবতাবিরোধী অভিযোগে বিচারের মুখে আ.লীগ: নিষিদ্ধ ঘোষণার আইনি পথ কতটা বাস্তবসম্মত?

ইতিহাসের পৃষ্ঠায় অমর নেতৃত্ব: খামেনি–খোমিনীর উত্তরাধিকার ও জনসমর্থনের প্রতিচ্ছবি

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

ইতিহাসের পৃষ্ঠায় অমর নেতৃত্ব: খামেনি–খোমিনীর উত্তরাধিকার ও জনসমর্থনের প্রতিচ্ছবি
নিউজ ডেস্ক,বিশেষ প্রতিবেদন আদালত বার্তাঃ ৪ জুলাই ২০২৬
সময় বদলায়, রাজনীতি পরিবর্তিত হয়, কিন্তু কিছু নেতৃত্ব ইতিহাসের গণ্ডি ছাড়িয়ে যুগের পর যুগ মানুষের স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমিনী এবং তার উত্তরসূরি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি—এই দুই ব্যক্তিত্ব সেই বিরল নেতৃত্বের প্রতীক, যাদের প্রভাব শুধু একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখায় আবদ্ধ নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটেও গভীরভাবে প্রতিফলিত।
১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমিনীর মৃত্যুর পর তার জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহৎ জনসমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই বিপুল জনসমাগম কেবল একজন নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং তার আদর্শ, সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র গঠনে অবদানের প্রতি জনগণের গভীর আস্থা ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ ছিল।
খোমিনীর মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার নেতৃত্বে ইরান একদিকে যেমন আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। খামেনির নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য হলো—রাষ্ট্রের আদর্শিক কাঠামো বজায় রাখা, পশ্চিমা প্রভাব মোকাবিলা করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, খামেনির দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা এবং তার কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো তাকে ইতিহাসে একটি প্রভাবশালী নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইরানের পারমাণবিক নীতি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং ইসলামী বিশ্বে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
অন্যদিকে, খোমিনীর জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ এবং বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—একজন নেতার প্রকৃত শক্তি তার জীবদ্দশায় নয়, বরং মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে তার প্রভাব কতটা গভীরভাবে রয়ে যায়, সেটিই তার প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ধারণ করে।
বর্তমান বিশ্বে যেখানে নেতৃত্ব প্রায়ই বিতর্কিত এবং স্বল্পস্থায়ী, সেখানে খোমিনি ও খামেনির মতো নেতারা একটি ভিন্ন ধারা উপস্থাপন করেন—যেখানে আদর্শ, বিশ্বাস এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবই নেতৃত্বের মূল ভিত্তি।
সর্বোপরি বলা যায়, ইতিহাসে কিছু নাম সময়ের সীমা অতিক্রম করে। আয়াতুল্লাহ খোমিনি এবং আয়াতুল্লাহ খামেনি সেই ধারারই অংশ—যাদের নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews