সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন
Title :
আওয়ামী লীগের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা মেলেনি: স্পিকার আইনজীবীদের আটক নিয়ে উত্তাল সুপ্রিম কোর্ট চত্বর, প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে মিলল মুক্তি অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তচিন্তার সংকোচন: রাষ্ট্র, সমাজ ও সংস্কৃতির গভীর সংকট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ, জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ মানবপাচার দমনে অগ্রগতির স্বীকৃতি, তবু টিয়ার-২ তালিকায় বাংলাদেশ জান্নাতুল তাজমীনের মৃত্যু কি আমাদের বিবেককে জাগাবে? ১৩ সেনা হত্যা: সাবেক মার্কিন মেজর নিদালের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে, করা হবে সরাসরি সম্প্রচার ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি স্বাক্ষর: ১৫ বছর এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব পেল আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ফ্রিল্যান্সিং খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিপ্লব: টিকে থাকতে ফ্রিল্যান্সারদের করণীয় কী? প্রশিক্ষণ নিতে জাপান যাচ্ছেন ১৭ বিচারক ও ৬ আইনজীবী

কৃষকের অব্যর্থ ফসল কচু

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২০
  • ১২৫৯ বার পড়া হয়েছে
কৃষকের অব্যর্থ ফসল কচু কৃষক মুরাদের সাফল্যের লতাকচু

যত্নআত্তির বালাই নেই তেমন একটা। লাগানোর প্রায় ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ পরই কাঙ্ক্ষিত ফসল। একইসঙ্গে আসে স্বপ্নের সার্থকতা। আসে আনন্দের ঠোঁট ঝলমলে হাসি। এই হাসির জোর থেকেই প্রমাণিত যে, কৃষকের অব্যর্থ একটি ফসলের নাম কচু।

সবজি হিসেবে কচুকে খাটো করে দেখার কিন্তু কোনো সুযোগ নেই। কেননা, প্রচুর পুষ্টিগুণসম্পন্ন সবজি। মানবদেহের প্রয়োজনীয় নানা শারীরিক পুষ্টিপূরণের পাশাপাশি এটি অক্ষুণ্ণ রাখে কৃষকের অর্থনৈতিক মর্যাদার দিকটিও। কম দাম বা গুরুত্বহীন সবজি হিসেবে কখনোই গণ্য হয় না এই ফলসটি। সারাবছরই এর চাহিদা থাকে অটুট। মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি সবজি কচু।

সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের সফল চাষি আব্দুল মুহিত মুরাদ তার জমিতে এই কচু চাষ করে পুরোপুরিভাবে সফলতা অর্জন করেছেন। কচুর ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী তিনি। এই অভিজ্ঞতাটুকু অর্জনের পর তিনি কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন ভাবনাহীন সফল চাষ হিসেবে এই কচুকে নির্বাচিত করার জন্য।

তিনি বলেন, এই কচুর নাম লতাকচু। তবে আঞ্চলিক ভাষায় লতিকচু বলে। আমি ১০ শতক (শতাংশ) জায়গা প্রায় এক সহস্রাধিক কচুর চাষ করে সব খরচাদি বাদ দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করেছি। এতে খরচ হয়েছে মাত্র আট থেকে ১০ হাজার টাকা। এটি উচ্চফলনশীল জাতের। কম খরচে বেশি লাভ করা সম্ভব। জমিতে সারপ্রয়োগ হিসেবে তিনি বলেন, গোবর সারের পাশাপাশি ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি এগুলো দিয়েছি। এর ফলে গাছের যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে মোটাতাজা হয়। দেখতে হৃষ্টপুষ্ট লাগে। অন্য সবজির মতো খুব বেশি যত্ন করতে হয় না। বেশি পরিমাণে গোবর অর্থাৎ জৈব সার দেওয়ায় কচু খেতে সুস্বাদু লাগবে।

মনে করেন, ফাল্গুনে কচু লাগলে চৈত্রের শেষ দিক থেকে সফল পরিপূর্ণ হওয়া শুরু করবে। বর্ষার আগ মুহূর্তে ফলসটা উঠে গেছে আর কোনো ঝুঁকি থাকে না। শুরু দিকে কেজিপ্রতি দাম পাওয়া যায় ৬০ টাকা। পরের দিকে এসে কেজিপ্রতি দাম হয় ৩০ টাকা বলেও যোগ করেন মুরাদ।

এই কচুর মাথায় শুধু লতানো অংশটি বাজারে বিক্রি হয় বা খাওয়া যায়। নিচের দিকে খাওয়া যায় না। আরেক ধরনের খুব ভালো মানের হবিগঞ্জের বানিয়াচঙের কচু রয়েছে, তার নাম মোড়া কচু। এটার প্রায় হাজারখানেক চারা আগামীতে লাগাবো। মোড়া কচুতে তিন থেকে চার গুণ লাভ বলে কচুর ভ্যারাইটি প্রসঙ্গে জানান কৃষক মুরাদ।

শ্রীমঙ্গল কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রথিন্দ্র দেব বলেন, প্রচুর পুষ্টিগুণসম্পন্ন ফসল কচু। এর উপকারিতা বহুমুখী। ভোক্তা শ্রেণির মধ্যেও এর চাহিদা প্রচুর কৃষকদেরকে এই ফসলটি চাষ করতে আমরা উদ্বুদ্ধ করি। এতে কম পরিশ্রমে লাভ বেশি পাওয়া যায়।

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, যা শরীরে রক্তের প্রয়োজনীয় উপাদান বৃদ্ধি করে। আছে ক্যালশিয়াম ও আয়েডিন রয়েছে, যা আমাদের হাড়কে মজবুত করে। বেশি পরিমাণে রয়েছে ফাইবার (আঁশ), যা আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। এটি খেলে রক্তের কোলেস্টরাল কমে, তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এটি উপকারী। তাছাড়া ভিটামিন-সি রয়েছে, যা নানান সংক্রামণ রোগ থেকে রক্ষাসহ শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়ায় বলে জানান ওই কৃষি কর্মকর্তা রথিন্দ্র।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট