রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন
Title :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয়ে সম্প্রীতির আলোকবর্তিকা: গুরুদুয়ারা নানকশাহী বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা সংস্কারে আরও তহবিল দিচ্ছে সুইডেন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ে এস আলম, ব্রিটিশ উকিলদের এক মাসের বিলই প্রায় ৫ কোটি টাকা বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামের ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন ফৌজদারি মামলার তদন্ত কার্যক্রমে গতি আনতে নির্দেশনা জোরদার সপ্তাহে একবারের ইনসুলিন চালু ভারতে, কমবে খরচ ও ইনজেকশনের ঝামেলা সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে চায় সরকার দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে: সংবিধানের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বাড়ছে চাপ ধানমন্ডিতে চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যু: কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ নিজেদের প্রণীত আইনেই মানবতাবিরোধী অভিযোগে বিচারের মুখে আ.লীগ: নিষিদ্ধ ঘোষণার আইনি পথ কতটা বাস্তবসম্মত?

পরীক্ষা নাকি অগ্নিপরীক্ষা—এইচএসসি প্রশ্নপত্রে বিতর্ক

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

পরীক্ষা নাকি অগ্নিপরীক্ষা—এইচএসসি প্রশ্নপত্রে বিতর্ক

নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ৪ জুলাই ২০২৬
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে ২ জুলাই থেকে। প্রথম দিন অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অনেকের অভিযোগ, প্রশ্নপত্রটি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান যাচাইয়ের চেয়ে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে।
পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা জানায়, বহু প্রস্তুতি সত্ত্বেও প্রশ্নপত্রের সঙ্গে তাদের অনুশীলনের মিল খুবই কম। এমনকি মেধাবী শিক্ষার্থীরাও প্রশ্নের ধরন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে এমসিকিউ অংশের কিছু প্রশ্নে একাধিক সম্ভাব্য উত্তর থাকার সুযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, একটি পাবলিক পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীর ভাষাবোধ, বিশ্লেষণক্ষমতা ও পাঠ্যজ্ঞান যাচাই করা। কিন্তু প্রশ্নপত্র যদি অতিরিক্ত জটিল বা অস্পষ্ট হয়, তবে তা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপে ফেলে এবং মূল্যায়নের ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
এছাড়া পরীক্ষার পদ্ধতিতে হঠাৎ পরিবর্তন আনার বিষয়টিও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সারা বছর এক ধরনের প্রস্তুতির পর পরীক্ষার ঠিক আগে প্রশ্নপদ্ধতি বদলে দেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি বৃহত্তর সংকটের প্রতিফলন। বর্তমানে শিক্ষা ক্রমশ নম্বর ও জিপিএ-নির্ভর হয়ে পড়েছে, যেখানে সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা ও বাস্তব দক্ষতার যথেষ্ট বিকাশ ঘটছে না। ফলে সনদধারীর সংখ্যা বাড়লেও দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী মানবসম্পদ তৈরি হচ্ছে না।
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষজ্ঞরা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সংস্কার, মুখস্থনির্ভরতা থেকে সরে এসে চিন্তানির্ভর শিক্ষায় জোর দেওয়া, এবং শিক্ষকদের মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তাদের মতে, শিক্ষা কখনো ভয়ের বিষয় হতে পারে না; বরং তা হওয়া উচিত শেখার আনন্দ ও কৌতূহল বিকাশের মাধ্যম। একটি জাতির অগ্রগতি নির্ভর করে তার শিক্ষার মানের ওপর—শুধু পরীক্ষার ফলের ওপর নয়।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews