বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন
Title :
ঢাকায় সব বদলে গেলেও নাবিস্কো মোড়ের বিস্কুটের সেই ঘ্রাণটা আজও বদলায়নি তেজগাঁওয়ের শিল্প-ঐতিহ্য, নাগরিক স্মৃতি ও একটি পরিচিত মোড়ের গল্প শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে অনিশ্চিত তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নারী চালক-কন্ডাক্টর দিয়ে চলবেআজ চালু হচ্ছে ‘পিংক বাস’, যেসব রুটে মিলবে সেবা মামলা জট নিরসনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ১২ কার্যদিবসে হাইকোর্টে ৬২ হাজার ৬৩৭ পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি দুদক চেয়ারম্যান হলেন বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার রায় যেকোনো দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা র‍্যাব বিলুপ্ত, পুলিশের অধীনে নতুন বাহিনী এসআরবি চূড়ান্ত অনুমোদন মন্ত্রিসভায়—বদলাবে কাঠামো, থাকবে বিশেষ অভিযান ও তদন্তের ক্ষমতা যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া আজই শেষ হতে পারে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতে হবে: আলবার্টার প্রিমিয়ার ২০২৭ সালের সম্ভাব্য রমজান ও ঈদুল ফিতরের সময়সূচি প্রকাশ

মোঘল দরবার থেকে আজকের বৈশাখ খাজনা আদায়ের দিনটি কীভাবে প্রাণের উৎসবে রূপ নিল

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩১৭ বার পড়া হয়েছে

মোঘল দরবার থেকে আজকের বৈশাখ খাজনা আদায়ের দিনটি কীভাবে প্রাণের উৎসবে রূপ নিল

 নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তা : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
আজ যে আমরা বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখকে এত আনন্দ আর রঙে উদযাপন করি, তার শিকড় কিন্তু বেশ বাস্তব—এমনকি একটু হিসাবি ও বলা যায়! ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সম্রাট আকবর-এর সময়েই এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা।

মোঘল আমলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে ট্যাক্স বা খাজনা আদায় ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ইসলামি হিজরি ক্যালেন্ডার চন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় তা কৃষি মৌসুমের সঙ্গে মিলতো না। ফলে কৃষকের ফসল উঠার সময় আর খাজনা দেওয়ার সময়ের মধ্যে গরমিল তৈরি হতো। এই সমস্যার সমাধান করতে সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন, যা সূর্যভিত্তিক এবং কৃষি মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নতুন বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে কৃষকরা খাজনা পরিশোধ করতেন। জমিদাররা সেই দিন হালখাতা খুলতেন—পুরনো হিসাব চুকিয়ে নতুন হিসাব শুরু হতো। আর এই হিসাবের দিনটিই ধীরে ধীরে উৎসবে পরিণত হয়।

হালখাতা: হিসাবের খাতা থেকে সম্পর্কের খাতা

হালখাতা শব্দটা শুনলেই অনেকের মনে পড়ে লাল কাপড়ে মোড়া নতুন খাতা, দোকানের সামনে রঙিন ব্যানার, আর মিষ্টির প্যাকেট। মজার ব্যাপার হলো—এই ঐতিহ্যটা কিন্তু এখনো বেঁচে আছে, বিশেষ করে পুরনো ঢাকায়।

পুরান ঢাকা-এর ব্যবসায়ীরা আজও পহেলা বৈশাখে নতুন খাতা খুলে থাকেন। আগের বছরের বকেয়া হিসাব মিটিয়ে গ্রাহকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়—এসেন, হালখাতা করেন। গ্রাহকদের আপ্যায়ন করা হয় মিষ্টি, শরবত, কখনো কখনো বিরিয়ানি দিয়েও! অনেক দোকানে আবার ছোটখাটো সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা—একেবারে উৎসবের আমেজ।

এটা শুধু হিসাবের বিষয় না—এটা এক ধরনের সামাজিক সম্পর্কের বন্ধন। দোকানদার আর ক্রেতার মধ্যে বিশ্বাস, পরিচিতি আর আন্তরিকতা নতুন করে শুরু করার দিন।

গ্রাম বাংলায় এখনো টিকে আছে ঐতিহ্য

শুধু শহরেই না—গ্রাম বাংলাতেও হালখাতার রেওয়াজ এখনো জীবন্ত। গ্রামের মুদি দোকান, ধানের আড়ত, এমনকি ছোটখাটো ব্যবসায়ীরাও এই দিনটিকে গুরুত্ব দিয়ে পালন করেন। গ্রামে হালখাতা মানেই—

পুরনো দেনা-পাওনার হিসাব মিটানো

নতুন করে ব্যবসা শুরু করার মানসিক প্রস্তুতি

আর সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে আবার ঝালিয়ে নেওয়া

অনেক জায়গায় ছোটখাটো মেলাও বসে, থাকে নাগরদোলা, খেলনা, মিষ্টির দোকান—যা পুরো গ্রামকে একদিনের জন্য হলেও উৎসবমুখর করে তোলে।

হিসাবের বাইরে যে আবেগ

একটা সময় ছিল, যখন পহেলা বৈশাখ মানেই ছিল খাজনা আর হিসাব। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই হিসাবের দিন হয়ে উঠেছে উৎসবের দিন। আজ আর কেউ খাজনা দিতে বৈশাখ পালন করে না, কিন্তু নতুন করে শুরু করার যে ধারণা—সেটা এখনো রয়ে গেছে।

হালখাতা যেন শুধু টাকার হিসাব না, জীবনেরও এক নতুন অধ্যায় খুলে দেয়। মোঘল দরবারে শুরু হওয়া একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আজ হয়ে উঠেছে বাঙালির সবচেয়ে প্রাণের উৎসবগুলোর একটি। সম্রাট আকবর হয়তো ভাবতেও পারেননি—তার নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত একদিন মানুষের হাসি, আনন্দ আর সংস্কৃতির অংশ হয়ে যাবে।

পহেলা বৈশাখ তাই শুধু ক্যালেন্ডারের নতুন দিন না—এটা ইতিহাস, ঐতিহ্য আর মানুষের আন্তরিক সম্পর্কের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট