রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন
Title :
যমুনার চরে ৬ হাজার মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র: জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: এমপি মিষ্টির পদত্যাগে কাঁপছে অপরাধ জগৎ কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন হচ্ছে ডিজিটাল, কমবে পারিবারিক মামলা ও জালিয়াতি ঘণ্টাপ্রতি শ্রম নয়, দক্ষতার বাজারমূল্যেই বাড়ে সফলতা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে কারিগরি দক্ষতার বিকল্প নেই বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই সাংবাদিকতা কি ‘মামার বাড়ির মোয়া’? সরকারি চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন: নিরাপত্তা যাচাই, নাকি রাজনৈতিক পরিচয় অনুসন্ধান? সড়ক-ফুটপাতে হকার বসলেই মালামাল ক্রোক ও মামলা: ডিএসসিসি প্রশাসকের কঠোর হুঁশিয়ারি। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করছেন এমপি মিষ্টি, প্রত্যাহার পুলিশ কর্মকর্তা

ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত ৩০০ কোটি টাকার ক্যানসার হাসপাতাল প্রকল্প: স্বপ্ন ভেঙে এখন ভুতুড়ে স্থাপনা

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ৩০৭ বার পড়া হয়েছে

ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত ৩০০ কোটি টাকার ক্যানসার হাসপাতাল প্রকল্প: স্বপ্ন ভেঙে এখন ভুতুড়ে স্থাপনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ধামরাই (ঢাকা) আদালত বার্তা : ২১ জুন ২০২৬
ঢাকার ধামরাই উপজেলার পাইকপাড়া-চৌহাট এলাকায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি বৃহৎ ক্যানসার হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ কমপ্লেক্স আজ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মহৎ উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পটি বর্তমানে অবহেলা, অনাদর ও অরক্ষিত পরিবেশের কারণে এলাকাবাসীর কাছে এক ভুতুড়ে স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।
স্বপ্নের সূচনা ও মহৎ উদ্দেশ্য
প্রকল্পটির মূল উদ্যোক্তা ছিলেন প্রবাসী ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি খান মোহাম্মদ ইকবাল। তার বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর দেশের সাধারণ মানুষের জন্য আধুনিক ও মানসম্পন্ন ক্যানসার চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
প্রকল্পের আওতায় একটি বহুতল ক্যানসার হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, বিশাল মসজিদ এবং একটি এতিমখানা নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এলাকাবাসীর আশা ছিল, এটি বাস্তবায়িত হলে ধামরাইসহ আশপাশের অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
নির্মাণ থেমে যাওয়ার পেছনের কারণ
প্রকল্পটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। হাসপাতাল ভবন, অবকাঠামো এবং মসজিদের দৃশ্যমান অগ্রগতি স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছিল।
কিন্তু ২০১৭ সালে উদ্যোক্তা খান মোহাম্মদ ইকবালের আকস্মিক মৃত্যু পুরো প্রকল্পটিকে থমকে দেয়। পরবর্তীতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব এবং উদ্যোক্তার উত্তরসূরিদের উদ্যোগ না থাকায় কাজ আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে বিশাল এই প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
বর্তমান অবস্থা: অবহেলা, ঝুঁকি ও আতঙ্ক
দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো এলাকা এখন ঝোপঝাড় ও লতাপাতায় আচ্ছাদিত। বহুতল ভবনের ভেতর-বাহিরে ধ্বংসস্তূপের চিহ্ন স্পষ্ট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত ভবনটি এখন বিষাক্ত সাপের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যক্তির মাদকসেবনের স্থান হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা এলাকাবাসীর জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।
রাতে এলাকাটি প্রায় জনমানবশূন্য থাকায় এটি নিয়ে ছমছমে ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি ও প্রত্যাশা
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, এত বড় একটি জনকল্যাণমূলক স্থাপনাকে এভাবে পরিত্যক্ত রাখা উচিত নয়। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা কোনো বেসরকারি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটি পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের মতে, দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে উদ্যোক্তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পাশাপাশি এলাকাবাসী উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে এবং একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প পুনর্জীবন লাভ করবে।

একসময় যে প্রকল্পটি মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে উঠতে পারত, সেটিই আজ অবহেলার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এই পরিত্যক্ত স্থাপনাই আবারও হতে পারে মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট