বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ন
Title :
বাধার পাহাড় পেরিয়েই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে হয় সংগ্রাম, ব্যর্থতা ও প্রতিকূলতাই মানুষকে সাফল্যের প্রকৃত মূল্য শেখায় দেনমোহর আদায়ে বাধ্য করা হলে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিতে পারবেন আদালত: হাইকোর্ট কর ফাঁকি ধরতে এনবিআরের এআই প্রযুক্তি: কড়া নজরে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরা কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার হয়ে সরাসরি চীন: বাংলাদেশের সামনে ভূ-অর্থনীতির নতুন দিগন্ত বৈধ ভিসা থাকলেই প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয়: দিল্লি হাইকোর্ট রিমান্ড শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন নামের বিভ্রাটে ১০ মাস ধরে কারাগারে নির্দোষ আলমাছ: পরিচয় নিশ্চিতে হাইকোর্টের তদন্তের নির্দেশ যমুনার চরে ৬ হাজার মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র: জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: এমপি মিষ্টির পদত্যাগে কাঁপছে অপরাধ জগৎ কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়াম চালান

বাধার পাহাড় পেরিয়েই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে হয় সংগ্রাম, ব্যর্থতা ও প্রতিকূলতাই মানুষকে সাফল্যের প্রকৃত মূল্য শেখায়

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

বাধার পাহাড় পেরিয়েই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে হয়
সংগ্রাম, ব্যর্থতা ও প্রতিকূলতাই মানুষকে সাফল্যের প্রকৃত মূল্য শেখায়
সম্পাদকীয় | আদালত বার্তা
জীবন কোনো সরলরেখা নয়। এখানে যেমন আছে আনন্দ, তেমনি আছে বেদনা; যেমন আছে সাফল্য, তেমনি আছে ব্যর্থতা। চলার পথে কখনো পথ মসৃণ হয়ে সামনে এগিয়ে দেয়, আবার কখনো কঠিন বাস্তবতা দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু জীবনের গভীর সত্য হলো—বাধা-বিপত্তি সবসময় মানুষের পথ রুদ্ধ করার জন্য আসে না; অনেক সময় এগুলোই মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের জন্য প্রস্তুত করে।
“জীবনে চলার পথে বাধা-বিপত্তি দরকার, নাহলে সাফল্য উপভোগ করা যায় না”—এই কথাটি নিছক অনুপ্রেরণামূলক বাক্য নয়; এর মধ্যে লুকিয়ে আছে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার গভীর দর্শন।
বাধা আসলে পরীক্ষার মঞ্চ
মানুষের প্রকৃত শক্তি বোঝা যায় তখনই, যখন তার সামনে কঠিন পরিস্থিতি এসে দাঁড়ায়। স্বাভাবিক সময়ে অনেকেই নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকে না। কিন্তু প্রতিকূলতা মানুষকে নিজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।
কঠিন পরিস্থিতি মানুষকে ধৈর্য ধরতে শেখায়, সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়, ভুল থেকে শিক্ষা নিতে শেখায় এবং বারবার পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়। যে বাধা প্রথমে অসম্ভব মনে হয়, সেটিই একসময় অভিজ্ঞতার সবচেয়ে বড় শিক্ষক হয়ে ওঠে।
অতএব, জীবনের প্রতিটি বাধাকে কেবল দুর্ভাগ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কখনো কখনো বাধাই হয়ে ওঠে আত্মবিকাশের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।
সহজে পাওয়া সাফল্যের চেয়ে অর্জিত সাফল্যের মূল্য বেশি
যে সাফল্যের পেছনে কোনো পরিশ্রম নেই, কোনো অপেক্ষা নেই, কোনো ত্যাগ নেই—তার আনন্দ অনেক সময় স্থায়ী হয় না। বিপরীতে, দীর্ঘ সংগ্রাম ও অধ্যবসায়ের পর অর্জিত সাফল্য মানুষের কাছে হয়ে ওঠে অমূল্য।
একজন শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফলের পেছনে থাকে অসংখ্য রাতের পড়াশোনা। একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের পেছনে থাকে বহু ব্যর্থতার গল্প। একজন পেশাজীবীর প্রতিষ্ঠার পেছনে থাকে বছরের পর বছর শ্রম ও আত্মসংযম।
ফলাফল সবাই দেখে; কিন্তু ফলাফলের পেছনের সংগ্রামটি সবাই দেখে না।
আর সেখানেই সাফল্যের প্রকৃত সৌন্দর্য।
পাহাড়ের চূড়া শুধু দৃশ্য নয়, একটি অর্জনের প্রতীক
জীবনের এই দর্শনকে পাহাড়ের সঙ্গে তুলনা করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়।
দূর থেকে একটি পাহাড়ের চূড়া যতটা সুন্দর ও আকর্ষণীয়, সেখানে পৌঁছানোর পথ ততটা সহজ নয়। পাথুরে রাস্তা, খাড়া ঢাল, ক্লান্তি, ভয়, অনিশ্চয়তা—সবকিছু অতিক্রম করেই একজন অভিযাত্রীকে চূড়ায় উঠতে হয়।
পিঠে ব্যাগ নিয়ে দীর্ঘ ও দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যখন একজন মানুষ পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়ান এবং দিগন্তজোড়া সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করেন, তখন সেই দৃশ্য কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্য থাকে না; তার সঙ্গে যুক্ত হয় বিজয়ের অনুভূতি।
চূড়ার সৌন্দর্যকে গভীর করে তোলে চূড়ায় ওঠার সংগ্রাম।
জীবনও ঠিক তেমনই। গন্তব্য যত মূল্যবান, সেখানে পৌঁছানোর পথ তত বেশি মানুষকে তৈরি করে।
ব্যর্থতা কি সত্যিই পরাজয়?
আমাদের সমাজে ব্যর্থতাকে অনেক সময় চূড়ান্ত পরাজয় হিসেবে দেখা হয়। অথচ ব্যর্থতা অনেক ক্ষেত্রেই সাফল্যের পূর্বশর্ত।
একটি ব্যর্থতা মানুষকে জানিয়ে দেয় কোথায় তার দুর্বলতা। দ্বিতীয়বারের চেষ্টা তাকে আরও প্রস্তুত করে। তৃতীয়বারের সংগ্রাম তাকে আরও দৃঢ় করে। এভাবেই ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা একসময় সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে।
তাই ব্যর্থ হয়ে থেমে যাওয়ার চেয়ে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার শুরু করাই জীবনের বড় শক্তি।
পড়ে যাওয়া ব্যর্থতা নয়; পড়ে গিয়ে আর না ওঠাই প্রকৃত পরাজয়।
কষ্ট না থাকলে সুখের মূল্যও কমে যায়
জীবনের সৌন্দর্য বৈপরীত্যের মধ্যেই। অন্ধকার না থাকলে আলোর মূল্য যেমন বোঝা যায় না, তেমনি দুঃখ না থাকলে সুখের গভীরতাও উপলব্ধি করা কঠিন।
যে মানুষ অভাব দেখেছে, সে প্রাপ্তির মূল্য বেশি বোঝে। যে ব্যর্থ হয়েছে, সে সাফল্যের আনন্দ বেশি অনুভব করে। যে দীর্ঘ অপেক্ষা করেছে, সে কাঙ্ক্ষিত অর্জনের মুহূর্তকে বেশি মূল্য দেয়।
এই কারণেই জীবনের প্রতিটি কঠিন অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
বাধা আমাদের থামাবে, নাকি তৈরি করবে?
এখানেই মানুষের মানসিকতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
একই বাধা একজন মানুষকে ভেঙে দিতে পারে, আবার অন্য একজনকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। পার্থক্যটা তৈরি হয় দৃষ্টিভঙ্গিতে।
জীবনের প্রতিকূলতাকে যদি আমরা কেবল দুর্ভাগ্য হিসেবে দেখি, তাহলে তা আমাদের দুর্বল করবে। আর যদি এটিকে শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও আত্মগঠনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি, তাহলে সেই বাধাই একদিন আমাদের শক্তিতে পরিণত হবে।
সুতরাং জীবনের প্রতিটি সমস্যার সামনে প্রশ্ন হওয়া উচিত—“কেন আমার সঙ্গে এমন হলো?”—এটুকু নয়; বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—“এই পরিস্থিতি আমাকে কী শেখাতে এসেছে?”
সাফল্যের সংজ্ঞা নতুন করে ভাবতে হবে
সাফল্য মানে শুধু অর্থ, পদ, পরিচিতি কিংবা কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছানো নয়। সাফল্য হলো প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়া, ব্যর্থতার পর আবার চেষ্টা করা এবং কঠিন সময়েও নিজের ওপর বিশ্বাস ধরে রাখা।
কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ শুধু গন্তব্য দিয়ে বিচারিত হয় না; তাকে বিচার করা হয় সে কতটা কঠিন পথ অতিক্রম করে সেখানে পৌঁছেছে, তার ওপরও।
জীবনের পথ যদি কখনো কঠিন হয়ে যায়, তাহলে মনে রাখতে হবে—দুর্গম পথ মানেই ভুল পথ নয়। অনেক সময় সবচেয়ে কঠিন পথই সবচেয়ে মূল্যবান গন্তব্যের দিকে নিয়ে যায়।
পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে যে মানুষ সূর্যোদয় দেখে, তার আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে পাহাড় বেয়ে ওঠার ঘাম, ক্লান্তি, ভয় ও সংগ্রাম। তাই সেই সূর্যোদয় তার কাছে শুধু একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য নয়—এটি তার নিজের জয়।
জীবনের প্রতিটি বাধা তাই শেষ নয়; বরং নতুন শুরুর সম্ভাবনা। প্রতিটি ব্যর্থতা একটি শিক্ষা। প্রতিটি সংগ্রাম একটি প্রস্তুতি। আর প্রতিটি অর্জনের পেছনে লুকিয়ে থাকে অদৃশ্য এক দীর্ঘ পথচলা।
আদালত বার্তার সম্পাদকীয় অভিমত
আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কোনো না কোনো পাহাড় আছে। কারও পাহাড় অর্থনৈতিক সংকট, কারও শিক্ষাজীবনের ব্যর্থতা, কারও কর্মজীবনের প্রতিকূলতা, আবার কারও পাহাড় ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তা।
কিন্তু পাহাড় যত উঁচুই হোক, চূড়ার দিকে তাকিয়ে হাঁটা থামানো যাবে না।
কারণ—
“চূড়ায় ওঠার আনন্দ তারাই সবচেয়ে গভীরভাবে অনুভব করে, যারা পথের দুর্গমতা অতিক্রম করেছে।”
তাই বাধাকে ভয় নয়, শক্তিতে পরিণত করতে হবে। ব্যর্থতাকে অভিশাপ নয়, শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আর প্রতিকূলতাকে থামার কারণ নয়, এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হিসেবে দেখতে হবে।
আজকের সংগ্রামই হয়তো আগামী দিনের সেই চূড়া, যেখানে দাঁড়িয়ে আমরা একদিন নিজেদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সূর্যোদয় দেখতে পাব।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট