
বিচারক-গাড়িচালকের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ২৮ আগষ্ট ২০২৬
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক সোহেল রানা ও ট্রাইব্যুনালের গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চুর মধ্যকার আলোচিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
এ ঘটনায় ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলামকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখা থেকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়।
হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. আল-ইমরান খান স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, বিচারক ও গাড়িচালকের মধ্যকার ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারের পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসে।
বিচার বিভাগের মর্যাদা ও জনআস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে ঘটনার সত্যতা, কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুসন্ধান করা প্রয়োজন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বিচারক, গাড়িচালকসহ প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের বক্তব্য নিতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, তথ্য-উপাত্ত, প্রতিবেদন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য পর্যালোচনার ক্ষমতাও তাকে দেওয়া হয়েছে।চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এর আগে ঘটনার বিষয়ে গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চু অভিযোগ করেন, গত ২৩ আগস্ট সকালে বিচারকের খাসকামরায় ডেকে নিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। তার দাবি, গাড়ির লগবইয়ে সময় উল্লেখ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিচারক তাঁর চোখে ঘুষি ও কানের ওপর থাপ্পড় মারেন। পরে তিনি চিকিৎসা নেন এবং চোখে ব্যান্ডেজ করতে হয়।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন জনি। তার দাবি, গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বাচ্চুকে খাসকামরায় ডাকা হয়েছিল। একপর্যায়ে বিচারক তাঁকে ধমক দিয়ে বের করে দেন। তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং এ ঘটনায় কোনো আইন বা বিধি-বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে হবে।