বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
Title :
ধানমন্ডি ৩২ স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর: ড. ইউনূস–আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ক্ষমতা নয়, জনগণের আস্থাই সবচেয়ে বড় শক্তি অতীতের শিক্ষা, বর্তমানের বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতির পথরেখা যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। অবশেষে বৈধতা পাচ্ছে নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে নির্মিত ঢাকা জেলা পরিষদের ২০ তলা ভবন। রাষ্ট্রের চাকা ঘুরুক, কিন্তু মানুষ যেন তার নিচে না পড়ে ঢাকায় সব বদলে গেলেও নাবিস্কো মোড়ের বিস্কুটের সেই ঘ্রাণটা আজও বদলায়নি তেজগাঁওয়ের শিল্প-ঐতিহ্য, নাগরিক স্মৃতি ও একটি পরিচিত মোড়ের গল্প শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে অনিশ্চিত তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নারী চালক-কন্ডাক্টর দিয়ে চলবেআজ চালু হচ্ছে ‘পিংক বাস’, যেসব রুটে মিলবে সেবা মামলা জট নিরসনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ১২ কার্যদিবসে হাইকোর্টে ৬২ হাজার ৬৩৭ পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি দুদক চেয়ারম্যান হলেন বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান

ধানমন্ডি ৩২ স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর: ড. ইউনূস–আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ধানমন্ডি ৩২ স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর: ড. ইউনূস–আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তা
ঢাকা | ২০ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ও স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামের এক নারী বাদী হয়ে এ আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। মামলাটি আমলে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আদালত আদেশ পরে দেবেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শরিফ উদ্দিন মামলার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
মামলার আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ড. আসিফ নজরুল ছাড়াও সাবেক উপদেষ্টা ড. সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া, সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এ তালিকায় এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসুদ, সার্জিস আলম, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, তাসনিম জারা, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব, সালেহ উদ্দিন সিফাত এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন, কনক সরোয়ারসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।
আবেদনে কী অভিযোগ করা হয়েছে
মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কয়েকজন আসামির প্রত্যক্ষ মদদ, উসকানি অথবা সহযোগিতায় কয়েক হাজার মানুষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে হামলা চালায়। তাদের হাতে লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি ও দাহ্য পদার্থসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হামলাকারীরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সেখানে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক দলিল, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন নথি, প্রামাণ্যচিত্র, বই ও অন্যান্য সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত এবং লুট হয়েছে বলেও মামলার আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরে ভারী যন্ত্রপাতি—বুলডোজার, এক্সকাভেটর, হ্যামার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয় এবং পরদিন বিকেল পর্যন্ত ধ্বংসযজ্ঞ চলে।
তবে এসব বিষয় এখনো মামলার আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ—আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা, প্রত্যেক আসামির ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা এবং কথিত মদদ বা উসকানির প্রমাণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়ার বিষয়।
২০২৫ সালের ঘটনার সঙ্গে মিলছে সমসাময়িক প্রতিবেদন
ধানমন্ডি ৩২-এর ঘটনার সময় প্রকাশিত একাধিক সংবাদপ্রতিবেদনেও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ভবনটি ভাঙার তথ্য উঠে এসেছিল।
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ রাতেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রথমে বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়িটির গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। পরে রাত প্রায় ১১টার দিকে বুলডোজার আনা হয় এবং ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়।
এনটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ধানমন্ডি ৩২-এর সামনে লোকজন জড়ো হওয়ার পর গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ এবং ভাঙচুর শুরু হয়; পরে এক্সকাভেটর ব্যবহার করে বাড়িটি ভাঙা হয়।
ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ ফেব্রুয়ারি রাতের অগ্নিসংযোগের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভবনটি বুলডোজারের আঘাতে ভাঙতে শুরু করে। এর আগে ঘটনাস্থলে ক্রেনও আনা হয়েছিল।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রত্যক্ষদর্শীভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষিত ‘বুলডোজার মিছিল’-এর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার পর লোকজন সেখানে জড়ো হয় এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। পরে আগুন ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্থাপনাটি ধ্বংসের ঘটনা ঘটে।
পরদিনও ধ্বংসস্তূপ সরানো ও ভবনের বিভিন্ন অংশ ভাঙার কাজ চলছিল বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল। এমনকি জাদুঘরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাশের স্থাপনাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।
রাষ্ট্রীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের প্রশ্ন
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য এই বাড়িতেই নিহত হন। পরবর্তীতে বাড়িটি স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মারক সংরক্ষণের স্থান হিসেবে পরিচিতি পায়।
ফলে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির ধ্বংসযজ্ঞ কেবল একটি ভবন ভাঙার ঘটনা ছিল কি না, নাকি এর সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পদ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষার প্রশ্নও জড়িত—এ নিয়ে তখন থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়।
অন্যদিকে ঘটনাটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তৎকালীন রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধানমন্ডি ৩২ অভিমুখে ‘বুলডোজার মিছিল’-এর ঘোষণা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং শেখ হাসিনার অনলাইন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কর্মসূচিটির সঙ্গে সময়ের যোগসূত্র তৈরি হয়।
নতুন মামলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ‘মদদ ও উসকানি’র অভিযোগ
বর্তমান মামলার আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো—শুধু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নয়, বরং যারা প্রত্যক্ষভাবে নির্দেশ, উসকানি, অর্থসহায়তা বা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার মাধ্যমে ঘটনাটিকে সম্ভব করে তুলেছেন বলে বাদীপক্ষ দাবি করছে, তাদেরও দায়ের আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
মামলার আবেদনে কয়েকজনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে আসা, ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগে উৎসাহ দেওয়ার এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য মদদ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এখানে আইনি প্রশ্নটি হবে—কোন বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড সরাসরি অপরাধ সংঘটনে উসকানি, সহায়তা বা প্ররোচনা হিসেবে গণ্য হওয়ার মতো কি না; কার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ প্রমাণ রয়েছে এবং কার বিরুদ্ধে কেবল রাজনৈতিক বা পারিপার্শ্বিক অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় তদন্ত ও বিচারিক যাচাই ছাড়া চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
মামলার আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলা ও ভাঙচুরের পূর্বঘোষণা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সরকারি দায়িত্বশীলরা স্থাপনাটি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেননি।
এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, পূর্বতথ্য থাকা সত্ত্বেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া এবং পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার সম্পর্ক—এসব প্রশ্নও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
আদালতের আদেশের অপেক্ষা
মামলাটি এখনো বিচারিক পর্যায়ের প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেবেন কি না, সরাসরি মামলা গ্রহণ করবেন কি না, কিংবা আইনগত কোনো কারণে আবেদনটি খারিজ করবেন কি না—তা আদালতের পরবর্তী আদেশে স্পষ্ট হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত যদি অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন, তাহলে ২০২৫ সালের ৫–৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও লাইভ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের আলামত, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের তথ্য এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক সামগ্রীর তালিকা—সবই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সতর্কতা
এই মামলায় নাম থাকা মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি নয়। আদালতে অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা, তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষ্য-প্রমাণের মূল্যায়ন এবং শেষ পর্যন্ত বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই কারও দায় বা নির্দোষিতা নির্ধারিত হবে।
ধানমন্ডি ৩২-এর ঘটনাকে ঘিরে নতুন মামলার আবেদন তাই একই সঙ্গে আইনি, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন নজর থাকবে আদালতের পরবর্তী আদেশ এবং মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয় তার ওপর।
সম্পাদনা-নোট: প্রকাশের ক্ষেত্রে “২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা” না লিখে “২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন” লেখা অধিক আইনসম্মত ও নির্ভুল, কারণ আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আদালত এখনো মামলাটি গ্রহণের বিষয়ে আদেশ দেননি। একইভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিষয়গুলোকে প্রতিবেদনের সর্বত্র “অভিযোগ”, “মামলার আবেদনে দাবি” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট