বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ন
Title :
আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার ও তড়িঘড়ি রায়: ট্রাইব্যুনালের আদেশে সাংবাদিক ফ্রন্টের গভীর উদ্বেগ মির্জা আব্বাসের সময়োপযোগী সতর্কবার্তা: ‘আমলারা সবাই চোর’—এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য কেন? আদালত অবমাননা’: সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীকে ট্রাইব্যুনালে তলব শৈশবের আয়নায় মানুষ অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও গুজব ছড়ানো পেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশ সরকারি অফিসে যত্রতত্র পতাকার ব্যবহার: তদন্তে হাইকোর্টের ৩ সদস্যের কমিটি তথ্য গোপন করে জামিনের চেষ্টা: হাদি হত্যা মামলার আসামির আবেদন খারিজ, হাইকোর্টের সতর্কবার্তা ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড: রায়ের পরই সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণ গ্রেপ্তারের আগে পরোয়ানার সত্যতা যাচাই করুন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ শিক্ষানবিশ আইনজীবী গ্রহণে সর্বোচ্চ ৮ জন ৬ মাসের পিউপিলেজ যথাযথভাবে সম্পন্নে বার কাউন্সিলের কঠোর নির্দেশনা

রক্তাক্ত মানুষ, নির্লিপ্ত সমাজ: কমলাপুরের ঘটনা মানবতার সংকটের আরেক নির্মম উদাহরণ

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ১৬৭ বার পড়া হয়েছে

রক্তাক্ত মানুষ, নির্লিপ্ত সমাজ: কমলাপুরের ঘটনা মানবতার সংকটের আরেক নির্মম উদাহরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক,আদালত বার্তা১৭ মে ২০২৬
সমাজে মানবিক মূল্যবোধের ক্রমাবনতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। আহত মানুষের আর্তনাদ, চারপাশে মানুষের ভিড়, কিন্তু নেই তাৎক্ষণিক সহায়তার হাত—এ যেন আমাদের সময়ের এক নগ্ন বাস্তবতা।
গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ সামছুল ইসলাম (সদস্য নং: ১৫৯৬৬) বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে আসার সময় দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে তার বাম পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তি তখনও জীবিত ও সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ছিলেন। তিনি বারবার আশপাশের মানুষদের অনুরোধ করছিলেন—তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য। এমনকি মৃত্যুভয়ের মুহূর্তে তিনি প্রথম ফোন করেন তার মায়ের কাছে—“মা, আমার পা কেটে গেছে”—এই হৃদয়বিদারক আহ্বান শুধু একজন সন্তানের নয়, বরং মানুষের চরম অসহায়তার প্রতিচ্ছবি।
কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কমলাপুর রেলস্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা আইনজীবী সমিতি এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়,
কমলাপুর রেলস্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও আহত ব্যক্তির আর্তনাদে সাড়া দেননি এবং কোনো সহানুভূতি প্রদর্শন করেননি। এ ঘটনায় ঢাকা আইনজীবী সমিতি পরিবার গভীরভাবে মর্মাহত এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন দুর্ঘটনায় দ্রুত রক্তক্ষরণ বন্ধ করে এবং বিচ্ছিন্ন অঙ্গসহ হাসপাতালে নেওয়া গেলে রোগীর জীবন রক্ষার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। কিন্তু সময়মতো সহায়তার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এই ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং আমাদের সামাজিক মানসিকতার প্রতিফলন। দুর্ঘটনার পর মানুষ জড়ো হতে জানে, কিন্তু এগিয়ে এসে সাহায্য করতে দ্বিধা করে। কেউ ভিডিও ধারণে ব্যস্ত, কেউ দূর থেকে দেখছে—কিন্তু প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা অনুপস্থিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতার পেছনে আইনি ঝামেলার ভয়, সামাজিক উদাসীনতা এবং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা কাজ করছে। অথচ উন্নত বিশ্বে “গুড সামারিটান” নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনায় সাহায্য করতে উৎসাহিত করা হয় এবং আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়।
প্রশ্ন থেকে যায়—আমরা কি এমন এক সমাজে বসবাস করছি, যেখানে একজন রক্তাক্ত মানুষ বাঁচার জন্য আর্তনাদ করবে, আর আমরা শুধু দর্শক হয়ে থাকবো?
আজকের এই বাস্তবতায় মানবিকতা কেবল নৈতিক শিক্ষা নয়, বরং একটি জরুরি সামাজিক দায়িত্ব। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া, প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা—এসবই হওয়া উচিত আমাদের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
কারণ, আজ যিনি সাহায্য চাইছেন, আগামীকাল সেই জায়গায় থাকতে পারেন আমরা নিজেরাই।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট