
নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তা | ঢাকা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ (খুন) ধারার তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছিলেন আসামি মো. আমিনুল ইসলাম রাজু। তবে শুনানিকালে বিচারকদের জেরায় বিষয়টি ধরা পড়লে আদালত আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আদালতের কাছে তথ্য গোপনের মতো অনভিপ্রেত কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
যেভাবে ধরা পড়ল তথ্য গোপনের বিষয়টি
আদালত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আসামি মো. আমিনুল ইসলাম রাজুর পক্ষে হাইকোর্টে জামিন আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী বাচ্চু মিয়া। নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো জামিন আবেদনের প্রারম্ভে থাকা ‘কজ টাইটেল’ (Cause Title)-এ আসামির বিরুদ্ধে থাকা মামলার ধারাগুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু রাজুর আবেদনে সুকৌশলে হত্যা মামলার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার বিষয়টি গোপন করা হয়।
সোমবার শুনানির শুরুতে আদালত আসামিপক্ষের আইনজীবী মশিউর রহমানের কাছে জানতে চান, আবেদনকারী রাজু কোনো হত্যা মামলার আসামি কি না। এ প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী নীরবতা পালন করেন। পরে আদালত মামলার ভুক্তভোগীর (ভিকটিম) নাম জানতে চাইলে তিনি আংশিক তথ্য দিয়ে কেবল ‘ওসমান’ বলে উত্তর দেন।
আইনজীবীর এমন আচরণে আদালতের সন্দেহ ঘনীভূত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে জামিন আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত নথি বিশদভাবে পর্যালোচনা করে আদালত দেখতে পান, আবেদনকারী আমিনুল ইসলাম রাজু মূলত চাঞ্চল্যকর শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন আবেদনটি সরাসরি খারিজ (Summarily Reject) করে দেন।
আসামি রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ
হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে সহায়তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত বছরের (২০২৫) ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকা থেকে আমিনুল ইসলাম রাজুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।গ্রেপ্তারের পর তাকে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, রিমান্ডে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
হাদি হত্যা মামলার পূর্বাপর