মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন
Title :
চাঞ্চল্যকর মামলার ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তিতে গতি: হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে ৬৩ দিনে নিষ্পত্তি ২৬ মামলা মার্কিন ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’: ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বজুড়ে বন্ধ হচ্ছে সব ইরানি এয়ারলাইন জামিন পেলেও মুক্তি মেলেনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার: আদালতে চট্টগ্রাম জেল সুপারের ব্যাখ্যা দাখিল মৃত বাবার পেনশন প্রতিবন্ধী ছেলেকে কেন দেওয়া হবে না: হাইকোর্টের রুল জারি গত ৯ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যগত কারণে হাইকোর্টে জামিন পেলেন সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল মব জাস্টিস ও আমাদের অসুস্থ সমাজ: বিচারহীনতা ও ‘সিলেক্টিভ প্রতিবাদ’-এর সংস্কৃতিতে জিম্মি মানবতা। স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় গ্রেপ্তার এমপি গাজী নজরুল: আইনি ব্যবস্থা নিতে সংসদের চিঠির অপেক্ষায় ইসি নড়াইল আদালত প্রাঙ্গণে চাঞ্চল্য: রামদা-চাপাতিসহ আইনজীবীর চেম্বার থেকে ১১ আসামি আটক কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: আসামির বিনা বেতনে চাকরি ও পূর্বশত্রুতার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেরানীগঞ্জ কারাগারের দুই বন্দির মৃত্যু

চাঞ্চল্যকর মামলার ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তিতে গতি: হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে ৬৩ দিনে নিষ্পত্তি ২৬ মামলা

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

চাঞ্চল্যকর মামলার ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তিতে গতি: হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে ৬৩ দিনে নিষ্পত্তি ২৬ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তাঃ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারী ও শিশু ধর্ষণ-হত্যার মতো চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অভূতপূর্ব গতি ফিরেছে। দীর্ঘদিনের মামলাজট ও বিচারিক দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে আনতে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে মাত্র ৬৩ কার্যদিবসে ২৬টি ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি ও রায় ঘোষণা সম্পন্ন হয়েছে।

​একনজরে বিশেষ বেঞ্চের সাফল্য:

  • ​বেঞ্চ গঠন: বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশিদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে।
  • ​কার্যক্রম শুরু: ১১ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (৬৩ কার্যদিবস)।
  • ​নিষ্পত্তি: ২৬টি ডেথ রেফারেন্স ও আপিল মামলা।
  • ​উল্লেখযোগ্য নিষ্পত্তি: ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা ও মাগুরার শিশু হত্যা মামলা।

​যেভাবে এলো এই গতি

সুপ্রিম কোর্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর ডেথ রেফারেন্স শাখায় মামলা প্রস্তুত হতেই সাধারণত চার থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যায়। এরপর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে পার হয় আরও কয়েক বছর। বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকে।

​চাঞ্চল্যকর এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে এই বেঞ্চের জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যারা কোনো ধরনের মুলতবি (অ্যাডজর্নমেন্ট) আবেদন ছাড়াই বিরতিহীনভাবে শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন।

​আলোচিত যেসব মামলার রায় হলো

বিশেষ বেঞ্চে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশজুড়ে আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের (অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম) মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় এবং চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। বাকি ১০ জন খালাস পান।

​এছাড়া ৩১ আগস্ট মাগুরার চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আদালত। অন্যদিকে, গত ১৬ জুন যশোরের অভয়নগরের এক স্ত্রী হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বামীকে খালাস দেওয়া হয়। বর্তমানে হাইকোর্টের কার্যতালিকায় (কজলিস্ট) শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে রাজধানীর পল্লবীর বহুল আলোচিত শিশু হত্যা মামলাটি।

​আইন অঙ্গনের প্রতিক্রিয়া

ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞরা। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী জানান, বিশেষ বেঞ্চে পূর্ণ গতিতে শুনানি চলছে যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে শুনানির গতি আরও বাড়াতে এমন বেঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।

​হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মাজহারুল হক বলেন, “চাঞ্চল্যকর নারী-শিশু হত্যা ও ধর্ষণ মামলার শুনানি দ্রুত হচ্ছে। আশা করি আরও গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় শিগগিরই পাওয়া যাবে, যার মাধ্যমে বিচারপ্রার্থী ও আসামি—উভয় পক্ষই দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন।”

​সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা যায় এবং অপরাধীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দীর্ঘদিন কনডেম সেলে থাকতে হয়, তাদের পরিবারও চায় মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। বিচারপ্রার্থীরা যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পান, সে লক্ষ্যেই বিশেষ টিমের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষ এই বিরতিহীন শুনানি চালিয়ে যাচ্ছে।”

​জানা গেছে, এই বিশেষ বেঞ্চের বাইরেও হাইকোর্টের পৃথক আরও চারটি বেঞ্চে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নথিভুক্ত ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি অব্যাহত রয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট