মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন
Title :
রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিতে বাধা: আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রকাশকদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি: সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৭ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর খালাস পাওয়ার পরও ৮ বছর কারাগারে: ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রুল অনুমোদনহীন ২২ অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা বণ্টন মামলায় পৃথক স্বত্ব ঘোষণার মামলা ছাড়াই স্বত্বের প্রশ্ন নির্ধারণ করা যায়: হাইকোর্ট বিচার্য বিষয় বা Fact in Issue কী? মামলার সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে যে প্রশ্ন সংবিধানে আসছে মৌলিক পরিবর্তন: জানুয়ারিতে বিল পাসের পর হবে গণভোট। আয়কর রিটার্নে তথ্য গোপন: কী বলছে আইন, কী হতে পারে শাস্তি? একাধিক মামলার সাজা একসঙ্গে চলবে না আদালতের নির্দেশ ছাড়া: হাইকোর্ট

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি: সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি: সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি

​নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তা

ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলেও এই সরকার কীভাবে এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, সেই প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন অংশীজনের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আহ্বান করেছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি।

​মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এদিন টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক এবং টকশোর আলোচকদের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন নিয়ে মতবিনিময় করে কমিটি।

​আদালতের রায় ও রাজনৈতিক মতানৈক্য

গত বছরের ২৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে আওয়ামী লীগ আমলের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের রায় অনুযায়ী, আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা। এই রায়ের পর রাষ্ট্র সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ অনুষ্ঠিত হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলো এখনো কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।

​সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন। ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাব থাকলেও সরকার গঠনের চূড়ান্ত ধাপ ও বিকল্পগুলো কী হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদেই নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

​দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে বিতর্ক

বৈঠকে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ উল্লেখিত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সনদে এ বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও বৈঠকে অনেকে বাংলাদেশের মতো একক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এতে আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাবও এসেছে।

​পাশাপাশি, একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার প্রস্তাবটি নিয়েও ভিন্নমত দেখা গেছে। কেউ কেউ মেয়াদ নির্ধারণ করে দেওয়াকে অগণতান্ত্রিক বললেও, বিএনপি তাদের দলীয় সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কোনো ব্যক্তি যেন মোট ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকেন, সেই অবস্থানেই রয়েছে বিএনপি। তবে সংসদে এ বিষয়ে ভিন্ন প্রস্তাব এলে তা আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

​বিরোধী দলকে যুক্ত করার আহ্বান

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় একটি অংশগ্রহণমূলক রূপরেখা তৈরি করতে বিরোধী দলকে আলোচনায় আসার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ শূন্য রাখা হলেও সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কোনো নাম প্রস্তাব করেনি। তারা কমিটির ধারণাগত ভিত্তি গ্রহণ না করায় সদস্য দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করেছে। তবে সালাহউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দলগুলো আলোচনায় এলে জুলাই সনদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত থাকা বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা সম্ভব হবে।

​পরবর্তী পদক্ষেপ ও অন্যান্য সংস্কার

বৈঠকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ মতামত উঠে আসে।

​বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো একত্র করে পর্যালোচনা করা হবে। পরবর্তীতে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক, শিক্ষাবিদ, নারী নেতৃত্ব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহতদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। সব পক্ষের মতামত সমন্বয় করে প্রতিবেদনটি সংসদে উপস্থাপনের পর সংবিধান সংশোধন বিল আনা হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট