মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৯ অপরাহ্ন
Title :
আইনজীবীর সিল জালিয়াতি করে ভুয়া দলিল: ফেঁসে যাচ্ছেন আসল আইনজীবীরা, ঢাকা বার থেকে টাউট আটক। আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করল বার কাউন্সিল: কার্যকর ২০৩০ সাল থেকে এনএসআই প্রধানের হঠাৎ দিল্লি সফর: প্রত্যর্পণ আইনি প্রক্রিয়ায়, আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ জাতীয় রূপান্তর ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ: নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও সামাজিক সংহতির প্রাসঙ্গিকতা কেরানীগঞ্জে শিক্ষিকা ডালিয়া হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন: রিমান্ড ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির আবেদনসহ ৩ আসামি আদালতে সোপর্দ সনদ সমর্পণ না করে অন্য পেশা ও বাণিজ্যে যুক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে হাইকোর্টে রিট ২০২৭ সালের রমজান, শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা অবকাশ শেষে সুপ্রিম কোর্টে শুরু বিচারিক কার্যক্রম চায়ের আমন্ত্রণে সাংবিধানিক পদ থেকে পদত্যাগ: সাংবিধানিক রক্ষাকবচ কি কেবলই কাগুজে সুরক্ষা? পাঁচ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলছে অফিস-আদালত

আইনজীবীর সিল জালিয়াতি করে ভুয়া দলিল: ফেঁসে যাচ্ছেন আসল আইনজীবীরা, ঢাকা বার থেকে টাউট আটক।

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

​আইনজীবীর সিল জালিয়াতি করে ভুয়া দলিল: ফেঁসে যাচ্ছেন আসল আইনজীবীরা, ঢাকা বার থেকে টাউট আটক।

আদালত বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

​ঢাকা: আইনজীবী না হয়েও পেশাদার আইনজীবীর সিল-স্বাক্ষর জাল করে জাল দলিল তৈরি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রতন কুমার দে (৪৫) নামের এক ভুয়া আইনজীবীকে আটক করেছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই প্রতারণার ফলে অপরাধ না করেও জাল দলিলের মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন মূল সিলের স্বত্বাধিকারী বিজ্ঞ আইনজীবীরা।

​সম্প্রতি ঢাকা আইনজীবী সমিতির পরিচালিত ‘টাউট উচ্ছেদ’ অভিযানের অংশ হিসেবে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে হাতেনাতে আটক করা হয় প্রতারকচক্রের এই সক্রিয় সদস্যকে।

​আটকের পর দায় স্বীকার ও কোতোয়ালি থানায় মামলা

​ঢাকা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, আটকের সময় অভিযুক্ত রতনের কাছ থেকে বেশ কিছু সন্দেহজনক জাল কাগজপত্র ও দলিল জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আইনজীবী পরিচয়ে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের প্রতারিত করা এবং আসল আইনজীবীর নাম-সিল জালিয়াতির বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন।

​পরবর্তীতে তদন্তের স্বার্থে সমিতির তলবে হাজির হওয়ার শর্তে মুচলেকা রেখে তাঁকে সাময়িক ছাড় দেওয়া হলেও, ঢাকা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল খায়ের বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় দণ্ডবিধির প্রতারণা ও জালিয়াতি সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

​অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সানাউল হক জানান, আদালত অঙ্গনে বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের আস্থা রক্ষা এবং আইনজীবীদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রতারকচক্রের ওপর নজর রাখছিলেন। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ফাঁদ পেতে রতন কুমার দে-কে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদকালে ভুক্তভোগী আইনজীবী স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন এবং প্রতারক নিজের কৃতকর্মের বিস্তারিত বিবরণ দেন।

​অন্যের পাপে আসল আইনজীবী কাঠগড়ায়: ভুক্তভোগীর বয়ান

​মামলার নথি ও এজাহার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রতন কুমার দে প্রকৃত আইনজীবী না হয়েও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট এ এম শাহাবুদ্দিন সিহাবের নাম ও সিল হুবহু নকল করে একাধিক জাল দলিল তৈরি করেন।

​ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে। শ্যামপুরের তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রার খালিদ মোহাম্মদ বিন আসাদ বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি প্রতারণা ও দলিল জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। সেখানে অজ্ঞাতনামা আসামিদের পাশাপাশি অ্যাডভোকেট এ এম শাহাবুদ্দিন সিহাবকেও অন্যতম আসামি করা হয়। নিজের অজান্তেই ফৌজদারি মামলায় নাম আসায় চরম পেশাগত ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন তিনি।

​ভুক্তভোগী আইনজীবী শাহাবুদ্দিন সিহাব জানান, “দলিল জালিয়াতি বা তৈরির সঙ্গে আমার দূরতম কোনো সম্পর্ক ছিল না। প্রতারক রতন অসদুপায়ে আমার সিল বানিয়ে এই অপকর্ম করেছে। পরবর্তীতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নিরপেক্ষ তদন্তে প্রতারক রতনের সম্পৃক্ততা শনাক্ত করে এবং আমাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে।”

​তবে ভোগান্তি এখানেই শেষ হয়নি। ধানমণ্ডি থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাট সংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনায় দায়েরকৃত আরেকটি ফৌজদারি মামলায়ও একইভাবে তাঁর নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়। পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন করে। ধানমণ্ডি থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক সঞ্চয় সরকার জানান, তদন্ত শেষে বিজ্ঞ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, যা গ্রহণের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

​আদালত বার্তার আইনি পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ

​আদালত অঙ্গনে টাউট ও ভুয়া আইনজীবীদের দৌরাত্ম্য বিচার প্রশাসন এবং লিগ্যাল প্রফেশনের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। এ ঘটনাটি দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে সামনে এনেছে:

  1. ​দণ্ডবিধির কঠোর প্রয়োগের আবশ্যকতা: অন্যের সিল জালিয়াতি, ভুয়া পরিচয় ধারণ এবং জাল দলিল প্রস্তুত করা বাংলাদেশ দণ্ডবিধির (Penal Code, 1860) ৪১৯ (ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রতারণা), ৪২০ (প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ), ৪৬৫, ৪৬৮ ও ৪৭১ (জালিয়াতি ও জাল দলিলকে খাঁটি হিসেবে ব্যবহার) ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য ও অজামিনযোগ্য অপরাধ। এসব ক্ষেত্রে কেবল মুচলেকা বা সাধারণ মামলা নয়, বরং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
  2. আইনজীবী সুরক্ষা ও যাচাই পদ্ধতি: বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডার ও ক্যাননস অব প্রফেশনাল এথিকস অনুযায়ী পেশার মর্যাদা সমুন্নত রাখা সব পক্ষের দায়িত্ব। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বার কাউন্সিল সনদ নম্বর এবং সমিতির সদস্যপদ ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক যাচাই (Cross-Verification) বাধ্যতামূলক না হলে ভবিষ্যতে এমন জালিয়াতি ও নির্দোষ আইনজীবীদের হয়রানি রোধ করা দুরূহ হবে।

​ঢাকা বারের এই অভিযানকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি বিজ্ঞ আইনজীবীদের নিজেদের ব্যবহৃত সিল ও স্বাক্ষরের সুরক্ষায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট