
আশুলিয়ায় মরদেহ পোড়ানোর মামলা: রাজসাক্ষী হওয়ায় ক্ষমা পেয়ে কারামুক্ত সাবেক এসআই আবজালুল
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ১৯ অক্টোবর ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হিসেবে ক্ষমা পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হক। জুলাই বিপ্লব–সংক্রান্ত মামলার আসামিদের মধ্যে তিনিই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে কারামুক্ত হলেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তার মুক্তির আদেশ প্রদান করেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।
আইন অনুযায়ী, কোনো ফৌজদারি বা ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রমে অপরাধের সত্য উদঘাটনে কোনো আসামি যদি অপরাধের পূর্ণাঙ্গ ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রদানে সম্মত হন, তবে আদালত তাকে রাজসাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করে ক্ষমা মার্জনা (Pardon) করতে পারেন। সেই বিধানের আওতায় ট্রাইব্যুনাল আবজালুল হকের সাক্ষ্য ও স্বীকারোক্তি মূল্যায়ন করে তাকে ক্ষমার আদেশ দেন।
এর আগে ঘোষিত রায়ে ট্রাইব্যুনাল মামলার মোট ১৬ জন আসামির মধ্যে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। আর রাষ্ট্রপক্ষের রাজসাক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে সম্পূর্ণ দায়মুক্তি দেওয়া হয়।
মামলায় অভিযুক্ত ১৬ আসামির মধ্যে আবজালুল হকসহ আটজন গ্রেপ্তার ছিলেন এবং অবশিষ্ট আটজন এখনো পলাতক রয়েছেন।
গ্রেপ্তার অপর সাত আসামি হলেন—
নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনে আশুলিয়া থানা সংলগ্ন এলাকায় নির্বিচারে গুলিবর্ষণে নিহত ছয়জনের মরদেহ একটি ভ্যানে তুলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার নৃশংস ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় মোট সাতজন নিহত হন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া শেষে ট্রাইব্যুনাল এ রায় ও মুক্তির আদেশ দেন।