শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন
Title :
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে আর যাই হোক বিচারের রায় ঘোষণা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। জনসমক্ষে খেলনা অস্ত্রে আতঙ্ক সৃষ্টি: বিনোদনের আড়ালে ভয়ংকর আইনি অপরাধ সংবিধান প্রণয়ন ও স্বাধীন রাষ্ট্রগঠনে এক অনন্য রূপকার: এ এইচ এম কামারুজ্জামান আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে মো. হাবিবুল গনির নিয়োগ: কর্মজীবন ও একটি যুগান্তকারী রায়ের পর্যালোচনা আইন পেশায় সফলতার মূলমন্ত্র মেধা, সততা ও পরিশ্রম: নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী হিমালয়ের বিপর্যয়: নেপালের আকস্মিক বন্যা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এক চূড়ান্ত সতর্কবার্তা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়ছে ‘ক্যাসকেডিং হ্যাজার্ড’, চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ ভাটির দেশগুলো বিচারক-গাড়িচালকের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ কাপ্তাই হ্রদে জেলেদের প্রাণরক্ষায় ৬৬ বজ্র নিরোধক নিরাপত্তার নতুন উদ্যোগ, তবে প্রয়োজন আগাম সতর্কবার্তাও বাংলাদেশে ঢুকবে নেপালের পাহাড়ি ঢল, দেওয়া হলো পানির গতিপথ নেপালে হঠাৎ প্রলয়ংকরী বন্যা: বৃষ্টি ছাড়াই ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যে কী?

জনসমক্ষে খেলনা অস্ত্রে আতঙ্ক সৃষ্টি: বিনোদনের আড়ালে ভয়ংকর আইনি অপরাধ

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

জনসমক্ষে খেলনা অস্ত্রে আতঙ্ক সৃষ্টি: বিনোদনের আড়ালে ভয়ংকর আইনি অপরাধ

​নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত বার্তাঃ২৯ আগস্ট ২০২৬ 

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন এবং তথাকথিত ‘প্রাঙ্ক’ বা বিনোদনমূলক ভিডিও বানানোর নামে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির এক ভয়ংকর প্রবণতা সম্প্রতি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে খেলনা বন্দুক হাতে দুই তরুণের ঘুরে বেড়ানো এবং সাধারণ মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে অভিনয় করে ধারণ করা একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

​ভিডিওটি নির্মাতাদের দাবি, এটি নিছকই ‘ফানি ভিডিও’ বা মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য তৈরি। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনোদনের মোড়কে এটি কেবল একটি স্থূল রসিকতাই নয়, বরং দেশের প্রচলিত আইনে এটি একটি সুস্পষ্ট ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

​ঘটনার বিবরণ: যা দেখা গেছে ভিডিওতে

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৩৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কালো রঙের লম্বা কুর্তা-পায়জামা ও মাথায় টুপি পরিহিত দুই তরুণ (লিমন তোহা ও ইয়াসিন) কালো রঙের দুটি বড় বন্দুক হাতে নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কে (সাবেক শেখ রাসেল নহর পার্ক) এবং ব্যস্ত সড়কে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সামনে রিকশাচালক, পথচারী বা শিশু যাঁকেই পাচ্ছেন, হঠাৎ তাঁর দিকেই বন্দুক তাক করছেন। অনেকেই এতে থমকে যাচ্ছেন, কেউ আতঙ্কে সরে যাচ্ছেন।

​টিকটকে ‘ভাইবোন’ এবং ইনস্টাগ্রামে ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ নামক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রথম ছড়ানো হয়। ভিডিওর নির্মাতা লিমন তোহার দাবি, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাটক ও টিকটক ট্রেন্ড দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তিনি এটি বানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, বন্দুকটি ছিল খেলনা এবং তিনি মানুষের ভয়ের অংশটুকু প্রচার করে পরে তাঁদের হাসিমুখের দৃশ্যগুলো কেটে দিয়েছেন।

​আইনি বিশ্লেষণ: আইনের চোখে এটি কতটা গুরুতর?

​ আইনি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের একাধিক প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। খেলনা অস্ত্র ব্যবহার করা হলেও সাধারণ মানুষের মনে মৃত্যুভয় বা আঘাতের আতঙ্ক তৈরি করা কোনোভাবেই আইনসিদ্ধ নয়।

  • ​দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (The Penal Code, 1860): কোনো ব্যক্তিকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো বা তাঁর স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা দণ্ডবিধির ৩৩৯ ধারা অনুযায়ী ‘অবৈধ বাধা’ (Wrongful Restraint) এবং ৫০৩ ধারা অনুযায়ী ‘অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন’ (Criminal Intimidation)-এর শামিল। অস্ত্রটি আসল নাকি খেলনা, ভুক্তভোগী সেই মুহূর্তে তা যাচাই করতে পারেন না, তাই সৃষ্ট আতঙ্কই এখানে মূল অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। পাশাপাশি, জনসমক্ষে এমন কাজ জন-উপদ্রব বা ‘পাবলিক ন্যুইসেন্স’ (ধারা ২৬৮) হিসেবেও বিবেচিত।
  • ​সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক আইনি মত তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ভয় দেখিয়ে মানুষের প্যানিক হওয়ার ভিডিও ধারণ করে তা তাঁদের অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া সাইবার সিকিউরিটি আইনের আওতায় পড়ে। এটি ডিজিটাল মাধ্যমে মানহানি এবং নাগরিকের গোপনীয়তা (Privacy) লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অপরাধ।
  • ​রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও গুজব: দেশে যখন অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে নানামুখী উদ্বেগ রয়েছে, তখন এ ধরনের ভিডিও জনমনে আইনশৃঙ্খলার অবনতি সংক্রান্ত গুজব ও ভীতি ছড়াতে পারে, যা জননিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকিস্বরূপ।

​পুলিশের ভূমিকা ও প্রশাসনের দায়বদ্ধতা

​ভিডিও নির্মাতা লিমনের দাবি, ভিডিও ধারণের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে ছিল এবং খেলনা বন্দুক বুঝতে পেরে তারা কিছু বলেনি। তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো ভিডিও বা ঘটনার বিষয়ে তাঁরা অবগত নন এবং পার্ক কর্তৃপক্ষ বা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাও কিছু জানাননি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

​প্রকাশ্যে এমন একটি স্পর্শকাতর মহড়া চলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি না থাকাটা প্রশাসনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

​ঘটনার প্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষণ

​ডিজিটাল যুগে কনটেন্ট ক্রিয়েশনের নামে অন্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তি বিঘ্নিত করার কোনো অধিকার কারও নেই। বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ বা টিকটকের ‘ভিউ’ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় দেশের আইনকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের এই প্রবণতা কঠোর হস্তে দমন করা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের জীবনের স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের ‘প্রাঙ্ক’ ভিডিওর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বপ্রণোদিত (Suo Moto) আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট