মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন
Title :
জরুরি প্রস্তুতিতে খাবার-পানি মজুদের হিড়িক: আসন্ন কোনো বিপর্যয়, নাকি বৈশ্বিক আত্মরক্ষার আগাম কৌশল শৃঙ্খল ভেঙে সাফল্যের শিখরে ব্যারিস্টার আঞ্জুমান আরা লিমার হার না মানা জীবনযুদ্ধ সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলা: রিমান্ডে দিশা আইনজীবী হলেই জনস্বার্থের দোহাই দিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা যায় না: হাইকোর্ট মিরপুরে ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, এলাকা রণক্ষেত্র শুধু নথিপত্র যাচাইয়ের অজুহাতে পুরোনো কর নির্ধারণ পুনরায় খোলার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট ডিজিটালাইজেশন ও আইনজীবী কল্যাণে ঢাকা ট্যাক্সেস বার: ওকালতনামায় কিউআর কোড সংযোজন, চিকিৎসা সুবিধা ও স্থায়ী ঠিকানার স্বপ্নপূরণ পুলিশের ধাওয়ায় তুরাগে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তাহসিফ? দীপের বক্তব্যে নতুন তথ্য, পুরোপুরি আশ্বস্ত নয় পিবিআই একসঙ্গে দুই পেশা: সরাইল থানার ওসির বিরুদ্ধে আইনজীবী সমিতির শোকজ মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান-জিয়াউলদের বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন বার কাউন্সিলে নাকচ

জরুরি প্রস্তুতিতে খাবার-পানি মজুদের হিড়িক: আসন্ন কোনো বিপর্যয়, নাকি বৈশ্বিক আত্মরক্ষার আগাম কৌশল

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

জরুরি প্রস্তুতিতে খাবার-পানি মজুদের হিড়িক: আসন্ন কোনো বিপর্যয়, নাকি বৈশ্বিক আত্মরক্ষার আগাম কৌশল?

​আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আদালতবার্তাঃ৩ নভেম্বর ২০২৬

​হঠাৎ করেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের বাড়িতে জরুরি খাদ্য, পানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুত রাখার কড়া পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে সরকারের আহ্বানের পরপরই সুপারশপগুলোতে টিনজাত খাবার, টর্চলাইট, পাওয়ার ব্যাংক ও রেডিও কেনার ধুম পড়েছে। সাধারণ মানুষের মনে একটাই বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—তবে কি পৃথিবী আসন্ন কোনো মহাযুদ্ধ বা ভয়ংকর মহাবিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে? নাকি এটি আধুনিক বৈশ্বিক সংকটের নতুন প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা?

​বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ও সরকারি নির্দেশিকাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হলো বিশেষ প্রতিবেদন।

​কেন এই তোড়জোড়: কোন দেশ কত দিনের প্রস্তুতি নিচ্ছে?

​বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী প্রস্তুতির মেয়াদে পার্থক্য রয়েছে:

  • ​যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ও জাপান (৩ দিন বা ৭২ ঘণ্টা): ব্রিটিশ সরকার সম্প্রতি ‘বি রেডি’ (Be Ready) ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। এর আওতায় প্রতি নাগরিকের জন্য দৈনিক ৩ লিটার পানীয় জল, অপচনশীল শুকনো খাবার, পাওয়ার ব্যাংক এবং ব্যাটারি বা হাতল ঘোরানো অ্যানালগ রেডিও মজুত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
  • ​সুইডেন ও নরওয়ে (৭ দিন): নর্ডিক দেশগুলো তাদের নাগরিকদের অন্তত এক সপ্তাহের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সুইডেনের নাগরিক প্রতিরক্ষা নির্দেশিকায় জরুরি সংকটের পাশাপাশি সরাসরি ‘যুদ্ধাবস্থা’ মোকাবিলার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
  • ​জার্মানি (১০ দিন): জার্মানির বেসামরিক সুরক্ষা সংস্থা নাগরিকদের অন্তত ১০ দিনের পুষ্টিকর খাদ্য ও পানীয় মজুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে।
  • ​যুক্তরাষ্ট্র (সামরিক স্তরে ৯০ দিন): সাধারণ নাগরিকদের জন্য ‘Ready.gov’ এর মাধ্যমে ৩ দিনের প্রস্তুতির কথা বলা হলেও, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর তাদের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোর জন্য চালু করেছে ‘ফোর্ট্রেস আমেরিকা’ (Fortress America) প্রকল্প। এর লক্ষ্য—বাইরের সমস্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও যেন গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো অন্তত ৯০ দিন পূর্ণ সচল থাকতে পারে।

​কীসের আশঙ্কা: আসল কারণ কী?

​আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সতর্কবার্তা কোনো একক অলৌকিক দুর্যোগ বা নিশ্চিত মহাযুদ্ধের পূর্বাভাস নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে একাধিক আধুনিক ও বহুমুখী ঝুঁকি:

  1. ​হাইব্রিড ও সাইবার যুদ্ধ: আধুনিক বিশ্বে বিদ্যুৎ গ্রিড, সুপেয় পানির প্ল্যান্ট, ব্যাংকিং এবং ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক পরস্পরের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। বড় ধরনের সাইবার হামলায় জাতীয় গ্রিড বা যোগাযোগ ব্যবস্থা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে পড়তে পারে।
  2. ​চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু বিপর্যয়: আকস্মিক বন্যা, অস্বাভাবিক তীব্র তুষারপাত বা প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জরুরি উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে দুর্গতদের কাছে পৌঁছাতে পারে না।
  3. ​ইউরোপীয় ভূরাজনীতি ও সংঘাতের শঙ্কা: ইউরোপীয় কমিশন তাদের ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ইউনিয়ন স্ট্র্যাটেজি’ (Preparedness Union Strategy)-র আওতায় নাগরিকদের সতর্ক করছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে নর্ডিক ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার একটি মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক প্রস্তুতি জারি রয়েছে।

​আতঙ্ক নাকি সতর্কতা?

​যুক্তরাজ্যে সরকারের ঘোষণার পর ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ম্যাপলিন ও রবার্ট ডায়াসে রেডিওর বিক্রি ৯২ থেকে ১৬০ শতাংশ এবং টর্চলাইটের বিক্রি প্রায় ২৮৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। তবে ব্রিটিশ প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, এটি কোনো ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কে বাজারে হুলস্থুল করার আহ্বান নয়।

​জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর যুক্তি সহজ: কোনো আকস্মিক বিপর্যয় বা ব্ল্যাকআউটে যদি সাধারণ পরিবারগুলো অন্তত ৭২ ঘণ্টা নিজেরা চলতে পারে, তবে রাষ্ট্রীয় উদ্ধারকারী দলগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা বয়োবৃদ্ধ ও শিশুদের জীবন রক্ষায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে পারবে।

​ঘরে জরুরি ‘সারভাইভাল কিট’ হিসেবে কী কী রাখা প্রয়োজন?

​আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর তালিকা অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারে প্রস্তুত রাখা উচিত:

  • ​পানি ও খাবার: মাথাপিছু প্রতিদিন ৩ লিটার খাবার পানি (অন্তত ৩ দিনের) এবং সহজে রান্না ছাড়া খাওয়া যায় এমন টিনজাত বা শুকনো খাবার।
  • ​যোগাযোগ ও আলো: ব্যাটারিচালিত বা হ্যান্ড-ক্র্যাঙ্ক রেডিও (মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হলে খবর পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম), টর্চলাইট, মোমবাতি ও অতিরিক্ত ব্যাটারি।
  • ​পাওয়ার ব্যাংক: পূর্ণ চার্জ দিয়ে রাখা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার ব্যাংক।
  • ​ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা: অ্যান্টিসেপটিক, গজ, ব্যান্ডেজ, পেইনকিলার এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত প্রেসক্রিপশনের জরুরি ওষুধ।
  • ​অফলাইন নথিপত্র: ডায়রিতে হাতে লেখা গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর, নগদ কিছু অর্থ ও প্রয়োজনীয় সনদের হার্ডকপি।

​বিশ্ব পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। যুদ্ধ, দুর্যোগ বা অবকাঠামোগত বিপর্যয় কখন কোন রূপ নেবে তা নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব। তাই বিভিন্ন দেশের এই উদ্যোগ কোনো নির্দিষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের পূর্বাভাস নয়, বরং যেকোনো বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক সংকটে নিজস্ব সুরক্ষার আধুনিক ঢাল।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট