1. multicare.net@gmail.com : আদালত বার্তা :
ট্রাইব্যুনালে এলেই অসুস্থতা: বিচার এড়াতে ‘রোগের নাটক’, বলছে প্রসিকিউশন - আদালত বার্তা
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ট্রাইব্যুনালে এলেই অসুস্থতা: বিচার এড়াতে ‘রোগের নাটক’, বলছে প্রসিকিউশন ঢাকায় সাংবাদিকতা সম্মেলনে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের তাগিদ ঢাকা-ইসলামাবাদ সমঝোতা, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারত ঘিরে পাকিস্তানের নতুন বার্তা, হাইকোর্টে একদিনে ৫ হাজারেরও বেশি মামলা নিষ্পত্তি চীন সফরে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী — তিস্তা সমস্যা নিয়ে ভারতের জন্য বসে থাকা চলবে না বাংলাদেশে কেমিক্যালমুক্ত আম: নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্যের প্রশ্ন সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা, হচ্ছে যাচাই-বাছাই প্রথম সফর নিয়ে জটিলতা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে ভারতের আস্থাহীনতায় সরকার ঢাকার রাস্তায়  ট্রাফিক সিস্টেমে নতুন  বাস্তবতা AI ক্যামেরা। সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের দীর্ঘ কারাবাস:আইনের অপব্যবহার নিয়ে আইনজীবীদের উদ্বেগ।

ট্রাইব্যুনালে এলেই অসুস্থতা: বিচার এড়াতে ‘রোগের নাটক’, বলছে প্রসিকিউশন

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

ট্রাইব্যুনালে এলেই অসুস্থতা: বিচার এড়াতে ‘রোগের নাটক’, বলছে প্রসিকিউশন
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ১০ মে ২০২৬
কারাগারে স্বাভাবিক চলাফেরা। প্রিজনভ্যানে ওঠা-নামাতেও নেই দৃশ্যমান সমস্যা। অথচ ট্রাইব্যুনালে হাজিরার দিনই সামনে আসে ক্যানসার, লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ কিংবা জটিল শারীরিক অসুস্থতার কথা। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার একের পর এক আসামির স্বাস্থ্য প্রতিবেদন ঘিরে এবার প্রশ্ন তুলছে প্রসিকিউশন। তাদের দাবি, গুরুতর রোগের কথা বলে বিশেষ সুবিধা বা জামিন চাওয়া হলেও জমা দেওয়া চিকিৎসা নথির সঙ্গে মিলছে না বহু তথ্য। কোথাও রোগের বর্ণনার সঙ্গে মিল নেই হাসপাতালের প্রতিবেদনের, কোথাও আবার জেলহাজতে থাকার সময়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিদেশি হাসপাতালের কাগজ।
বিচার বিলম্বিত করতেই কয়েকজন আসামি এমন জটিল রোগকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন— দাবি প্রসিকিউশনের। তবে আসামিপক্ষ বলছে, চিকিৎসা নথি যথাযথ। বরং তাদের উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। সবমিলিয়ে অসুস্থতা কি বাস্তব, নাকি বিচার এড়ানোর নতুন ঢাল; সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালপাড়ায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। আছেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও। তবে, বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের কথা লিখে জামিনসহ বিশেষ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল ও আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী। ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ নিজেদের খরচে নিয়োগ করা আইনজীবীদের মাধ্যমে এসব আবেদন করেন তারা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কামরুল ইসলাম ও এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীসহ একাধিক হাই-প্রোফাইল আসামি ক্যানসার বা লিভার সিরোসিসের মতো জটিল রোগের অজুহাতে জামিন বা বিশেষ চিকিৎসা সুবিধা চাইছেন। তবে প্রসিকিউশনের দাবি, কারাগারে স্বাভাবিক চলাফেরা করা এই আসামিদের দাখিল করা চিকিৎসা নথিতে অসংখ্য অসংগতি ও সন্দেহজনক তথ্য রয়েছে, যা বিচার বিলম্বিত করার কৌশল হতে পারে
জানা গেছে, ‘পাকস্থলীর ক্যানসারে’ (গ্যাস্ট্রিক ক্যানসার) আক্রান্ত বলে বেসরকারি হাসপাতাল এভারকেয়ারে চিকিৎসার অনুমতি পান কামরুল ইসলাম। গত ৯ এপ্রিল এ আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। তবে, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি যাচাই করতে গিয়ে একাধিক অসংগতি পেয়ে আদেশটি পুনর্বিবেচনার আবেদন করে প্রসিকিউশন। গেল ৩০ এপ্রিল এ নিয়ে দীর্ঘ শুনানি শেষে আগের আদেশ স্থগিত করে এসব নথির উৎস ও সত্যতা ব্যাখ্যা করতে তার আইনজীবীদের ১৫ দিনের সময় দেন আদালত
শাপলা চত্বরের মামলায় বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন সাংবাদিক ফারজানা ও বাবু
‘জঙ্গি হিসেবে স্বীকারোক্তি দিবি, নয়তো পাগল বানিয়ে ছেড়ে দেব’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের হেভিওয়েট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের বিচার কার্যক্রম চলছে
ঢাকা পোস্টের হাতে আসা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১২ ও ১৫ ফেব্রুয়ারির দুটি চিকিৎসা প্রতিবেদন জমা দেন কামরুল ইসলামের আইনজীবীরা। এর একটি কামরাঙ্গীরচরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসকের নামে, অন্যটি সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালের। অথচ ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কারাগারে আছেন কামরুল ইসলাম। জেলহাজতে থাকা অবস্থায় কীভাবে বিদেশি হাসপাতালের চিকিৎসা নথি সংগ্রহ হলো, আর কোন প্রক্রিয়ায় এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হলো; এমন প্রশ্ন সামনে আসে। এছাড়া, চিকিৎসার ধরন ও রোগ নির্ণয়ের উপস্থাপন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে প্রসিকিউশন। এমনকি রোগীকে সরাসরি পরীক্ষা ছাড়া কিংবা চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে কীভাবে এসব কাগজ তৈরি হলো— তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
‘না করলেও গুলি নিয়ে যেতে বলেন ওসি স্যার, নিরুপায় হয়ে…’
কারাগারে বসেই সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিলেন কামরুল!
শুধু সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামই নন, একই ধরনের চিকিৎসাজনিত আবেদন ঘিরে আলোচনায় এসেছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারীও। ‘লিভার সিরোসিসে’ আক্রান্ত দাবি করে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি জুলাই হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো শর্তসাপেক্ষে জামিন পান তিনি। তবে, তথ্য গোপন করায় মেলেনি মুক্তি। এমনকি স্থগিত হয় জামিন আদেশও। গেল ৪ মে এ মামলায় তার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন দাখিলকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল-২ এ দীর্ঘ শুনানি হয়। হাসপাতালকে কড়া নির্দেশনার দুই ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও রোগ নির্ণয়ে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন। এ নিয়ে চূড়ান্ত শুনানি হবে আগামী ১১ মে। ওই দিন নির্ধারিত হতে পারে হুমায়ুন কবিরের জামিনের ভবিষ্যৎ।
এছাড়া, শাপলা চত্বরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামিন চেয়েছেন আবদুল জলিল। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন দাবি করে গত ৬ মে ট্রাইব্যুনাল-১ এ নিজের মক্কেলের জামিন শুনানি করেন তার আইনজীবী মো. আলী হায়দার। তবে, স্বাস্থ্য প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অবস্থা সংকটাপন্ন নয় বলে আবেদনটি বিবেচনায় নেননি ট্রাইব্যুনাল। এমনকি সামান্য আঘাত পেলেও বড় ‘ইস্যু’ বানিয়ে ট্রাইব্যুনালের কাছে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার আর্জি জানান ফজলে করিমের আইনজীবী রিজওয়ানা সিদ্দিক। একই ধরনের আবেদন করেছেন শহীদুল হকও।
প্রসিকিউশন অভিযোগ করেছে যে, ট্রাইব্যুনালে হাজিরার দিনই আসামিদের অসুস্থতার কথা সামনে আসছে, যা একটি ‘ট্রেন্ডে’ পরিণত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম সিঙ্গাপুরের হাসপাতালের যে নথি জমা দিয়েছেন, তা তিনি কারাবন্দি থাকার সময়ের। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিচার বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া ভুয়া বা সন্দেহজনক কাগজপত্র অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই করা হচ্ছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে সংঘটিত একটি মামলায় ফজলে করিমসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। তবে, গ্রেপ্তার রয়েছেন চারজন। গত ৩ মে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ওই দিন সার্ভাইক্যাল কলার বা ঘাড় ব্যথার বেল্ট পরতে দেখা যায় ফজলে করিমকে। ট্রাইব্যুনাল-২ এর কাঠগড়ায় তোলার পর আইনজীবীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথাও বলেন তিনি। কিন্তু বিচারকাজ ‍শুরু হতেই নিজের মক্কেলের অসুস্থতার কথা জানান আইনজীবী এম হাসান ইমাম। তার সঙ্গে কাউকে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তোলা হয়। ফজলে করিমের আরেক আইনজীবী রিজওয়ানা সিদ্দিক জানান, ১৯ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়ার পথে তার মক্কেল আহত হন। এরপর তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে এমআরআই পরীক্ষা করানো হয়। তার বয়স ৭৩ বছর। এজন্য তার বিশেষ চিকিৎসার আবেদন করা হয়।
কারাগার সূত্র জানায়, বর্তমানে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারের অধীনে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কামরুল, হুমায়ুন ও ফজলে করিম। আবদুল জলিলের দিন কাটছে কেন্দ্রীয় কারাগারে। আর বিশেষ কারাগারেই রয়েছেন শহীদুল হক। তবে, কারাগারে থাকা কোনো আসামি হঠাৎ অসুস্থ হলে প্রাথমিক চিকিৎসা কারা হাসপাতালেই দেওয়া হয়। জটিল রোগ হলে কারাবিধি অনুযায়ী বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ বা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
যেভাবে নিরপরাধ মানুষকে গুম করে ‘জঙ্গি’ বানানো হতো
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় ঢাকা পোস্টের। তিনি জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালে বিশেষ সুবিধা বা জামিন চাওয়া এসব আসামির এমন জটিল কোনো সমস্যা তাদের নজরে পড়েনি। বয়সজনিত কারণে কিছু সমস্যা থাকতে পারে। তবে যতটুকু অসুস্থ নন, এর চেয়ে বেশি অসুস্থতা হিসেবে তাদের আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালকে জানান বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা। অর্থাৎ জটিল রোগ না হলেও বাড়িয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা নিতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো ভুয়া বা জাল কাগজপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন কামরুল ইসলামের আইনজীবী আফতাব মাহমুদ চৌধুরী। প্রসিকিউশনের তোলা অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, ‘জমা দেওয়া কাগজপত্র যে সঠিক, তা প্রমাণ করতে আমাদের ১৫ দিনের সময় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আমরা সবকিছুর ব্যাখ্যা দেব। তবে, এ সময়ে বাংলাদেশ মেডিকেলেই  চিকিৎসাধীন থাকবেন কামরুল ইসলাম।’
তার মক্কেলের শারীরিক পরীক্ষার জন্য কিছু নমুনা সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেলে পাঠান কারা কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব নমুনা সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেগুলোর প্রতিবেদন আসে। এছাড়া, কারা কর্তৃপক্ষের অধীনে চিকিৎসাধীন তার মক্কেল। তাই ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে থাকা চিকিৎসকের বিএমডিসি নম্বর অনলাইনে খুঁজলে পাওয়া যাবেকামরুল ইসলামের আইনজীবী আফতাব মাহমুদ চৌধুরী
‘তার মক্কেলের শারীরিক পরীক্ষার জন্য কিছু নমুনা সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেলে পাঠান কারা কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব নমুনা সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেগুলোর প্রতিবেদন আসে। এছাড়া, কারা কর্তৃপক্ষের অধীনে চিকিৎসাধীন তার মক্কেল। তাই ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে থাকা চিকিৎসকের বিএমডিসি নম্বর অনলাইনে খুঁজলে পাওয়া যাবে’— দাবি করেন তিনি
উন্নত চিকিৎসার জন্য কামরুল ইসলামকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার আদেশ এবং পরবর্তীতে স্থগিত (রিকল) হওয়ার বিষয়েও কথা বলেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত চিকিৎসার ইকুইপমেন্ট না থাকায় তারা এভারকেয়ারে চিকিৎসার আবেদন করেছিলেন। গত ২৬ এপ্রিল এভারকেয়ারে নেওয়ার আদেশের কপি পান তারা। কিন্তু প্রসিকিউশন এই আদেশের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন দেওয়ায় ৩০ এপ্রিল তা প্রত্যাহার করেন ট্রাইব্যুনাল।’
প্রশ্নের মুখে ট্রাইব্যুনাল, স্বচ্ছ তদন্তের তাগিদ
জিয়াউল আহসান : ঝুলিতে বহু অর্জন, অভিযোগেরও নেই অন্ত
প্রসিকিউশন জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিদের প্রায় সবাই এখন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এটি একরকম ‘ট্রেন্ড’ হয়ে যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো অসুস্থতার আবেদন আসছে ট্রাইব্যুনালে। মূলত জামিন নেওয়ার জন্যই এ কৌশল অবলম্বন করছেন তারা। এছাড়া, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের সময় যেন আসা না লাগে, সেজন্যও তারা এমন অজুহাত দেখাতে পারেন। কারণ, আসামি হাজির না হওয়ায় একটি মামলায় আদেশের তারিখ তিনবার পরিবর্তন হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষও এসবের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা তাদের। কারণ, প্রসিকিউশনকে কোনো কিছু না জানিয়েই এসব আসামিকে প্রিজন হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছেন কারা কর্তৃপক্ষ। অথচ এ কাজটি আদালতের অনুমতি নিয়ে করতে হয়।
জানতে চাইলে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘লক্ষ্মীপুরের একটি মামলায় অসুস্থতার কথা বলে কাগজপত্র সংগ্রহ করে জামিন নিয়েছিলেন হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী। কিন্তু নিজের নামে থাকা অন্যান্য মামলার তথ্য গোপন করেন তিনি। এছাড়া, তার মেডিকেল রিপোর্টটি সঠিক নয় বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। কারণ, সেটি কোনো বিশেষজ্ঞের চিকিৎসাপত্র ছিল না। তখন প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধানকে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেন ট্রাইব্যুনাল-২। অর্থাৎ লিভার সিরোসিসের মতো যদি রোগ হয়ে থাকে, তাহলে যেন তাকে পরিপূর্ণ চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন পর প্রতিবেদন এলেও কিছু অসংগতি পাওয়া যায়।’ তার দাবি, আসামিপক্ষ আগে থেকেই জানতেন এ প্রতিবেদনটি সঠিক নয়।
সত্যিকার অর্থে অসুস্থ বা প্রকৃত কোনো কাগজপত্র আমরা এখন পর্যন্ত কারও পক্ষ থেকেই পাইনি। আমরা অত্যন্ত সচেতনার সঙ্গে কাজ করছি। কারণ, আসামিপক্ষ থেকে সত্য-মিথ্যাসহ নানা আবেদন আসতে পারে। কিন্তু আমরা যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাইব্যুনালে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের চেষ্টা করি। আসলে এ ধরনের মিথ্যা কাগজপত্র দেখানোর মাধ্যমে বিচার বিলম্বিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন তারা। তবে, আমরা কোনোভাবেই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে দেব নাচিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম
এখন থেকে যেকোনো আসামি এমন চিকিৎসার কথা বললে ভালোভাবে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আমাদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর। আগামীতে এমন কোনো আবেদন এলে তাকে না দেখিয়ে বা তাঁর কনসার্ন ছাড়া যেন শুনানি না হয়। তবে, প্রকৃতপক্ষে কেউ অসুস্থ হলে তার চিকিৎসা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তাদের যেকোনো সেবা দিতে সরকার বাধ্য। একজন অসুস্থ আসামির যতটুকু চিকিৎসা প্রয়োজন, ততটুকুই আমরা ব্যবস্থা করি।
এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, “গ্রেপ্তার আসামিদের অনেকেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা বলেন। তারা জামিনের আবেদন করেন। এর মধ্যে অন্যতম সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তিনি দাবি করেছিলেন তার গ্যাস্ট্রিক ক্যানসার। ‘তথাকথিত’ এ রোগের কথা বলে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু এভারকেয়ারে চিকিৎসা নেওয়ার আবেদন করেন তার আইনজীবী। এ নিয়ে আদেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তবে, বিষয়টি নজরে আসতেই দেখি এভারকেয়ার হাসপাতালে কোনো প্রিজন সেল নেই। সেক্ষেত্রে আমাদের নিরাপত্তা দেওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া, আবেদনে উল্লেখিত রোগের নাম দেখে কিছুটা অসংগতি মনে হয়েছিল। একই সঙ্গে দাখিল করা কাগজপত্রগুলো সন্দেহজনক ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রসিকিউশনের আপত্তিতে তার এ আদেশটি বাতিল করেন আদালত।”
মাথায় বালিশ ঠেকিয়ে গুলি, কাটা হতো পেট, এরপর ফেলে দেওয়া হতো নদীতে
‘চোখের কাপড় সরাতেই দেখি মানুষের হাত-পা কাটা ছবি’
‘হুমায়ুন কবিরের পাটোয়ারীর স্বাস্থ্য প্রতিবেদনটিও আমরা দেখেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে লিভার সিরোসিস বা যেসব রোগের কথা তিনি বলেছেন, তার কোনোটিই সঠিক নয়। একইভাবে আবদুল জলিল মণ্ডলও অসুস্থতার আবেদন দিয়েছেন। অথচ গ্রেপ্তার হওয়ার আগে এত বছর তিনি ভালোই ছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হতেই তিনি হার্টের রোগী হয়ে গেলেন। তবে, তার কাগজপত্রও আমরা সঠিক পাইনি। ফজলে করিমের ক্ষেত্রেও আমরা এমন কিছু দেখেছি। আমরা সিসিটিভির ফুটেজে দেখেছি যে, বেশ স্বাভাবিকভাবেই প্রিজনভ্যানে উঠছেন-নামছেন তিনি। হাজতখানার ভেতরেও হাসি-খুশি থাকেন। কিন্তু যখনই এজলাসে তোলা হয়, তখন আইনজীবীরা এমনভাবে তাদের অসুস্থ হিসেবে আখ্যায়িত করেন যেন তারা বড় কোনো রোগে আক্রান্ত।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে অসুস্থ বা প্রকৃত কোনো কাগজপত্র আমরা এখন পর্যন্ত কারও পক্ষ থেকেই পাইনি। আমরা অত্যন্ত সচেতনার সঙ্গে কাজ করছি। কারণ, আসামিপক্ষ থেকে সত্য-মিথ্যাসহ নানা আবেদন আসতে পারে। কিন্তু আমরা যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাইব্যুনালে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের চেষ্টা করি। আসলে এ ধরনের মিথ্যা কাগজপত্র দেখানোর মাধ্যমে বিচার বিলম্বিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন তারা। তবে, আমরা কোনোভাবেই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে দেব না।’

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট