সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন
Title :
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার রায় যেকোনো দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা র‍্যাব বিলুপ্ত, পুলিশের অধীনে নতুন বাহিনী এসআরবি চূড়ান্ত অনুমোদন মন্ত্রিসভায়—বদলাবে কাঠামো, থাকবে বিশেষ অভিযান ও তদন্তের ক্ষমতা যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া আজই শেষ হতে পারে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতে হবে: আলবার্টার প্রিমিয়ার ২০২৭ সালের সম্ভাব্য রমজান ও ঈদুল ফিতরের সময়সূচি প্রকাশ শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে চমকপ্রদ তথ্য কিছু হলেই আওয়ামী লীগকে পেটাতে হবে, এই জুলুম বন্ধ করেন ভাই: ফাহাম সরকারি প্রকল্পে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে ঠিকাদারদের তথ্য চেয়েছে এনবিআর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ও মানুষের প্রতি অঙ্গীকার। ধানমন্ডি ৩২-এ ‘রাজনৈতিক সন্দেহে’ সাধারণ মানুষকে মারধরের অভিযোগ, আয়াসকে গ্রেপ্তারের দাবি

নিজেদের প্রণীত আইনেই মানবতাবিরোধী অভিযোগে বিচারের মুখে আ.লীগ: নিষিদ্ধ ঘোষণার আইনি পথ কতটা বাস্তবসম্মত?

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১২২ বার পড়া হয়েছে

নিজেদের প্রণীত আইনেই মানবতাবিরোধী অভিযোগে বিচারের মুখে আ.লীগ: নিষিদ্ধ ঘোষণার আইনি পথ কতটা বাস্তবসম্মত?

নিউজ ডেস্ক, আদালত বার্তাঃ ৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিদ্যমান আইনের বিধান অনুযায়ী দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল এবং দলীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ মূলত ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণের জন্য প্রণীত হলেও ২০১৩ সালে আইনের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের মাধ্যমে এর পরিধি সম্প্রসারিত করা হয়। ওই সংশোধনের মাধ্যমে আইনের ধারা ২-এ “person” বা “ব্যক্তি” সংজ্ঞার মধ্যে “organization” বা “সংগঠন” শব্দটি যুক্ত করা হয়। এর ফলে কোনো সংগঠন, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক দলকেও এই আইনের আওতায় আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে স্বাধীনতার পরপরই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে এই আইন প্রণয়ন করে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে একই দলের সরকার আইনে সংশোধন এনে এর প্রয়োগ ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই সংশোধিত আইনই দলটির বিরুদ্ধে প্রয়োগের প্রশ্ন সামনে এসেছে।
আইনজ্ঞদের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী যদি কোনো সংগঠনকে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত হিসেবে প্রমাণ করা যায়, তাহলে ট্রাইব্যুনাল সেই সংগঠনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদেশ দিতে পারে। যদিও আইনে সরাসরি “রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ” শব্দবন্ধ নেই, তবে দণ্ডবিধি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত আইনি কাঠামোর সাথে সমন্বয় করে সরকার প্রশাসনিক ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারে।
এছাড়া, সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে সংগঠন ও সমিতি গঠনের স্বাধীনতা থাকলেও “জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে” এই অধিকার সীমাবদ্ধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে রাষ্ট্র যদি প্রমাণ করতে পারে যে কোনো দল রাষ্ট্রবিরোধী বা মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাহলে সাংবিধানিকভাবেও নিষেধাজ্ঞার পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত। যদি আদালতের রায় বা তদন্তের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় যে দলটি গুরুতর অপরাধে জড়িত, তাহলে নির্বাচন কমিশন আইনগত প্রক্রিয়ায় দলটির নিবন্ধন বাতিল করতে পারে।
তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে বিতর্কও কম নয়। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এর জন্য সুস্পষ্ট প্রমাণ, স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি।
সার্বিকভাবে, যে আইন একসময় আওয়ামী লীগ সরকার নিজেই প্রণয়ন ও সংশোধন করেছিল, সেই আইনই এখন দলটির বিরুদ্ধে প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করেছে—যা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে এক নতুন বাস্তবতা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট