
বিশেষ প্রতিবেদন
আদালত বার্তা ডেস্ক:৬ নভেম্বর ২০০২৬
বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় অনুশীলনরত আইনজীবীদের পেশাগত অবস্থান ও শুনানির এখতিয়ার নির্ধারণে একটি সুনির্দিষ্ট ‘৫ স্তরের পদমর্যাদাক্রম’ (5 Levels of Hierarchy) প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এই স্তরবিন্যাস কেবল কোনো আনুষ্ঠানিক উপাধি বা আলংকারিক পরিচয় নয়; বরং তা একজন আইনজীবীর দীর্ঘদিনের পেশাগত সততা, অভিজ্ঞতা, আইনগত যোগ্যতা এবং বিভিন্ন আদালতে শুনানির অধিকার (Right of Audience) নিশ্চিত করে।
অধস্তন আদালত থেকে সর্বোচ্চ বিচারালয় পর্যন্ত এই স্তরগুলোতে পৌঁছাতে একজন আইনজীবীকে নির্দিষ্ট আইনি পরীক্ষা, অভিজ্ঞতা এবং বার কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্টের কঠোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
আইনজীবীদের পেশাগত চর্চা, আচরণবিধি, স্তরবিন্যাস এবং শুনানির এখতিয়ার মূলত চারটি প্রধান আইন ও বিধিমালার অধীন পরিচালিত হয়:
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (SCBA) মূলত লেভেল-১ থেকে লেভেল-৪ পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত প্র্যাকটিশনারদের নিয়ে গঠিত। দেশের সামগ্রিক আইনি ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ স্তরভিত্তিক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
|
স্তর |
পদবী ও কর্মক্ষেত্র |
আইনি ভিত্তি |
শুনানির অধিকার ও পেশাগত ভূমিকা |
|---|---|---|---|
|
লেভেল-০১ |
সিনিয়র অ্যাডভোকেট(আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ) |
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৮৮-এর অর্ডার IV, রুল ১০–১২ |
দেশের সর্বোচ্চ পেশাগত মর্যাদা। আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিটি কর্তৃক মেধা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মনোনীত। তাদের জুনিয়র অ্যাডভোকেট বা অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড ছাড়া সরাসরি কোনো মোকদ্দমা ফাইল করার এখতিয়ার থাকে না; তবে উভয় বিভাগে প্রধান শুনানিকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। |
|
লেভেল-০২ |
অ্যাডভোকেট(আপিল বিভাগ) |
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৮৮-এর অর্ডার IV, রুল ৩–৬ |
হাইকোর্ট বিভাগে পর্যাপ্ত বছর নিয়মিত প্র্যাকটিস এবং আপিল বিভাগের তালিকাভুক্তি কমিটির সাক্ষাৎকারে উত্তীর্ণ হওয়ার পর এই মর্যাদা মেলে। তারা আপিল বিভাগে এককভাবে শুনানি পরিচালনা করার পূর্ণ অধিকারী। |
|
লেভেল-০৩ |
অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড (AOR)(আপিল বিভাগ) |
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৮৮-এর অর্ডার IV, রুল ১৭–২২ |
আপিল বিভাগে মামলা দায়ের, নথিপত্র প্রস্তুত ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা বহনের জন্য সুনির্দিষ্ট সনদপ্রাপ্ত আইনজীবী। কেবল অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডের মাধ্যমেই আপিল বিভাগে মূল মামলা ফাইল বা মোশন পেশ করা যায়। |
|
লেভেল-০৪ |
অ্যাডভোকেট(হাইকোর্ট বিভাগ) |
দ্য বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ২১; এবং রুলস, ১৯৭২-এর রুল ৬৫এ |
অধস্তন আদালতে ন্যূনতম ২ বছরের নিয়মিত প্র্যাকটিস সম্পন্ন করে বার কাউন্সিলের হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়ে সনদপ্রাপ্ত হন। হাইকোর্ট বিভাগে মামলা দায়ের ও শুনানির পূর্ণ এখতিয়ার রাখেন। |
|
লেভেল-০৫ |
অ্যাডভোকেট(অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল) |
দ্য |
আইন পেশার প্রবেশদ্বার। স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.বি ডিগ্রি অর্জনের পর বার কাউন্সিলের প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জেলা জজ আদালত, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনালে প্র্যাকটিস শুরু করেন। বিচার প্রশাসন ও নবীন আইনজীবীদের জন্য গুরুত্বএই স্তরভিত্তিক কাঠামো বিচার প্রশাসনের কার্যকারিতা রক্ষার পাশাপাশি আইনি সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করে:
আইন পেশার এই সুশৃঙ্খল স্তরবিন্যাস কেবল একটি প্রশাসনিক নিয়ম নয়, বরং এটি বিচার ব্যবস্থার মর্যাদা, দক্ষতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। |