
মার্কিন ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’: ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বজুড়ে বন্ধ হচ্ছে সব ইরানি এয়ারলাইন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আদালত বার্তাঃ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) থেকে বিশ্বজুড়ে ইরানের সব বাণিজ্যিক এয়ারলাইনের কার্যক্রম বন্ধ হতে যাচ্ছে। ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ব্যাপক ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’ (দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা) আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
নিষেধাজ্ঞার আওতা ও ঝুঁকি
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেসব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও হাব ইরানি বিমানকে সেবা দেবে, তারা মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়বে। ইরানি বিমানকে জ্বালানি সরবরাহ, অবতরণের সুবিধা দেওয়া কিংবা যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন ডলার লেনদেন ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারাবে। তেহরানকে সহায়তাকারী তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক মধ্যস্থতাকারীদের ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে শনাক্ত করেছে এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
চীনের ভূমিকা ও কূটনৈতিক তৎপরতা
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা প্রসঙ্গে স্কট বেসেন্ট জানান, প্রকাশ্যে প্রদর্শনের পরিবর্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পর্দার আড়ালে নীরবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রক্রিয়ায় চীনের আর্থিক কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর প্যান গংশেং অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই নিষেধাজ্ঞা অভিযান ঠিক কতদিন চলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি তিনি।
প্রেক্ষাপট: ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’
চলমান ইরান-যুদ্ধের সপ্তম মাসে এসে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করার অংশ হিসেবেই এই নিষেধাজ্ঞা আসছে। ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’র আওতায় ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর একের পর এক কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা চরমে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ ও বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।