
হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএসনাউ ও পলিটিকো নিষিদ্ধ: ট্রাম্পের নিশানায় স্বাধীন সংবাদমাধ্যম
নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তাঃ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা সহ্য না করতে পারার বিষয়টি মোটেও নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করা থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে আক্রমণের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে তার। এবার তিনি সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএসনাউ ও পলিটিকোকে নিষিদ্ধ করার মতো কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, এসব সংবাদমাধ্যম তার প্রশাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ‘ফেক নিউজ’, ‘কল্পকাহিনি ও মিথ্যা’ প্রচার করে আসছে। এখানেই থেমে না থেকে তিনি ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে এমন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউসে এই নিষেধাজ্ঞা ঠিক কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু স্পষ্ট করেননি।
ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর প্রসঙ্গটি নতুন করে সামনে চলে এসেছে। মার্কিন সংবিধানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে। এমতাবস্থায় কেবল সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের দায়ে কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রেস অ্যাক্সেস বা প্রবেশাধিকার এভাবে সীমিত করা যায় কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষ থেকেও ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সংঘাতের পুরোনো ইতিহাস রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে তিনি ‘গালফ অব মেক্সিকো’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু স্বনামধন্য বার্তা সংস্থা এপি সেই পরিবর্তিত নাম অনুসরণ না করায় তিনি তাদের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন। যার পরিণতিতে পরবর্তীতে হোয়াইট হাউস এবং প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন ইভেন্টে এপি-র সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল।