বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
Title :
ফ্রিল্যান্সিং খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিপ্লব: টিকে থাকতে ফ্রিল্যান্সারদের করণীয় কী? প্রশিক্ষণ নিতে জাপান যাচ্ছেন ১৭ বিচারক ও ৬ আইনজীবী নস্টালজিয়ার এক ঝলক: পুরান ঢাকায় যখন দাপিয়ে বেড়াত ঐতিহ্যবাহী ‘মুড়ির টিন’ কেন আন্দোলনে যাবো না?’— ১৪ বছরের ইমনের রক্তাক্ত পরিণতির কথা ট্রাইব্যুনালে জানালেন মা স্নেহের আঁচলে মহত্তম আত্মত্যাগ: মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির তিন অমর শিক্ষিকা ও আমাদের বাস্তবতা বাধার পাহাড় পেরিয়েই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে হয় সংগ্রাম, ব্যর্থতা ও প্রতিকূলতাই মানুষকে সাফল্যের প্রকৃত মূল্য শেখায় দেনমোহর আদায়ে বাধ্য করা হলে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিতে পারবেন আদালত: হাইকোর্ট কর ফাঁকি ধরতে এনবিআরের এআই প্রযুক্তি: কড়া নজরে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরা কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার হয়ে সরাসরি চীন: বাংলাদেশের সামনে ভূ-অর্থনীতির নতুন দিগন্ত বৈধ ভিসা থাকলেই প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত নয়: দিল্লি হাইকোর্ট

ইতিহাসের পৃষ্ঠায় অমর নেতৃত্ব: খামেনি–খোমিনীর উত্তরাধিকার ও জনসমর্থনের প্রতিচ্ছবি

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ২২৫ বার পড়া হয়েছে

ইতিহাসের পৃষ্ঠায় অমর নেতৃত্ব: খামেনি–খোমিনীর উত্তরাধিকার ও জনসমর্থনের প্রতিচ্ছবি
নিউজ ডেস্ক,বিশেষ প্রতিবেদন আদালত বার্তাঃ ৪ জুলাই ২০২৬
সময় বদলায়, রাজনীতি পরিবর্তিত হয়, কিন্তু কিছু নেতৃত্ব ইতিহাসের গণ্ডি ছাড়িয়ে যুগের পর যুগ মানুষের স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমিনী এবং তার উত্তরসূরি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি—এই দুই ব্যক্তিত্ব সেই বিরল নেতৃত্বের প্রতীক, যাদের প্রভাব শুধু একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখায় আবদ্ধ নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটেও গভীরভাবে প্রতিফলিত।
১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমিনীর মৃত্যুর পর তার জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহৎ জনসমাবেশ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই বিপুল জনসমাগম কেবল একজন নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং তার আদর্শ, সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র গঠনে অবদানের প্রতি জনগণের গভীর আস্থা ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ ছিল।
খোমিনীর মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার নেতৃত্বে ইরান একদিকে যেমন আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। খামেনির নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য হলো—রাষ্ট্রের আদর্শিক কাঠামো বজায় রাখা, পশ্চিমা প্রভাব মোকাবিলা করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, খামেনির দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা এবং তার কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো তাকে ইতিহাসে একটি প্রভাবশালী নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইরানের পারমাণবিক নীতি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং ইসলামী বিশ্বে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
অন্যদিকে, খোমিনীর জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ এবং বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—একজন নেতার প্রকৃত শক্তি তার জীবদ্দশায় নয়, বরং মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে তার প্রভাব কতটা গভীরভাবে রয়ে যায়, সেটিই তার প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ধারণ করে।
বর্তমান বিশ্বে যেখানে নেতৃত্ব প্রায়ই বিতর্কিত এবং স্বল্পস্থায়ী, সেখানে খোমিনি ও খামেনির মতো নেতারা একটি ভিন্ন ধারা উপস্থাপন করেন—যেখানে আদর্শ, বিশ্বাস এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবই নেতৃত্বের মূল ভিত্তি।
সর্বোপরি বলা যায়, ইতিহাসে কিছু নাম সময়ের সীমা অতিক্রম করে। আয়াতুল্লাহ খোমিনি এবং আয়াতুল্লাহ খামেনি সেই ধারারই অংশ—যাদের নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট