শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন
Title :
ঢাকা বিমানবন্দরের লাগেজ হয়রানির অবসান? থার্ড টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে জাপানি কনসোর্টিয়াম চীন–বাংলাদেশ রেল করিডোর প্রস্তাব: সম্ভাবনা, বাস্তবতা ও প্রভাব  ধামরাইয়ের ১২৬ বছরের ঐতিহ্য—বণিক বাড়ি, কাঁসা-পিতলের স্বর্ণযুগের জীবন্ত সাক্ষী আইন সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ইনুর রায়ে কী বার্তা? ফাঁসি হলো না কেন—আইন, রাজনীতি ও বিচারিক যুক্তির বিশ্লেষণ খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি: মূল টাকা পরিশোধেই মিলবে দায়মুক্তির সুযোগ বাংলা কিউআর লেনদেনে নতুন নীতিমালা: এমডিআর সর্বনিম্ন ১% নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নতুন সাময়িক কার্ড ইস্যু বন্ধের নির্দেশ আদালত ‘ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’—বিচারব্যবস্থা নিয়ে সাদ্দাম হোসেনের তীব্র সমালোচনা রহস্যময় ‘সাদা পতাকা’: নিরাপত্তা শঙ্কা ও অশান্তির ইঙ্গিত

ঢাকা বিমানবন্দরের লাগেজ হয়রানির অবসান? থার্ড টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে জাপানি কনসোর্টিয়াম

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিমানবন্দরের লাগেজ হয়রানির অবসান? থার্ড টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে জাপানি কনসোর্টিয়াম
নিজস্ব প্রতিবেদক,আদালত বার্তাঃ৩ জুলাই ২০২৬
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের অন্যতম ভোগান্তির নাম—লাগেজ পেতে বিলম্ব, ট্রলি সংকট ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। তবে এই চিত্র বদলাতে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে জাপানি কনসোর্টিয়াম, যা দেশের বিমানসেবায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে।
সূত্র জানায়, আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যেই জাপানের একটি শক্তিশালী কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান—নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, সুমিতোমো করপোরেশন, নিপ্পন কোয়েই এবং জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি। তারা আগামী ১৫ বছর ধরে থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।
যাত্রীসেবায় বড় পরিবর্তনের আশা
নতুন ব্যবস্থাপনায় ইমিগ্রেশন ও লাগেজ ডেলিভারি প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা যেখানে প্রায় ৮০ লাখ, সেখানে থার্ড টার্মিনাল চালু হলে তা বেড়ে প্রায় ২ কোটি যাত্রীতে পৌঁছাবে।
রাজস্ব বণ্টনে নতুন কাঠামো
চুক্তি অনুযায়ী, থার্ড টার্মিনাল থেকে অর্জিত মোট আয়ের ৭৩ শতাংশ পাবে জাপানি কনসোর্টিয়াম এবং ২৭ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ। যদিও যাত্রীসেবা পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাচ্ছে, তবে কার্গো হ্যান্ডলিং বা পণ্য পরিবহনের দায়িত্ব এককভাবে থাকছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অধীনে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই খাত থেকে অর্জিত আয় সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যুক্ত হবে।
কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ
এই প্রকল্পকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রায় এক হাজার কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। পাশাপাশি জাপানি কনসোর্টিয়ামের অধীনে আরও বিপুলসংখ্যক দেশীয় তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনের লক্ষ্য বিজয় দিবস
প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক থার্ড টার্মিনাল সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬, মহান বিজয় দিবসে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু যাত্রীসেবার মানই বাড়বে না, বরং দীর্ঘদিনের অনিয়ম, সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি কার্যকর সমাধানও তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তির শর্ত, বাস্তবায়ন এবং তদারকির ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews