সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন
Title :
১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি উদ্বিগ্ন নাগরিকদের যৌথ বিবৃতি শ্রেষ্ঠ শিক্ষককে ঘিরে সামাজিক বিতর্ক ব্যক্তিস্বাধীনতা, পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক মূল্যবোধের নতুন বাস্তবতা ফিটনেস সনদ ছাড়া যানবাহন চলাচল বন্ধে হাইকোর্টের রুল যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিচারপতি সোমা এস. সাঈদ—অভিবাসী সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বিকাশ-নগদ-রকেটের অতিরিক্ত চার্জ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় পৃথক আইন প্রণয়নের প্রশ্নেও নির্দেশনা চাওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২৭ সংস্কৃতিকর্মী ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল রবীন্দ্র সরোবরে নাচ-গানে শুরু ‘বর্ষা মঙ্গল উৎসব ১৪৩৩’: নতুন প্রজন্মে সংস্কৃতির বার্তা বাথরুমে সরকারি ওষুধের স্তূপ স্বাস্থ্যব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাগেরহাটে ছুরিকাঘাতে আইনজীবী নিহত দেশ গঠনে সাংবাদিকদের এগিয়ে আসতে হবে : ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

মোঘল দরবার থেকে আজকের বৈশাখ খাজনা আদায়ের দিনটি কীভাবে প্রাণের উৎসবে রূপ নিল

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৭৮ বার পড়া হয়েছে

মোঘল দরবার থেকে আজকের বৈশাখ খাজনা আদায়ের দিনটি কীভাবে প্রাণের উৎসবে রূপ নিল

 নিউজ ডেস্ক আদালত বার্তা : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
আজ যে আমরা বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখকে এত আনন্দ আর রঙে উদযাপন করি, তার শিকড় কিন্তু বেশ বাস্তব—এমনকি একটু হিসাবি ও বলা যায়! ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সম্রাট আকবর-এর সময়েই এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা।

মোঘল আমলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে ট্যাক্স বা খাজনা আদায় ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ইসলামি হিজরি ক্যালেন্ডার চন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় তা কৃষি মৌসুমের সঙ্গে মিলতো না। ফলে কৃষকের ফসল উঠার সময় আর খাজনা দেওয়ার সময়ের মধ্যে গরমিল তৈরি হতো। এই সমস্যার সমাধান করতে সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন, যা সূর্যভিত্তিক এবং কৃষি মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নতুন বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে কৃষকরা খাজনা পরিশোধ করতেন। জমিদাররা সেই দিন হালখাতা খুলতেন—পুরনো হিসাব চুকিয়ে নতুন হিসাব শুরু হতো। আর এই হিসাবের দিনটিই ধীরে ধীরে উৎসবে পরিণত হয়।

হালখাতা: হিসাবের খাতা থেকে সম্পর্কের খাতা

হালখাতা শব্দটা শুনলেই অনেকের মনে পড়ে লাল কাপড়ে মোড়া নতুন খাতা, দোকানের সামনে রঙিন ব্যানার, আর মিষ্টির প্যাকেট। মজার ব্যাপার হলো—এই ঐতিহ্যটা কিন্তু এখনো বেঁচে আছে, বিশেষ করে পুরনো ঢাকায়।

পুরান ঢাকা-এর ব্যবসায়ীরা আজও পহেলা বৈশাখে নতুন খাতা খুলে থাকেন। আগের বছরের বকেয়া হিসাব মিটিয়ে গ্রাহকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়—এসেন, হালখাতা করেন। গ্রাহকদের আপ্যায়ন করা হয় মিষ্টি, শরবত, কখনো কখনো বিরিয়ানি দিয়েও! অনেক দোকানে আবার ছোটখাটো সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা—একেবারে উৎসবের আমেজ।

এটা শুধু হিসাবের বিষয় না—এটা এক ধরনের সামাজিক সম্পর্কের বন্ধন। দোকানদার আর ক্রেতার মধ্যে বিশ্বাস, পরিচিতি আর আন্তরিকতা নতুন করে শুরু করার দিন।

গ্রাম বাংলায় এখনো টিকে আছে ঐতিহ্য

শুধু শহরেই না—গ্রাম বাংলাতেও হালখাতার রেওয়াজ এখনো জীবন্ত। গ্রামের মুদি দোকান, ধানের আড়ত, এমনকি ছোটখাটো ব্যবসায়ীরাও এই দিনটিকে গুরুত্ব দিয়ে পালন করেন। গ্রামে হালখাতা মানেই—

পুরনো দেনা-পাওনার হিসাব মিটানো

নতুন করে ব্যবসা শুরু করার মানসিক প্রস্তুতি

আর সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে আবার ঝালিয়ে নেওয়া

অনেক জায়গায় ছোটখাটো মেলাও বসে, থাকে নাগরদোলা, খেলনা, মিষ্টির দোকান—যা পুরো গ্রামকে একদিনের জন্য হলেও উৎসবমুখর করে তোলে।

হিসাবের বাইরে যে আবেগ

একটা সময় ছিল, যখন পহেলা বৈশাখ মানেই ছিল খাজনা আর হিসাব। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই হিসাবের দিন হয়ে উঠেছে উৎসবের দিন। আজ আর কেউ খাজনা দিতে বৈশাখ পালন করে না, কিন্তু নতুন করে শুরু করার যে ধারণা—সেটা এখনো রয়ে গেছে।

হালখাতা যেন শুধু টাকার হিসাব না, জীবনেরও এক নতুন অধ্যায় খুলে দেয়। মোঘল দরবারে শুরু হওয়া একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আজ হয়ে উঠেছে বাঙালির সবচেয়ে প্রাণের উৎসবগুলোর একটি। সম্রাট আকবর হয়তো ভাবতেও পারেননি—তার নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত একদিন মানুষের হাসি, আনন্দ আর সংস্কৃতির অংশ হয়ে যাবে।

পহেলা বৈশাখ তাই শুধু ক্যালেন্ডারের নতুন দিন না—এটা ইতিহাস, ঐতিহ্য আর মানুষের আন্তরিক সম্পর্কের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট