
অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুবার্ষিকীতে আইনজীবীদের শ্রদ্ধা
নিউজ ডেস্ক | আদালত বার্তা ০৯ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ডাক-টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে দেশের আইনজীবী সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করা হয়। আইনজীবীরা তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন সাহসী ও দৃঢ়চেতা নারী নেতৃত্বের প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতার হত্যার প্রতিবাদে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
১৯৪৩ সালের ১ মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলায় জন্মগ্রহণ করেন সাহারা খাতুন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু করেন এবং ছাত্রলীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে বিজয়ী হন। ১৯৬৯ সালে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন আরও বিস্তৃত করেন এবং পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের সময় তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত ছিলেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পেশাগত জীবনে আইনজীবী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও তিনি ক্রমেই জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আইনজীবীদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, যা পরবর্তীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনে পরিণত হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কঠিন সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে থেকে দীর্ঘ সংগ্রামী পথ পাড়ি দেন এবং দলীয় আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি।
২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গ্রেফতার হলে সাহারা খাতুন তাঁর পাশে থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যান এবং দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা প্রদর্শন করেন।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি এবং দেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ইতিহাস গড়েন। পরবর্তীতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে
জনগণের আস্থা অর্জন করেন।
তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, সাহসিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য পরিচিত ছিলেন। আজকের দিনে তাঁকে স্মরণ করে আইনজীবী সমাজসহ দেশবাসী তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।