বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
Title :
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার আবেদন: আইনি অধিকার ও আন্তর্জাতিক সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ ১ নভেম্বর খুলছে সেন্ট মার্টিন: দৈনিক সাড়ে তিন হাজার পর্যটকের সীমা ও পরিবেশবিধির কড়া নজরদারি। কণ্ঠশীলনের ‘শ্রুতি সমাহার’: এক মঞ্চে চার প্রযোজনার নান্দনিক পরিবেশনা আইনজীবীর সিল জালিয়াতি করে ভুয়া দলিল: ফেঁসে যাচ্ছেন আসল আইনজীবীরা, ঢাকা বার থেকে টাউট আটক। আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করল বার কাউন্সিল: কার্যকর ২০৩০ সাল থেকে এনএসআই প্রধানের হঠাৎ দিল্লি সফর: প্রত্যর্পণ আইনি প্রক্রিয়ায়, আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ জাতীয় রূপান্তর ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ: নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও সামাজিক সংহতির প্রাসঙ্গিকতা কেরানীগঞ্জে শিক্ষিকা ডালিয়া হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন: রিমান্ড ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির আবেদনসহ ৩ আসামি আদালতে সোপর্দ সনদ সমর্পণ না করে অন্য পেশা ও বাণিজ্যে যুক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে হাইকোর্টে রিট ২০২৭ সালের রমজান, শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার আবেদন: আইনি অধিকার ও আন্তর্জাতিক সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

​আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার আবেদন: আইনি অধিকার ও আন্তর্জাতিক সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ♦

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ও আইন-আদালত বিভাগ,আদালত বার্তাঃ ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দলটিকে জাতীয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামোর দ্বারস্থ হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী স্টিভেন পাওলস কেসি (কিংস কাউন্সেল) জাতিসংঘের তিনজন বিশেষ ম্যান্ডেটধারী বিশেষজ্ঞের (Special Rapporteurs) কাছে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক আইনি যোগাযোগপত্র (Formal Communication) পেশ করেছেন।

​আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও নাগরিক অধিকারের সার্বজনীন সনদের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত এই আবেদনে বাংলাদেশে প্রধান রাজনৈতিক দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।

​আন্তর্জাতিক সনদের যে ধারাগুলোর লঙ্ঘনের অভিযোগ

​জাতিসংঘে দাখিলকৃত আবেদনে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক দলের ওপর পাইকারি নিষেধাজ্ঞা জারি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী। বিশেষ করে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি (ICCPR)-এর বেশ কয়েকটি মৌলিক ধারা লঙ্ঘনের আইনি যুক্তি এতে তুলে ধরা হয়:

  • ​অনুচ্ছেদ ১৯: মতপ্রকাশের মৌলিক স্বাধীনতা সংকুচিত করা।
  • ​অনুচ্ছেদ ২১: শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ ও জমায়েতের সার্বজনীন অধিকার খর্ব।
  • ​অনুচ্ছেদ ২২: সংগঠন ও রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা।
  • ​অনুচ্ছেদ ২৫: কোনো বৈষম্য ছাড়াই নাগরিক হিসেবে দেশের শাসনকাজ ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সার্বজনীন ভোটাধিকার হরণ।

​আবেদনে বলা হয়, একটি ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে প্রশাসনিক আদেশে নিষিদ্ধ রাখা এবং লাখ লাখ ভোটারের পছন্দের সুযোগ বাতিল করা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক সরকারের সাংবিধানিক ভিত্তির সঙ্গে অসঙ্গত।

​দেশীয় আদালতে আইনি প্রতিকার পাওয়ার সীমাবদ্ধতা

​আবেদনে বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থার বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে অভিযোগ করা হয়, দেশীয় আদালতে এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সংবিধান অনুযায়ী রিট বা আইনি চ্যালেঞ্জ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দলটির নেতাকর্মীদের ওপর চলমান মামলা, সার্বিক নিরাপত্তা শঙ্কা এবং আইনজীবীদের ওপর মানসিক ও পেশাগত চাপের কারণে সঠিক আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জাতিসংঘে দাবি করেন স্টিভেন পাওলস কেসি।

​নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর প্রশ্ন

​যোগাযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার তা প্রশাসনিকভাবে আরও স্থায়ী রূপ দেয়।

​আবেদনে আরও যুক্তি দেওয়া হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ায় তা সার্বজনীন ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। ফলে ওই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত ব্যবস্থার বৈধতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ।

​জাতিসংঘের যেসব বিশেষ বিশেষজ্ঞের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে

​আইনি আবেদনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের আওতাধীন তিনজন গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন বিশেষজ্ঞের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করা হয়েছে:

  1. ​সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সুরক্ষা সংক্রান্ত বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার (Special Rapporteur on Human Rights and Counter-Terrorism): যাতে রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর ঢালাও নিরাপত্তা আইন বা নিষেধাজ্ঞা অপপ্রয়োগ না হয়।
  2. ​শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার (Special Rapporteur on Freedom of Peaceful Assembly and of Association): রাজনৈতিক সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহারের সুপারিশের জন্য।
  3. ​গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রসারবিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ (Independent Expert on the Promotion of a Democratic and Equitable International Order): একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতে প্রকাশ্য বিবৃতি ও পর্যবেক্ষণ দেওয়ার জন্য।

​আবেদনে জাতিসংঘের এই বিশেষজ্ঞদের অবিলম্বে বাংলাদেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে একটি প্রকাশ্য প্রতিবেদন ও বিবৃতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে সব পক্ষের অংশগ্রহণে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট